ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

থমকে আছে দেশ, থেমে নেই ধর্ষণ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পরিস্থতির মধ্যেই দেশে বেড়েছে ধর্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধ করছেন আসামিরা। আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন অপরাধীদের তালিকা না থাকা এবং তদারকির অভাবে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তারা বলেন, করোনা মহামারিতে ধর্ষণের মত ঘটনা বেড়েছে এটা অত্যান্ত উদ্বেগজনক। করোনা আক্রান্ত রোগী তল্লাশীর নামে এদেশে ধর্ষণ হয় মেনে নেয়া যায় না। করোনায় ত্রাণ দেবার কথা বলেও এদেশে ধর্ষণ হয়। একদিন করোনারও প্রতিষেধক আবিস্কার হবে। ধর্ষণ রয়ে যাবে অপ্রতিরোধ্য।

তাদের দাবি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ৯৮ দশমিক ৬৪ ভাগ আসামি খালাস পেয়ে যায়। সাজা হয় মাত্র ১ দশমিক ৩৬ ভাগ আসামির।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনায় প্রশাসনে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলার বিচারের ধীরগতির জন্য পুলিশের গাফিলতি ও আদালতের কাঠামো অনেকাংশে দায়ী।

বিচারক সংকট, সাক্ষী গরহাজিরসহ নানা কারণে এ-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। আর ধর্ষণের মামলায় সাজার নজির খুব কম তাই অপরাধীরা এসব অপরাধ করতে একটুও দ্বিধাবোধ করেন না। সুতরাং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারলেই এসব অপরাধ কমানো সম্ভব হবে বলে মত দেন তারা।

আইন ও সালিশকেন্দ্র আসকের ধর্ষণের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে- চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৫৭ টি। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার ১২৩ জনই শিশু। আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন। এসব ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১৮৩ টি। বাকি ৭৫টি কোন মামলাই হয়নি।

এদিকে ২০১৯ সালে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ জন নারী। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩২ জন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম খান বলেন, একই অপরাধের পুনরাবৃত্তির পেছনে আইনি এবং সামাজিক কাঠামো অনেকাংশে দায়ী। যেহেতু শাস্তি হয়নি সেহেতু এটা তারা ঘটাচ্ছে বার বার। সামাজিক ও মনঃস্তাতিক কারণ উৎঘাটন ছাড়া অপরাধ নিমূল সম্ভব নয়।

ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি পারভেজ নামের এ মানুষটি। বয়স বিবেচনায় জামিনে মুক্ত পায় সে। এবার দুই শিশু সহোদরকে ধর্ষণের পর হত্যার পাশাপাশি খুন করেছে মা ও ভাইকেও। গ্রেফতারের পর নিজেই স্বীকার করে অপরাধ। তার সঙ্গে জড়িত আরো ৫ জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন বলেন, ধর্ষণ মামলায় কম সাজা ও আইনি দীর্ঘসূত্রিতায় বার বার ঘটছে এমন অপরাধ।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, যে সব আসামিকে ধরা হয়নি বা জামিনে বের হয়েছে বিশেষ করে ধর্ষণ মামলার, সেই সব আসামির একটা তালিকা থাকে অন্যান্য দেশে। সেইসব অপরাধীর মনিটরিং করা হয়, তারা আবার হুমকি ধামকি দিচ্ছে কি না কিন্তু আমাদের দেশে তা করা হয় না।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই যৌন অপরাধে অভিযুক্তদের তালিকা করে তদারক করে স্থানীয় প্রশাসন। এ ব্যবস্থায় যেমন অপরাধ ঠেকানোর পাশাপাশি অপরাধীদের কাউন্সিলিং করার সুযোগ থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

থমকে আছে দেশ, থেমে নেই ধর্ষণ!

আপডেট সময় ০৭:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা পরিস্থতির মধ্যেই দেশে বেড়েছে ধর্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধ করছেন আসামিরা। আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন অপরাধীদের তালিকা না থাকা এবং তদারকির অভাবে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তারা বলেন, করোনা মহামারিতে ধর্ষণের মত ঘটনা বেড়েছে এটা অত্যান্ত উদ্বেগজনক। করোনা আক্রান্ত রোগী তল্লাশীর নামে এদেশে ধর্ষণ হয় মেনে নেয়া যায় না। করোনায় ত্রাণ দেবার কথা বলেও এদেশে ধর্ষণ হয়। একদিন করোনারও প্রতিষেধক আবিস্কার হবে। ধর্ষণ রয়ে যাবে অপ্রতিরোধ্য।

তাদের দাবি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ৯৮ দশমিক ৬৪ ভাগ আসামি খালাস পেয়ে যায়। সাজা হয় মাত্র ১ দশমিক ৩৬ ভাগ আসামির।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনায় প্রশাসনে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলার বিচারের ধীরগতির জন্য পুলিশের গাফিলতি ও আদালতের কাঠামো অনেকাংশে দায়ী।

বিচারক সংকট, সাক্ষী গরহাজিরসহ নানা কারণে এ-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। আর ধর্ষণের মামলায় সাজার নজির খুব কম তাই অপরাধীরা এসব অপরাধ করতে একটুও দ্বিধাবোধ করেন না। সুতরাং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারলেই এসব অপরাধ কমানো সম্ভব হবে বলে মত দেন তারা।

আইন ও সালিশকেন্দ্র আসকের ধর্ষণের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে- চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৫৭ টি। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার ১২৩ জনই শিশু। আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন। এসব ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১৮৩ টি। বাকি ৭৫টি কোন মামলাই হয়নি।

এদিকে ২০১৯ সালে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ জন নারী। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩২ জন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম খান বলেন, একই অপরাধের পুনরাবৃত্তির পেছনে আইনি এবং সামাজিক কাঠামো অনেকাংশে দায়ী। যেহেতু শাস্তি হয়নি সেহেতু এটা তারা ঘটাচ্ছে বার বার। সামাজিক ও মনঃস্তাতিক কারণ উৎঘাটন ছাড়া অপরাধ নিমূল সম্ভব নয়।

ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি পারভেজ নামের এ মানুষটি। বয়স বিবেচনায় জামিনে মুক্ত পায় সে। এবার দুই শিশু সহোদরকে ধর্ষণের পর হত্যার পাশাপাশি খুন করেছে মা ও ভাইকেও। গ্রেফতারের পর নিজেই স্বীকার করে অপরাধ। তার সঙ্গে জড়িত আরো ৫ জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন বলেন, ধর্ষণ মামলায় কম সাজা ও আইনি দীর্ঘসূত্রিতায় বার বার ঘটছে এমন অপরাধ।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, যে সব আসামিকে ধরা হয়নি বা জামিনে বের হয়েছে বিশেষ করে ধর্ষণ মামলার, সেই সব আসামির একটা তালিকা থাকে অন্যান্য দেশে। সেইসব অপরাধীর মনিটরিং করা হয়, তারা আবার হুমকি ধামকি দিচ্ছে কি না কিন্তু আমাদের দেশে তা করা হয় না।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই যৌন অপরাধে অভিযুক্তদের তালিকা করে তদারক করে স্থানীয় প্রশাসন। এ ব্যবস্থায় যেমন অপরাধ ঠেকানোর পাশাপাশি অপরাধীদের কাউন্সিলিং করার সুযোগ থাকে।