ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে : শফিকুল আলম সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কেউ কেউ বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে : তারেক রহমান বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প আত্মসাৎ: ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিল জার্মানি

জননেতারা নেই জনতার পাশে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেককে জননেতা বলা হয়। তারা জনগণের জন্য প্রায়ই ক্রন্দন করেন। রাজপথে বক্তৃতা দিয়ে জনগণের কথা তুলে ধরেন। গোলটেবিল বৈঠক-প্রেস কনফারেন্সে তারা জনগণের জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করেন। কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন। জনগণের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, এরকম কথা বলা বাকচাতুর রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশে বেশ পরিচিত। কেউ কেউ জনপ্রিয়ও বটে। যদিও নির্বাচনে তারা নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হতে পারেন না।

অনেকটা পরগাছার মতো অন্যের কাঁধে চড়ে তাদেরকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নানা কারণেই গুরুত্ব দেয় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল। এই দলগুলোর ‘নুইসেন্স ভ্যালু’ অত্যন্ত তীব্র। এই দলগুলো যদি না থাকে তাহলে তীব্র সমালোচনায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এমনভাবে আক্রমণ করবে যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোন কূলকিনারা খুঁজে পাবে না।

আর জনসমর্থন না থাকলেও এই সমস্ত দলের নেতারা নিজেদের জননেতা বলেই পরিচয় দেন। বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের সময়েও এই ধরণের রাজনৈতিক নেতারা যেন কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন, তাদের কোন খোঁজ নেই। জনতার পাশে তারা নেই। এক ছটাক চাল বা গম বা যেকোন ধরণের ত্রাণ নিয়ে তারা জনতার পাশে যাননি। দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াননি। অথচ এরাই আবার বড় বড় গলায় সমালোচনা করছেন সরকারের। আসুন আমরা জনসম্পর্কহীন জননেতাদের একটু চিনে নেই:-

ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে ড. কামাল হোসেনের টিকিটিও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না এবং তার কোন বক্তব্য-বিবৃতিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তিনি বা তার দল কোথাও এক ছটাক চাল বিতরণ করেছে, এমন খবর এখন পর্যন্ত আমরা খুঁজে পাইনি।

আ স ম আব্দুর রব

আ স ম আব্দুর রব সবসময় সরব থাকেন, জনগণের কথা বলেন। যদিও তার নিজের দলে জনগণ নেই। করোনা মোকাবেলার সময় আরেক দফায় প্রমাণিত হলো যে তিনি কয়েকদফা শুধু চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কাউকে কিছু সাহায্য দিয়েছেন-এমন নজির আমরা দেখিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না আরেকজন জননেতা, যার কোন দল নেই, জনগণ নেই, জনসমর্থন নেই। কিন্তু অন্যের মাইক্রোফোন পেলে তিনি কথার ফুলঝুরি ছোঁটাতে পারেন চমৎকার। তার জনসমর্থন থাকুক বা না থাকুক, তিনি সবসময় আলোচনায় থাকেন। কারণ তিনি একজন বাকপটু বটে। এই করোনার সময়েও তিনি কিছু সমালোচনা করেছেন সরকারের। কিন্তু তারপরে তিনি কোয়ারেন্টাইনে। এখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এই সময়ের মাঝে তার যেমন কোন বক্তব্য আমরা পাইনি, তেমনি তিনি জনগণের জন্য ত্রাণ নিয়ে কোথাও গেছেন, বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন- এরকম কোন ঘটনা বা নজির আমরা দেখিনি।

রাশেদ খান মেনন

এতক্ষণ তো গেল বিরোধী দলগুলোর হিসেব। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট নিয়ে রাজনীতি করছে। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন। তিনি গত মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিত্ব চলে যাবার পর একটু বেহুঁশ ছিলেন। তিনি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলে আবার থুক্কু বলে প্রত্যাহারও করেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে তার সুবিধাবাদী চেহারা দিবালোকের মতো উন্মোচিত করে দিয়েছেন তিনি নিজেই। রাশেদ খান মেনন একজন জননেতা এবং তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে তিনি ঢাকায় এখন নির্বাচন করছেন। তবে নির্বাচন করলে কী হবে? জনগণকে নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই। করোনাকালে তিনি কোনোপ্রকার ত্রাণ সাহায্য করায় নেই বললেই চলে।

হাসানুল হক ইনু

১৪ দলের আরেক নেতা হাসানুল হক ইনু। তিনিও কথাবার্তায় কম যান না। গত মেয়াদে তিনি তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রায় জাতির বিবেকে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ এই করোনা সঙ্কটের সময় তার অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে। তিনি না কথা বলছেন, না তাকে দেখা যাচ্ছে ত্রাণ বিতরণে।

এ রকম জননেতারা যারা জনগণের পাশে নেই- তারা শুধুমাত্র নির্বাচন করবেন, মন্ত্রী-এমপি হবেন। জনগণের নাম ভাঙিয়ে জনগণকে নিয়ে কথা বলবেন, কিন্তু দূর্যোগে জনগণের পাশে থাকবেন না। এরকম নেতারা কি দেশের জন্য আসলেই কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ডের দাম ১ বিলিয়ন ডলার, ট্রাম্পের হয়ে ডেনমার্ককে পুতিনের খোঁচা

