আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
‘ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেয়নি, মার্চ মাসের বেতনও দেয়নি। এই দুই মাসের কাজ তো ঠিক ঠাক মতো করতে হলো। কিন্তু মালিক বেতন দেয় না কেন? ঘরে চাল নাই, বাজার করবো টাকা নাই। আমরা কি খাই না? নাকি না খেয়েই বেঁচে থাকি?’
‘সব কারখানার বেতন হয় কিন্তু আমাদের কারখানায় বেতন দেয় না। আমরা কি মানুষ না? নাকি আমরা রোবট? মালিকরা কি মানুষ না? তারা কি আমাদের এই কষ্ট বুঝে না?’
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জিরাবো-বিশমাইল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আশুলিয়া কাঠগড়ায় এলাকায় অবস্থিত পেন্টাফোর্থ কারখানার শ্রমিকরা। তখন আন্দোলনরত শ্রমিক সুমি ও ফারজানা ক্ষুব্ধ হয়ে এসব কথা বলেন।
জানা যায়, এ কারখানার প্রায় ৩০০ শ্রমিক গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পাবেন। তাই সামাজিক দূরুত্বের কথা না ভেবে ঝুঁকি নিয়ে সকাল থেকে এ আন্দোলন শুরু করে তারা
আন্দোলনরত শ্রমিক সুমি ও ফারজানা বলেন, তারা যে টাকা পাবে, তাদের যেন সে টাকা পরিশোধ করা হয়। তারা যেন সে টাকা দিয়ে কিছুদিনের জন্য হলেও খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কারখানার মালিক তাদের বেতন দেবে দেবে করে আর দেইনি। তাই তারা আজ সকাল থেকে কারখানার সামনে সড়ক বন্ধ করে বসে আছে।
ক্ষুব্ধ হয়ে সুমি কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদেই ফেলেন। পরে কান্না থামানোর চেষ্টা করে জড়িতকন্ঠে তিনি বলেন, ‘ঘরে চাল নাই, কোনো টাকা নেই, খেতে পারি না, ছেলেদের খাওয়াতে পারিনা, রুম ভাড়া দিতে পারি না, আবার মানুষের কাছে চাইতেও পারি না। এমন অবস্থায় আমরা কোথায় যাবো ভাই। আপনারাই বলেন। আমরা তো না খেয়েই মরে যাবো।’
সুমির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ফারজানা। তারা দুজনই পেন্টফোর্থ কারখানা অপারেটর। ফারজানা বলেন, ‘বাড়িওয়ালা বাসা থেকে বের হতে দেয় না। কিন্ত বাড়িতে যে খাবার নেই, সেই খাবার তো আর বাড়িওয়ালা দেয় না উল্টো আরও বাড়ি ভাড়া চায়। করোনার ভয় আমাদের মধ্যেও আছে। করোনার ভয়ে ঘরের ভেতর বসে থাকলে তো না খেয়েই আমি ও আমার পরিবার মরে যাবো।’
অন্যদিকে, একই সড়কে এক কিলোমিটার দূরে আন্দোলন করতে দেখা গেছে পি এস নিট ওয়ার লিমিটেডের শ্রমিকদের। তারা বলেন, করোনার জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার পর কারখানার মালিক কখনো শ্রমিকদের খোঁজ নেয়নি। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী বেতন পরিশোধও করেনি। বেতন ছাড়া আমরা সড়ক থেকে যাবো না।’
নির্দিষ্ট সময়ে বেতনের ব্যাপারে শ্রমিক নেতা বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সরকার করখানা বন্ধ ঘোষণা করার পরেও সাভার ও আশুলিয়ার কিছু কিছু কারখানার মালিক কারখানা বন্ধ করেনি। মালিকরা কোনো না কোনোভাবে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়ে সিপমেন্ট করেছেন। সেক্ষেত্রে বেতন না দেওয়া কোনো যুক্তিকতা দেখছিনা মালিকদের।
তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে শ্রমিকদের ঘরে রাখতে হলে তাদের বেতন দেওয়াটা জরুরি। এখন পর্যন্ত যে কারখানায় শ্রমিকরা বেতন পেয়েছে সে কারখানার একটা শ্রমিকও রাস্তায় নামেনি। তাই মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি শ্রমিদের যেন বেতন পরিশোধ করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















