ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

উলিপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় বিধবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদ্রাসার সহকারী সুপারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বিধবাকে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বিধবাকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

রোববার উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিধবার পুত্রবধূ বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে চিলমারী রাজারভিটা গার্লস আলিম মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাহফুজুর রহমান (৫০) একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রশিদা বেওয়ার (৬০) কাছ থেকে তিন বছর আগে ৬৫ হাজার টাকা ধার নেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময় তারিখ দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন।

রোববার ওই সহকারী সুপারের কাছে বিধবা রশিদা বেওয়া ও আম্বিয়া খাতুন (৫০) পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মাহফুজুর রহমান ও তার বাড়ির লোকজন ওই বিধবা এবং আম্বিয়া খাতুনকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর বিধবাকে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মুখের ভেতর গামছা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করেন।

ওই দিন বিকালে বিধবার স্বজনরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক ভেঙে নির্যাতিত বিধবাসহ আম্বিয়াকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নির্যাতনকারী সহকারী সুপারকে গ্রেফতার করে।

রশিদা বেওয়ার পুত্রবধূ খুকি বেগম বাদী হয়ে মাহফুজুর রহমানসহ পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ মাহফুজুর রহমানের বড় বোন মর্জিনা বেগমকে (৫৫) গ্রেফতার করে।

এলাকাবাসী মোকছেদ আলী (৬০), গোলেনুর বেওয়া (৫০), মজিবর রহমান (৫২), সানোয়ার হোসেন (৪৬) ও এরশাদুলসহ (৩৫) অনেকে জানান, মাহফুজুর রহমান গ্রামের ১০-১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার নিয়ে পরে আর তা পরিশোধ করেন না।

তারা বলেন, আমরা নিজেরাও তার কাছে ধার দেয়া টাকা পাই। পাওনা টাকা চাইলেই দেই দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করেন কিন্তু টাকা ফেরত দেন না।

উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, রোববার পুলিশ অসুস্থ দুই নারীকে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।

উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিধবাকে বেঁধে নির্যাতন করায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমা উন্মুক্ত করল আইসিএও

উলিপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় বিধবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট সময় ০১:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদ্রাসার সহকারী সুপারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বিধবাকে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বিধবাকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

রোববার উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিধবার পুত্রবধূ বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা তবকপুর ইউনিয়নে খামার তবকপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে চিলমারী রাজারভিটা গার্লস আলিম মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাহফুজুর রহমান (৫০) একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রশিদা বেওয়ার (৬০) কাছ থেকে তিন বছর আগে ৬৫ হাজার টাকা ধার নেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময় তারিখ দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন।

রোববার ওই সহকারী সুপারের কাছে বিধবা রশিদা বেওয়া ও আম্বিয়া খাতুন (৫০) পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মাহফুজুর রহমান ও তার বাড়ির লোকজন ওই বিধবা এবং আম্বিয়া খাতুনকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর বিধবাকে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মুখের ভেতর গামছা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করেন।

ওই দিন বিকালে বিধবার স্বজনরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক ভেঙে নির্যাতিত বিধবাসহ আম্বিয়াকে উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নির্যাতনকারী সহকারী সুপারকে গ্রেফতার করে।

রশিদা বেওয়ার পুত্রবধূ খুকি বেগম বাদী হয়ে মাহফুজুর রহমানসহ পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ মাহফুজুর রহমানের বড় বোন মর্জিনা বেগমকে (৫৫) গ্রেফতার করে।

এলাকাবাসী মোকছেদ আলী (৬০), গোলেনুর বেওয়া (৫০), মজিবর রহমান (৫২), সানোয়ার হোসেন (৪৬) ও এরশাদুলসহ (৩৫) অনেকে জানান, মাহফুজুর রহমান গ্রামের ১০-১২ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার নিয়ে পরে আর তা পরিশোধ করেন না।

তারা বলেন, আমরা নিজেরাও তার কাছে ধার দেয়া টাকা পাই। পাওনা টাকা চাইলেই দেই দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করেন কিন্তু টাকা ফেরত দেন না।

উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, রোববার পুলিশ অসুস্থ দুই নারীকে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।

উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিধবাকে বেঁধে নির্যাতন করায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।