জননেতারা নেই জনতার পাশে

আপডেট সময় ০৮:০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেককে জননেতা বলা হয়। তারা জনগণের জন্য প্রায়ই ক্রন্দন করেন। রাজপথে বক্তৃতা দিয়ে জনগণের কথা তুলে ধরেন। গোলটেবিল বৈঠক-প্রেস কনফারেন্সে তারা জনগণের জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করেন। কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন। জনগণের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, এরকম কথা বলা বাকচাতুর রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশে বেশ পরিচিত। কেউ কেউ জনপ্রিয়ও বটে। যদিও নির্বাচনে তারা নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হতে পারেন না।

অনেকটা পরগাছার মতো অন্যের কাঁধে চড়ে তাদেরকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নানা কারণেই গুরুত্ব দেয় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল। এই দলগুলোর ‘নুইসেন্স ভ্যালু’ অত্যন্ত তীব্র। এই দলগুলো যদি না থাকে তাহলে তীব্র সমালোচনায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এমনভাবে আক্রমণ করবে যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কোন কূলকিনারা খুঁজে পাবে না।

আর জনসমর্থন না থাকলেও এই সমস্ত দলের নেতারা নিজেদের জননেতা বলেই পরিচয় দেন। বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের সময়েও এই ধরণের রাজনৈতিক নেতারা যেন কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন, তাদের কোন খোঁজ নেই। জনতার পাশে তারা নেই। এক ছটাক চাল বা গম বা যেকোন ধরণের ত্রাণ নিয়ে তারা জনতার পাশে যাননি। দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াননি। অথচ এরাই আবার বড় বড় গলায় সমালোচনা করছেন সরকারের। আসুন আমরা জনসম্পর্কহীন জননেতাদের একটু চিনে নেই:-

ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে ড. কামাল হোসেনের টিকিটিও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না এবং তার কোন বক্তব্য-বিবৃতিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তিনি বা তার দল কোথাও এক ছটাক চাল বিতরণ করেছে, এমন খবর এখন পর্যন্ত আমরা খুঁজে পাইনি।

আ স ম আব্দুর রব

আ স ম আব্দুর রব সবসময় সরব থাকেন, জনগণের কথা বলেন। যদিও তার নিজের দলে জনগণ নেই। করোনা মোকাবেলার সময় আরেক দফায় প্রমাণিত হলো যে তিনি কয়েকদফা শুধু চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কাউকে কিছু সাহায্য দিয়েছেন-এমন নজির আমরা দেখিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না আরেকজন জননেতা, যার কোন দল নেই, জনগণ নেই, জনসমর্থন নেই। কিন্তু অন্যের মাইক্রোফোন পেলে তিনি কথার ফুলঝুরি ছোঁটাতে পারেন চমৎকার। তার জনসমর্থন থাকুক বা না থাকুক, তিনি সবসময় আলোচনায় থাকেন। কারণ তিনি একজন বাকপটু বটে। এই করোনার সময়েও তিনি কিছু সমালোচনা করেছেন সরকারের। কিন্তু তারপরে তিনি কোয়ারেন্টাইনে। এখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এই সময়ের মাঝে তার যেমন কোন বক্তব্য আমরা পাইনি, তেমনি তিনি জনগণের জন্য ত্রাণ নিয়ে কোথাও গেছেন, বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন- এরকম কোন ঘটনা বা নজির আমরা দেখিনি।

রাশেদ খান মেনন

এতক্ষণ তো গেল বিরোধী দলগুলোর হিসেব। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট নিয়ে রাজনীতি করছে। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন। তিনি গত মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিত্ব চলে যাবার পর একটু বেহুঁশ ছিলেন। তিনি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা বলে আবার থুক্কু বলে প্রত্যাহারও করেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে তার সুবিধাবাদী চেহারা দিবালোকের মতো উন্মোচিত করে দিয়েছেন তিনি নিজেই। রাশেদ খান মেনন একজন জননেতা এবং তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে তিনি ঢাকায় এখন নির্বাচন করছেন। তবে নির্বাচন করলে কী হবে? জনগণকে নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই। করোনাকালে তিনি কোনোপ্রকার ত্রাণ সাহায্য করায় নেই বললেই চলে।

হাসানুল হক ইনু

১৪ দলের আরেক নেতা হাসানুল হক ইনু। তিনিও কথাবার্তায় কম যান না। গত মেয়াদে তিনি তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রায় জাতির বিবেকে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ এই করোনা সঙ্কটের সময় তার অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে। তিনি না কথা বলছেন, না তাকে দেখা যাচ্ছে ত্রাণ বিতরণে।

এ রকম জননেতারা যারা জনগণের পাশে নেই- তারা শুধুমাত্র নির্বাচন করবেন, মন্ত্রী-এমপি হবেন। জনগণের নাম ভাঙিয়ে জনগণকে নিয়ে কথা বলবেন, কিন্তু দূর্যোগে জনগণের পাশে থাকবেন না। এরকম নেতারা কি দেশের জন্য আসলেই কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে?