ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল টিকা সংকটে হামের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

সাভারে সকল পোশাক কারখানা বন্ধের সুপারিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ‘লাগামহীনভাবে’ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ঢাকার সাভারের সব পোশাক কারখানা বন্ধ করতে প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছেন উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ কথা জানিয়েছেন।

ডা. সায়েমুল এ উপজেলার ‘করোনা প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্য সচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি বলেন, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান বরাবর এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করেছি। তাতে সাভারে উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি এ উপজেলার সব প্রবেশও বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, সাভার একটি জনবহুল ও শিল্প অধ্যুষিত এলাকার। এ উপজেলা প্রায় ৫০ লাখ লোকের বাস, যাদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। ‘হাজার হাজার শ্রমিক’ কাজের সময় পাশাপাশি অবস্থান করায় তারা সংক্রমিত হচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে সমাজের অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে-এই প্রেক্ষিতে তিনি চিঠি পাঠান।

পোশাক কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় সাভারে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব খুব কম ছিল জানিয়ে তিনি আরো বলেন, “কারখানা খোলার পর থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে। তাই সাভার উপজেলায় করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সাভার অঞ্চলের পোশাক কারখানাসহ উপজেলার প্রবেশ পথগুলো বন্ধ রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। নয়তো এ উপজেলায় কোভিড-১৯ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ডা. সায়েমুল বলেন, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সাভারে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল নয় জন। কারখানা খোলার পর গত সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৫ জন। আর সাভারে উলাইল আল মুসলিম গামের্ন্টস পোশাক কারখানার ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এইচ আর টেক্সটাইল কারখানার ১ জন আক্রান্ত হয়েছে, ঢাকা সোয়েটার কারখানার একজন আক্রান্ত হয়েছে, ডেনিটেক্স কারখানার একজন আক্রন্ত হয়েছে, এজিআই পোশাক কারখানার একজন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

করোনার রোগীর বিষয়ে ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো যেখানে ৯ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এর মধ্যে ৭ জনই সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লার বিভিন্ন তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিক। এছাড়া সাভারে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো এবং বাকি ৯ জন নিজ উদ্যোগে করোনার টেষ্ট করালে পজেটিভ রেজাল্ট পাওয়া যায়। অন্যদিকে সাভার উপজেলায় এখন পর্যন্ত একজন করোনায় সংক্রমন হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাভারে সকল পোশাক কারখানা বন্ধের সুপারিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার

আপডেট সময় ০৫:০১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ‘লাগামহীনভাবে’ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ঢাকার সাভারের সব পোশাক কারখানা বন্ধ করতে প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছেন উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ কথা জানিয়েছেন।

ডা. সায়েমুল এ উপজেলার ‘করোনা প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্য সচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি বলেন, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান বরাবর এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করেছি। তাতে সাভারে উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি এ উপজেলার সব প্রবেশও বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, সাভার একটি জনবহুল ও শিল্প অধ্যুষিত এলাকার। এ উপজেলা প্রায় ৫০ লাখ লোকের বাস, যাদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। ‘হাজার হাজার শ্রমিক’ কাজের সময় পাশাপাশি অবস্থান করায় তারা সংক্রমিত হচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে সমাজের অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে-এই প্রেক্ষিতে তিনি চিঠি পাঠান।

পোশাক কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় সাভারে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব খুব কম ছিল জানিয়ে তিনি আরো বলেন, “কারখানা খোলার পর থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে। তাই সাভার উপজেলায় করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সাভার অঞ্চলের পোশাক কারখানাসহ উপজেলার প্রবেশ পথগুলো বন্ধ রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। নয়তো এ উপজেলায় কোভিড-১৯ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ডা. সায়েমুল বলেন, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সাভারে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল নয় জন। কারখানা খোলার পর গত সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৫ জন। আর সাভারে উলাইল আল মুসলিম গামের্ন্টস পোশাক কারখানার ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এইচ আর টেক্সটাইল কারখানার ১ জন আক্রান্ত হয়েছে, ঢাকা সোয়েটার কারখানার একজন আক্রান্ত হয়েছে, ডেনিটেক্স কারখানার একজন আক্রন্ত হয়েছে, এজিআই পোশাক কারখানার একজন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

করোনার রোগীর বিষয়ে ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো যেখানে ৯ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এর মধ্যে ৭ জনই সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লার বিভিন্ন তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিক। এছাড়া সাভারে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো এবং বাকি ৯ জন নিজ উদ্যোগে করোনার টেষ্ট করালে পজেটিভ রেজাল্ট পাওয়া যায়। অন্যদিকে সাভার উপজেলায় এখন পর্যন্ত একজন করোনায় সংক্রমন হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।