ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

২১ আগস্ট আ. লীগেরই সৃষ্টি : রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগেরই সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর চালানো গ্রেনেড হামলাকে আওয়ামী লীগেরই নীল-নকশা বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে তো বলা হয়েছিল মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে। তারা কেন পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করলেন? এটা আওয়ামী লীগের লোকেরাই ঘটিয়েছেন। তাঁরা চেয়েছিল, শুধু শেখ হাসিনা বেঁচে থাক। শেখ হাসিনার প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাক। সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা চাচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দমন করতে। এমনকি পিলখালা হত্যাকাণ্ডও যদি আমরা বলি যে আওয়ামী লীগ জড়িত। এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের কাছে কী আছে? কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই ওই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই সিরিজ গ্রেনেড হামলা চালানো হলেও তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানববলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

মেয়র হানিফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ দিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজকের অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এই সমাজে আজকে কারো কি কোনো দায়িত্ব নেই? দেশকে আজ কবরস্থান বানাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা। গোরস্থানের শান্তি দিয়ে তিনি ভরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কারো চিন্তা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুগত হয়ে কাজ করছেন। সংবিধান তো তাঁকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করছেন বলে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশের সব সামরিক শাসনকে তো আপনারা সমর্থন করেছেন, আমরা করিনি। খন্দকার মোশতাককে তো আপনারাই সঙ্গে সঙ্গে রেখেছেন। যে এরশাদ গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই এরশাদকে তো শেখ হাসিনাই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য শুধু আওয়ামী লীগেরই। তাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং সব দলের রাজনীতি বন্ধ করা।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায় নিয়ে যারা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে কথা বলছে সরকার সমর্থিত লোকেরা তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপির এই নেতার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২১ আগস্ট আ. লীগেরই সৃষ্টি : রিজভী

আপডেট সময় ১০:৫৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগেরই সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর চালানো গ্রেনেড হামলাকে আওয়ামী লীগেরই নীল-নকশা বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে তো বলা হয়েছিল মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে। তারা কেন পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করলেন? এটা আওয়ামী লীগের লোকেরাই ঘটিয়েছেন। তাঁরা চেয়েছিল, শুধু শেখ হাসিনা বেঁচে থাক। শেখ হাসিনার প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাক। সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা চাচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দমন করতে। এমনকি পিলখালা হত্যাকাণ্ডও যদি আমরা বলি যে আওয়ামী লীগ জড়িত। এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের কাছে কী আছে? কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই ওই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই সিরিজ গ্রেনেড হামলা চালানো হলেও তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানববলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

মেয়র হানিফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ দিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজকের অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এই সমাজে আজকে কারো কি কোনো দায়িত্ব নেই? দেশকে আজ কবরস্থান বানাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা। গোরস্থানের শান্তি দিয়ে তিনি ভরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কারো চিন্তা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুগত হয়ে কাজ করছেন। সংবিধান তো তাঁকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করছেন বলে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশের সব সামরিক শাসনকে তো আপনারা সমর্থন করেছেন, আমরা করিনি। খন্দকার মোশতাককে তো আপনারাই সঙ্গে সঙ্গে রেখেছেন। যে এরশাদ গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই এরশাদকে তো শেখ হাসিনাই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য শুধু আওয়ামী লীগেরই। তাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং সব দলের রাজনীতি বন্ধ করা।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায় নিয়ে যারা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে কথা বলছে সরকার সমর্থিত লোকেরা তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপির এই নেতার।