ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় আবারও বড় হামলা ইসরায়েলের, নিহত ২৩ মাটির নিচের নতুন মিসাইল ঘাঁটির উন্মোচন ইরানের পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানালেন আসিফ নজরুল বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে জখম ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজার: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেবে জামায়াত: মিন্টু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠ পর্যায় পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক আমরা বসন্তের কোকিল নই, জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছাড়িনি: শফিকুর রহমান

নিউইয়র্কে গণকবর দেয়া হচ্ছে করোনায় মৃতদের

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

করোনাভাইরাসাএ বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র। একদিনে সর্বোচ্চ ১৯৩৪ জনের মৃত্যুর রেকর্ডও এখন যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্কের অবস্থা বেশি শোচনীয়। শহরটিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। আক্রান্ত হচ্ছেন হাজারে হাজারে। প্রতিদিন হু হু করে বাড়তে থাকা মৃত মানুষদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। শহরটিতে যারা করোনায় মারা যাচ্ছেন তাদের গণকবর দেওয়া হচ্ছে এখন। ড্রোন দিয়ে তোলা এমন ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে।

প্রকাশিত ছবির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত ঢাকা ‌‘হ্যাজমাট’ স্যুট পরা কর্মীদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে বিরাট এক গণকবরে। তারা মই দিয়ে সেই কবরে নামছে, একটার পর একটা কফিন সেখানে রাখছে।

এই কবরস্থানটি নিউইয়র্কের হার্ট আইল্যান্ডে অবস্থিত। সাধারণত যেসব মৃত ব্যক্তির কোন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ পাওয়া যায় না বা যাদের শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের খরচ দেয়ার সাধ্য নেই, তাদেরই এখানে কবর দেয়া হয়।

নিউইয়র্কের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, শুধু নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩৭ জন। আক্রান্তদের সাত হাজারের বেশি রোগী মারা গেছে।

অন্যদিকে স্পেনে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩। ইতালিতে তা ১ লাখ ৪৩ হাজার। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি। প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ।

নিউইয়র্কের হার্ট আইল্যান্ড গত দেড়শ বছর ধরেই গণকবরের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ড্রোনে তোলা ছবিতে যেসব কফিন দেখা যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া মানুষের, এমন সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ার পর এই জায়গায় গণকবর খোঁড়া হচ্ছে। আগে যেখানে সপ্তাহে একদিন হয়তো পরিচয়বিহীন কোনো মরেদহ সৎকার করা হতো। এখন সেখানে সপ্তাহে পাঁচদিন খনন কাজ চলছে।

সাধারণত রিকার্স আইল্যান্ডের কারবন্দিদের দিয়ে কবর খোঁড়ানো হয়। কিন্তু এখন যেহেতু অনেক বেশি কবর খুঁড়তে হচ্ছে, তাই এই কাজ দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্ল্যাসিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংকট না কাটা পর্যন্ত অনেককে হয়তো ‌‘অস্থায়ী কবরে‌’ সমাহিত করতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‍‌‘ঐতিহাসিকভাবে আমরা হার্ট আইল্যান্ডকেই এই কাজে ব্যবহার করেছি।’

নিউইয়র্কে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৯৯ জন করোনাভাইরাসে মারা গেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো সেখানে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হলো। তবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কুমো আশাবাদী যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

কারণ দ্বিতীয় দিনের মতো হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গভর্নর কুমো বলেছেন, মানুষজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নিউইয়র্কে করোনা মহামারির ভয়াবহতাকে নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডা. ফউসি মার্কিন টেলিভিশন এনবিসিতে সাক্ষাৎকারে বলেন, কোভিড-নাইনটিনে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজারের মতো দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা। গত মার্চে অবশ্য এক থেকে দুই লাখ মানুষ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানায় হোয়াইট হাউস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউইয়র্কে গণকবর দেয়া হচ্ছে করোনায় মৃতদের

আপডেট সময় ১০:২২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

করোনাভাইরাসাএ বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র। একদিনে সর্বোচ্চ ১৯৩৪ জনের মৃত্যুর রেকর্ডও এখন যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্কের অবস্থা বেশি শোচনীয়। শহরটিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। আক্রান্ত হচ্ছেন হাজারে হাজারে। প্রতিদিন হু হু করে বাড়তে থাকা মৃত মানুষদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। শহরটিতে যারা করোনায় মারা যাচ্ছেন তাদের গণকবর দেওয়া হচ্ছে এখন। ড্রোন দিয়ে তোলা এমন ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে।

প্রকাশিত ছবির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত ঢাকা ‌‘হ্যাজমাট’ স্যুট পরা কর্মীদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে বিরাট এক গণকবরে। তারা মই দিয়ে সেই কবরে নামছে, একটার পর একটা কফিন সেখানে রাখছে।

এই কবরস্থানটি নিউইয়র্কের হার্ট আইল্যান্ডে অবস্থিত। সাধারণত যেসব মৃত ব্যক্তির কোন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ পাওয়া যায় না বা যাদের শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের খরচ দেয়ার সাধ্য নেই, তাদেরই এখানে কবর দেয়া হয়।

নিউইয়র্কের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, শুধু নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩৭ জন। আক্রান্তদের সাত হাজারের বেশি রোগী মারা গেছে।

অন্যদিকে স্পেনে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩। ইতালিতে তা ১ লাখ ৪৩ হাজার। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজারের বেশি। প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ।

নিউইয়র্কের হার্ট আইল্যান্ড গত দেড়শ বছর ধরেই গণকবরের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ড্রোনে তোলা ছবিতে যেসব কফিন দেখা যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া মানুষের, এমন সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ার পর এই জায়গায় গণকবর খোঁড়া হচ্ছে। আগে যেখানে সপ্তাহে একদিন হয়তো পরিচয়বিহীন কোনো মরেদহ সৎকার করা হতো। এখন সেখানে সপ্তাহে পাঁচদিন খনন কাজ চলছে।

সাধারণত রিকার্স আইল্যান্ডের কারবন্দিদের দিয়ে কবর খোঁড়ানো হয়। কিন্তু এখন যেহেতু অনেক বেশি কবর খুঁড়তে হচ্ছে, তাই এই কাজ দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্ল্যাসিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংকট না কাটা পর্যন্ত অনেককে হয়তো ‌‘অস্থায়ী কবরে‌’ সমাহিত করতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‍‌‘ঐতিহাসিকভাবে আমরা হার্ট আইল্যান্ডকেই এই কাজে ব্যবহার করেছি।’

নিউইয়র্কে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৯৯ জন করোনাভাইরাসে মারা গেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো সেখানে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হলো। তবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কুমো আশাবাদী যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

কারণ দ্বিতীয় দিনের মতো হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গভর্নর কুমো বলেছেন, মানুষজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নিউইয়র্কে করোনা মহামারির ভয়াবহতাকে নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডা. ফউসি মার্কিন টেলিভিশন এনবিসিতে সাক্ষাৎকারে বলেন, কোভিড-নাইনটিনে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজারের মতো দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা। গত মার্চে অবশ্য এক থেকে দুই লাখ মানুষ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানায় হোয়াইট হাউস।