ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ব্যাংক হিসাব ২ কোটি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংকিং খাতে গ্রামের মানুষের ক্ষুদ্র হিসাবের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের রাখা আমানতের পরিমাণ। তবে ক্ষুদ্র আমানতের চেয়ে বড় অঙ্কের আমানতের প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি বেড়েছে।

ক্ষুদ্র আমানতের চেয়ে বড় আমানতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে ব্যাংকিং খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নানাবিধ কার্যক্রমের প্রভাবে গ্রামীণ এলাকায় একদিকে যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্ষুদ্র সঞ্চয় অপরদিকে এর প্রভাবে বাড়ছে নারীর ক্ষমতায়ন।

বিআইবিএমের উদ্যোগে আয়োজিত ৭ম বার্ষিক ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০১৮-এ বৃহস্পতিবার উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রবন্ধে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের ব্যাংকিং খাতে অংশগ্রহণ ও তাদের আমানতের পরিমাণ বাড়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস ও বিধান চন্দ্র সাহা।

এতে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত কৃষকসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ১ কোটি ৭৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের ৯ কোটি ২ লাখ হিসাবের মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতি হিসাবের পরিমাণ ৮ কোটি ১৩ লাখ যা মোট হিসাবধারীর মধ্যে ৯০ দশমিক ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ১০ বছরে ক্ষুদ্র আমানত হিসাবের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩৭ গুণ। অপরদিকে একই সময়ে বৃহৎ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ০৪ গুণ।

এতে বলা হয়, আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ এবং অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে আর্থিক সেবায় নারীর প্রবেশাধিকার বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্পদে নারীর অংশীদারিত্ব।

এদিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তিনটি জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আর্থিক সেবায় নারীর প্রবেশাধিকার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর ফলে কমেছে নারী-পুরুষের বৈষম্য।

ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। আর্থিক সেবায় ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে বিশেষত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এই নারীরা অধিক হারে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সহায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশনা পরামর্শ প্রদান ছাড়াও কতিপয় প্রণোদনা প্যাকেজ এবং পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এর ফলে অর্থনীতি এবং সমাজের মূলধারায় নারীর অন্তর্ভুক্তি, সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ব্যাংক হিসাব ২ কোটি

আপডেট সময় ০৯:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংকিং খাতে গ্রামের মানুষের ক্ষুদ্র হিসাবের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের রাখা আমানতের পরিমাণ। তবে ক্ষুদ্র আমানতের চেয়ে বড় অঙ্কের আমানতের প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি বেড়েছে।

ক্ষুদ্র আমানতের চেয়ে বড় আমানতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে ব্যাংকিং খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নানাবিধ কার্যক্রমের প্রভাবে গ্রামীণ এলাকায় একদিকে যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্ষুদ্র সঞ্চয় অপরদিকে এর প্রভাবে বাড়ছে নারীর ক্ষমতায়ন।

বিআইবিএমের উদ্যোগে আয়োজিত ৭ম বার্ষিক ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০১৮-এ বৃহস্পতিবার উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রবন্ধে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের ব্যাংকিং খাতে অংশগ্রহণ ও তাদের আমানতের পরিমাণ বাড়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস ও বিধান চন্দ্র সাহা।

এতে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত কৃষকসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ১ কোটি ৭৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের ৯ কোটি ২ লাখ হিসাবের মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতি হিসাবের পরিমাণ ৮ কোটি ১৩ লাখ যা মোট হিসাবধারীর মধ্যে ৯০ দশমিক ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ১০ বছরে ক্ষুদ্র আমানত হিসাবের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩৭ গুণ। অপরদিকে একই সময়ে বৃহৎ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ০৪ গুণ।

এতে বলা হয়, আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ এবং অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে আর্থিক সেবায় নারীর প্রবেশাধিকার বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্পদে নারীর অংশীদারিত্ব।

এদিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তিনটি জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আর্থিক সেবায় নারীর প্রবেশাধিকার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর ফলে কমেছে নারী-পুরুষের বৈষম্য।

ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। আর্থিক সেবায় ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে বিশেষত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এই নারীরা অধিক হারে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সহায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশনা পরামর্শ প্রদান ছাড়াও কতিপয় প্রণোদনা প্যাকেজ এবং পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এর ফলে অর্থনীতি এবং সমাজের মূলধারায় নারীর অন্তর্ভুক্তি, সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে।