ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

উলিপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় বিধবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদ্রাসার সহকারী সুপারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বিধবাকে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বিধবাকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

রোববার উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিধবার পুত্রবধূ বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে চিলমারী রাজারভিটা গার্লস আলিম মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাহফুজুর রহমান (৫০) একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রশিদা বেওয়ার (৬০) কাছ থেকে তিন বছর আগে ৬৫ হাজার টাকা ধার নেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময় তারিখ দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন।

রোববার ওই সহকারী সুপারের কাছে বিধবা রশিদা বেওয়া ও আম্বিয়া খাতুন (৫০) পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মাহফুজুর রহমান ও তার বাড়ির লোকজন ওই বিধবা এবং আম্বিয়া খাতুনকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর বিধবাকে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মুখের ভেতর গামছা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করেন।

ওই দিন বিকালে বিধবার স্বজনরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক ভেঙে নির্যাতিত বিধবাসহ আম্বিয়াকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নির্যাতনকারী সহকারী সুপারকে গ্রেফতার করে।

রশিদা বেওয়ার পুত্রবধূ খুকি বেগম বাদী হয়ে মাহফুজুর রহমানসহ পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ মাহফুজুর রহমানের বড় বোন মর্জিনা বেগমকে (৫৫) গ্রেফতার করে।

এলাকাবাসী মোকছেদ আলী (৬০), গোলেনুর বেওয়া (৫০), মজিবর রহমান (৫২), সানোয়ার হোসেন (৪৬) ও এরশাদুলসহ (৩৫) অনেকে জানান, মাহফুজুর রহমান গ্রামের ১০-১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার নিয়ে পরে আর তা পরিশোধ করেন না।

তারা বলেন, আমরা নিজেরাও তার কাছে ধার দেয়া টাকা পাই। পাওনা টাকা চাইলেই দেই দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করেন কিন্তু টাকা ফেরত দেন না।

উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, রোববার পুলিশ অসুস্থ দুই নারীকে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।

উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিধবাকে বেঁধে নির্যাতন করায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

উলিপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় বিধবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট সময় ০১:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদ্রাসার সহকারী সুপারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বিধবাকে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বিধবাকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

রোববার উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিধবার পুত্রবধূ বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে চিলমারী রাজারভিটা গার্লস আলিম মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাহফুজুর রহমান (৫০) একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রশিদা বেওয়ার (৬০) কাছ থেকে তিন বছর আগে ৬৫ হাজার টাকা ধার নেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময় তারিখ দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন।

রোববার ওই সহকারী সুপারের কাছে বিধবা রশিদা বেওয়া ও আম্বিয়া খাতুন (৫০) পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মাহফুজুর রহমান ও তার বাড়ির লোকজন ওই বিধবা এবং আম্বিয়া খাতুনকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর বিধবাকে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মুখের ভেতর গামছা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করেন।

ওই দিন বিকালে বিধবার স্বজনরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক ভেঙে নির্যাতিত বিধবাসহ আম্বিয়াকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নির্যাতনকারী সহকারী সুপারকে গ্রেফতার করে।

রশিদা বেওয়ার পুত্রবধূ খুকি বেগম বাদী হয়ে মাহফুজুর রহমানসহ পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ মাহফুজুর রহমানের বড় বোন মর্জিনা বেগমকে (৫৫) গ্রেফতার করে।

এলাকাবাসী মোকছেদ আলী (৬০), গোলেনুর বেওয়া (৫০), মজিবর রহমান (৫২), সানোয়ার হোসেন (৪৬) ও এরশাদুলসহ (৩৫) অনেকে জানান, মাহফুজুর রহমান গ্রামের ১০-১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার নিয়ে পরে আর তা পরিশোধ করেন না।

তারা বলেন, আমরা নিজেরাও তার কাছে ধার দেয়া টাকা পাই। পাওনা টাকা চাইলেই দেই দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করেন কিন্তু টাকা ফেরত দেন না।

উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, রোববার পুলিশ অসুস্থ দুই নারীকে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।

উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিধবাকে বেঁধে নির্যাতন করায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।