ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোস্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী রক্তের শর্করা কমাবে ডায়াবেটিসের নতুন ইনজেকশন লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

২১ আগস্ট আ. লীগেরই সৃষ্টি : রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগেরই সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর চালানো গ্রেনেড হামলাকে আওয়ামী লীগেরই নীল-নকশা বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে তো বলা হয়েছিল মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে। তারা কেন পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করলেন? এটা আওয়ামী লীগের লোকেরাই ঘটিয়েছেন। তাঁরা চেয়েছিল, শুধু শেখ হাসিনা বেঁচে থাক। শেখ হাসিনার প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাক। সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা চাচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দমন করতে। এমনকি পিলখালা হত্যাকাণ্ডও যদি আমরা বলি যে আওয়ামী লীগ জড়িত। এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের কাছে কী আছে? কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই ওই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই সিরিজ গ্রেনেড হামলা চালানো হলেও তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানববলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

মেয়র হানিফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ দিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজকের অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এই সমাজে আজকে কারো কি কোনো দায়িত্ব নেই? দেশকে আজ কবরস্থান বানাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা। গোরস্থানের শান্তি দিয়ে তিনি ভরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কারো চিন্তা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুগত হয়ে কাজ করছেন। সংবিধান তো তাঁকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করছেন বলে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশের সব সামরিক শাসনকে তো আপনারা সমর্থন করেছেন, আমরা করিনি। খন্দকার মোশতাককে তো আপনারাই সঙ্গে সঙ্গে রেখেছেন। যে এরশাদ গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই এরশাদকে তো শেখ হাসিনাই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য শুধু আওয়ামী লীগেরই। তাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং সব দলের রাজনীতি বন্ধ করা।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায় নিয়ে যারা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে কথা বলছে সরকার সমর্থিত লোকেরা তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপির এই নেতার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

২১ আগস্ট আ. লীগেরই সৃষ্টি : রিজভী

আপডেট সময় ১০:৫৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগেরই সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর চালানো গ্রেনেড হামলাকে আওয়ামী লীগেরই নীল-নকশা বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে তো বলা হয়েছিল মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে। তারা কেন পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করলেন? এটা আওয়ামী লীগের লোকেরাই ঘটিয়েছেন। তাঁরা চেয়েছিল, শুধু শেখ হাসিনা বেঁচে থাক। শেখ হাসিনার প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাক। সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা চাচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দমন করতে। এমনকি পিলখালা হত্যাকাণ্ডও যদি আমরা বলি যে আওয়ামী লীগ জড়িত। এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের কাছে কী আছে? কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই ওই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই সিরিজ গ্রেনেড হামলা চালানো হলেও তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানববলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

মেয়র হানিফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ দিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজকের অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এই সমাজে আজকে কারো কি কোনো দায়িত্ব নেই? দেশকে আজ কবরস্থান বানাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা। গোরস্থানের শান্তি দিয়ে তিনি ভরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কারো চিন্তা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুগত হয়ে কাজ করছেন। সংবিধান তো তাঁকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করছেন বলে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশের সব সামরিক শাসনকে তো আপনারা সমর্থন করেছেন, আমরা করিনি। খন্দকার মোশতাককে তো আপনারাই সঙ্গে সঙ্গে রেখেছেন। যে এরশাদ গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই এরশাদকে তো শেখ হাসিনাই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য শুধু আওয়ামী লীগেরই। তাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং সব দলের রাজনীতি বন্ধ করা।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায় নিয়ে যারা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে কথা বলছে সরকার সমর্থিত লোকেরা তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপির এই নেতার।