ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী পেপাল, তবে প্রক্রিয়া দীর্ঘ: লুৎফে সিদ্দিকী ঋণখেলাপি, বিদেশি নাগরিকদের লাল কার্ড দেখানো হবে: আসিফ মাহমুদ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হিন্দুদের ‘জামাই আদরে’ রাখবে: কৃষ্ণ নন্দী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে: তারেক রহমান ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত’:আলী রিয়াজ পুরো বাংলাদেশের কাছে মির্জা আব্বাস বাহিনীর হামলার বিচার দিলাম: নাসীরুদ্দীন চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং ইলিয়াস মোল্লাহর জমি–গাড়ি–মার্কেট–ফ্ল্যাট জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ড নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট

রাজধানীতে নেই রমজানের আমেজ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রতিবার রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গেই নগরজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ইফতার মাহফিল, ফুটপাথ-হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাহারি ইফতারের পসরা, তারাবি নামাজে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ভিড়, অফিস থেকে বাসায় ফেরার তাড়া, আর পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করা। এবার নেই তার কিছুই। ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে এবারের রোজা।

বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির জন্য এবার রমজানে নেই কোনো উৎসবের আমেজ। ইফতার মাহফিলের সেই চিরাচরিত দৃশ্যও উধাও। ফুটপাথ হোটেল রেস্তোরাঁয় নেই কোনো ইফতারির আয়োজন। তারাবি নামাজে মসজিদে নেই মুসল্লিদের ভিড়। অফিস থেকে বাসায় ফেরার তাড়াও ছিল না কারও মধ্যে।

ঘরেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এবারের রোজার প্রথম দু’টি দিন অতিবাহিত হয়েছে নগরবাসীর। এবার ঈদেও এ ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে রমজান ও ইফতার আয়োজনের চিত্র। এবার রমজান ঘিরে যেমন নেই কোনো বাড়তি আয়োজন, তেমনি নেই ইফতার বাজারের কোনো আমেজ। এক কথায় বলতে গেলে, রাজধানীতে রমজানের আমেজ নেই।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর পুরান ঢাকা, গুলিস্তান, বাবুবাজার, পুরানা পল্টন, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোডসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের দিকে বাজারগুলোতে একটু লোকসমাগম থাকলেও দুপুরের পর একেবারেই শূন্য। কিছু এলাকায় ভ্যান গাড়িতে করে গলিতে গলিতে বিক্রি হয়েছে শশা, লেবু, টমেটো ও হালকা কিছু ইফতার সামগ্রী। বন্ধ ছিল অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁ।

বৈচিত্র্য আর স্বাদে রাজধানীর চকবাজারের ইফতার সামগ্রী দেশসেরা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেগুলো কিনতে যেতো পুরান ঢাকার ওই এলাকায়। এবার পরিস্থিতি চরম প্রতিকূলে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাধ্যবাধকতায় এবার সেই ঐতিহাসিক চকবাজারে ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেনি কেউ।

রাজধানীতে বসেনি ঐতিহাসিক ইফতার-বাজার। ডিএইচ বাদলপ্রতিবছর ইফতার বাজার কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারের চিত্র বিকেল হলেই বদলে যেতো। হোটেল- রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাতে ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে নিয়ে বসতো। বাহারি ইফতারের বাজার বসতো রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী চকবাজার, বেইলি রোডসহ বিভিন্ন স্থানে। রাজপথ থেকে পাড়া-মহল্লার ফুটপাতেও বসে যেতো ইফতারের অস্থায়ী দোকান। উচ্চবিত্তরা ছুটে যেতেন রাজধানীর তারকাসমৃদ্ধ হোটেলগুলোতে, মধ্যবিত্তরা যেতেন চকবাজার কিংবা বেইলি রোডে। আর নিম্নবিত্তরা ভিড় করতেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

এবার এ রকম কোনো কিছুই ঘটেনি। করোনা ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকায় এবার ইফতারের বাজার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বাজার না থাকলেও মুসলমানদের ঘরে ঘরে ইফতার ঠিকই তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাড়তি ঝামেলা হলেও এর মধ্যে একটি ইতিবাচক দিকও দেখছেন পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইফতারে ঘরে বানানো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার জন্য প্রতিবছর তারা পরামর্শ দিলেও তেমন কার্যকর হতো না। কিন্তু এবার সেটি হচ্ছে, যা স্বাস্থের জন্য ইতিবাচক বলে তাদের অভিমত।

ফাঁকা ঢাকায় নেই ইফতারের কোনো আয়োজন। ছবি: ডিএইচ বাদলমসজিদগুলোতেও ইফতারের আয়োজন হতো। নামাজে মুসল্লির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে সেটিও বন্ধ। বিভিন্ন মসজিদে দেখা গেছে, যারা নামাজে যান, তারা বাসা থেকেই ইফতার নিয়ে গেছেন। রমজান এলে আতর, তসবিহ, টুপি ফেরি করে বিক্রি করার যে রীতি ছিল, এবার তারও দেখা মেলেনি। বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণের দোকানগুলোও এখন বন্ধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়ও সারা বিশ্বের মুসলমানরা রমজানের সময় একসঙ্গে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। কিন্তু এবার রমজানে তার ব্যতিক্রম ঘটছে। এমন পরিস্থিতি অতীতে কখনো হয়েছে কিনা তা কারো জানা নেই।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের মসুল্লিদের কাছে রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকেন। প্রতিবছর রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের মধ্যে এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে এমন চিত্র নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী পেপাল, তবে প্রক্রিয়া দীর্ঘ: লুৎফে সিদ্দিকী

