ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

তরিকুলের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘তরিকুল ইসলাম আমাদের মাঝ থেকে চলে গিয়ে আমাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছেন। জাতির ক্রান্তিলগ্নে ও দলের কঠিন সময়ে তিনি চলে গেছেন। তার এই চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।’

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানাজার পর তরিকুলের কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তরিকুল ইসলামকে হারিয়ে দল একজন প্রজ্ঞাবান নেতাকে হারাল। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম দল ও দেশের জন্য কাজ করেছেন। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সংগ্রাম করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো তিনি আপস করেননি। ফলে দল হারালো উচ্চ মানের প্রজ্ঞাবান একজন নেতাকে। আর জাতি হারালো একজন জাতীয় নেতাকে।

ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম এক ইতিহাসের নাম। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার অবদান গোটা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি যখন চলে গেলেন জাতি তখন এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। তার এই চলে যাওয়ায় বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। এ শূন্যতা কেবল বিএনপির জন্য নয়, গোটা জাতির জন্য। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’

জানাজার আগে তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে তিনি তার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার। দলের নীতি, আদর্শ এবং সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কখনো যাননি। তারপরও আমার বাবার কথাবার্তা, আচার-আচরণে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন তার সন্তান হিসেবে আমরাও যেন দল, দেশ এবং মানুষের সেবা করতে পারি।’

জানাজা শেষে দলীয় পতাকায় মোড়ানো তরিকুলের কফিনে দলের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু কঠিন রোগে আক্রান্ত তরিকুল গতকাল রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সোমবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী শোকদিবস পালন করছে বিএনপি।

শোকদিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করছেন।

যশোর থেকে চারবার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল চারদলীয় জোট সরকারের তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় খালেদা জিয়ার সরকারে প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হন প্রয়াত বিএনপি নেতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

তরিকুলের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি: ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘তরিকুল ইসলাম আমাদের মাঝ থেকে চলে গিয়ে আমাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছেন। জাতির ক্রান্তিলগ্নে ও দলের কঠিন সময়ে তিনি চলে গেছেন। তার এই চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।’

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানাজার পর তরিকুলের কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তরিকুল ইসলামকে হারিয়ে দল একজন প্রজ্ঞাবান নেতাকে হারাল। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম দল ও দেশের জন্য কাজ করেছেন। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সংগ্রাম করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো তিনি আপস করেননি। ফলে দল হারালো উচ্চ মানের প্রজ্ঞাবান একজন নেতাকে। আর জাতি হারালো একজন জাতীয় নেতাকে।

ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম এক ইতিহাসের নাম। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার অবদান গোটা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি যখন চলে গেলেন জাতি তখন এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। তার এই চলে যাওয়ায় বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। এ শূন্যতা কেবল বিএনপির জন্য নয়, গোটা জাতির জন্য। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’

জানাজার আগে তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে তিনি তার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার। দলের নীতি, আদর্শ এবং সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কখনো যাননি। তারপরও আমার বাবার কথাবার্তা, আচার-আচরণে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন তার সন্তান হিসেবে আমরাও যেন দল, দেশ এবং মানুষের সেবা করতে পারি।’

জানাজা শেষে দলীয় পতাকায় মোড়ানো তরিকুলের কফিনে দলের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু কঠিন রোগে আক্রান্ত তরিকুল গতকাল রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সোমবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী শোকদিবস পালন করছে বিএনপি।

শোকদিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করছেন।

যশোর থেকে চারবার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল চারদলীয় জোট সরকারের তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় খালেদা জিয়ার সরকারে প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হন প্রয়াত বিএনপি নেতা।