রাজধানীতে নেই রমজানের আমেজ

আপডেট সময় ০৫:১৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রতিবার রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গেই নগরজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ইফতার মাহফিল, ফুটপাথ-হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাহারি ইফতারের পসরা, তারাবি নামাজে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ভিড়, অফিস থেকে বাসায় ফেরার তাড়া, আর পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করা। এবার নেই তার কিছুই। ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে এবারের রোজা।

বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির জন্য এবার রমজানে নেই কোনো উৎসবের আমেজ। ইফতার মাহফিলের সেই চিরাচরিত দৃশ্যও উধাও। ফুটপাথ হোটেল রেস্তোরাঁয় নেই কোনো ইফতারির আয়োজন। তারাবি নামাজে মসজিদে নেই মুসল্লিদের ভিড়। অফিস থেকে বাসায় ফেরার তাড়াও ছিল না কারও মধ্যে।

ঘরেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এবারের রোজার প্রথম দু’টি দিন অতিবাহিত হয়েছে নগরবাসীর। এবার ঈদেও এ ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে রমজান ও ইফতার আয়োজনের চিত্র। এবার রমজান ঘিরে যেমন নেই কোনো বাড়তি আয়োজন, তেমনি নেই ইফতার বাজারের কোনো আমেজ। এক কথায় বলতে গেলে, রাজধানীতে রমজানের আমেজ নেই।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর পুরান ঢাকা, গুলিস্তান, বাবুবাজার, পুরানা পল্টন, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোডসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের দিকে বাজারগুলোতে একটু লোকসমাগম থাকলেও দুপুরের পর একেবারেই শূন্য। কিছু এলাকায় ভ্যান গাড়িতে করে গলিতে গলিতে বিক্রি হয়েছে শশা, লেবু, টমেটো ও হালকা কিছু ইফতার সামগ্রী। বন্ধ ছিল অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁ।

বৈচিত্র্য আর স্বাদে রাজধানীর চকবাজারের ইফতার সামগ্রী দেশসেরা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেগুলো কিনতে যেতো পুরান ঢাকার ওই এলাকায়। এবার পরিস্থিতি চরম প্রতিকূলে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাধ্যবাধকতায় এবার সেই ঐতিহাসিক চকবাজারে ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেনি কেউ।

রাজধানীতে বসেনি ঐতিহাসিক ইফতার-বাজার। ডিএইচ বাদলপ্রতিবছর ইফতার বাজার কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারের চিত্র বিকেল হলেই বদলে যেতো। হোটেল- রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাতে ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে নিয়ে বসতো। বাহারি ইফতারের বাজার বসতো রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী চকবাজার, বেইলি রোডসহ বিভিন্ন স্থানে। রাজপথ থেকে পাড়া-মহল্লার ফুটপাতেও বসে যেতো ইফতারের অস্থায়ী দোকান। উচ্চবিত্তরা ছুটে যেতেন রাজধানীর তারকাসমৃদ্ধ হোটেলগুলোতে, মধ্যবিত্তরা যেতেন চকবাজার কিংবা বেইলি রোডে। আর নিম্নবিত্তরা ভিড় করতেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

এবার এ রকম কোনো কিছুই ঘটেনি। করোনা ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকায় এবার ইফতারের বাজার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বাজার না থাকলেও মুসলমানদের ঘরে ঘরে ইফতার ঠিকই তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাড়তি ঝামেলা হলেও এর মধ্যে একটি ইতিবাচক দিকও দেখছেন পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইফতারে ঘরে বানানো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার জন্য প্রতিবছর তারা পরামর্শ দিলেও তেমন কার্যকর হতো না। কিন্তু এবার সেটি হচ্ছে, যা স্বাস্থের জন্য ইতিবাচক বলে তাদের অভিমত।

ফাঁকা ঢাকায় নেই ইফতারের কোনো আয়োজন। ছবি: ডিএইচ বাদলমসজিদগুলোতেও ইফতারের আয়োজন হতো। নামাজে মুসল্লির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে সেটিও বন্ধ। বিভিন্ন মসজিদে দেখা গেছে, যারা নামাজে যান, তারা বাসা থেকেই ইফতার নিয়ে গেছেন। রমজান এলে আতর, তসবিহ, টুপি ফেরি করে বিক্রি করার যে রীতি ছিল, এবার তারও দেখা মেলেনি। বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণের দোকানগুলোও এখন বন্ধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়ও সারা বিশ্বের মুসলমানরা রমজানের সময় একসঙ্গে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। কিন্তু এবার রমজানে তার ব্যতিক্রম ঘটছে। এমন পরিস্থিতি অতীতে কখনো হয়েছে কিনা তা কারো জানা নেই।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের মসুল্লিদের কাছে রমজান মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকেন। প্রতিবছর রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের মধ্যে এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে এমন চিত্র নেই।