ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম শেখ হাসিনা চাচ্ছে না বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক : মেজর হাফিজ ৫৪ বছরে ক্ষমতায় যারা ছিল, তাদের শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে:শফিকুর রহমান ৫ দশমিক ৯ মাত্রায় ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানকারী দলের ইতিহাস বিকৃতিতে জাতি স্তব্ধ: মাহদী আমিন সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি ‘আগামীতে এমনও শুনতে হবে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল’:সালাহউদ্দিন দায়িত্ব শেষে আমি নাগরিক সমাজের কাজে ফিরে যাবো : শিক্ষা উপদেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ

প্রিন্স সালমানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ফোনালাপ ফাঁস

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোন কলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানান যে, সাংবাদিক জামাল খাসোগি মারাত্মক ইসলামপন্থী ছিলেন। জামাল খাসোগি নিখোঁজের এক সপ্তাহের মাথায় হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ফোনালাপকালে এ কথা বলেন ক্রাউন প্রিন্স। তখনও পর্যন্ত খাসোগিকে হত্যার কথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ফোনালাপের বিষয়টি প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ফোনালাপের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
৯ই অক্টোবরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেয়ার্ড কুশনার এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপকালে প্রিন্স সালমান বলেন, খাসোগি একটি বহুজাতিক ইসলামপন্থী সংস্থা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য ছিলেন। এসময় প্রিন্স সালমান যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি মিত্রতা বজায় রাখায় আহ্বান জানান।
তবে খাসোগির পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুসলিম ব্রাদারহুডের যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, খাসোগি নিজে গত কয়েক বছর ধরে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জামাল খাসোগি কোনোদিক থেকে ক্ষতিকর ব্যক্তি ছিলেন না। অন্যভাবে তাকে দোষারোপ করা হাস্যকর হবে।
গত ২রা অক্টোবর তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন সৌদি সাংবাদিক এবং প্রিন্সের কঠোর সমালোচক জামাল খাসোগি। শুরু থেকেই তুরস্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, কনস্যুলেটের ভেতরে খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রিন্স সালমানের কাঁধে ভর করেই এ হত্যাকান্ডটি পরিচালিত হয়েছে। শুরুতে এ কথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেয়া হয়। তবে এ ঘটনায় সৌদি রাজ পরিবারের কোনো যোগসাজশ নেই বলে দাবি করা হয়। কিন্তু খাসোগিকে কি কারণে এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছিল সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি দেশটির পক্ষ থেকে। সেদিনের ঘটনা এক একবার এক একরকমভাবে উপস্থাপন করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তারা প্রথমে জানান, খাসোগি কাজ শেষে কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গেছেন। পরে তারা স্বীকার করেন যে, কনস্যুলেটের ভেতরে দুর্বৃত্তদের এক অপারেশনে খাসোগি নিহত হন। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরব। তাদেরকে সৌদি আরবে বিচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে তুরস্ক কর্তৃপক্ষও সন্দেহভাজনদের সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চায়। এমনকি তারাও জনসম্মুখে এ হত্যাকান্ডে সৌদি আরবের জড়িত থাকার অভিযোগ করা থেকে দূরে সরে গেছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান প্রিন্স সালমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ হত্যা তদন্তে একে অন্যকে সাহায্য চালিয়ে যাবার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
এদিকে সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলোসহ অন্যান্যদেশগুলো এ হত্যাকান্ড নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তারা দেশটির পক্ষ থেকে সদুত্তর দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও জানান যে, খাসোগিকে হত্যা প্রসঙ্গে সৌদির উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে দেশটির সাথে লাভজনক অস্ত্র বিক্রি চুক্তি ত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন। গত সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পাম্পেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিত্রতা অক্ষুন্ন রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম

প্রিন্স সালমানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ফোনালাপ ফাঁস

আপডেট সময় ০১:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোন কলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানান যে, সাংবাদিক জামাল খাসোগি মারাত্মক ইসলামপন্থী ছিলেন। জামাল খাসোগি নিখোঁজের এক সপ্তাহের মাথায় হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ফোনালাপকালে এ কথা বলেন ক্রাউন প্রিন্স। তখনও পর্যন্ত খাসোগিকে হত্যার কথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ফোনালাপের বিষয়টি প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ফোনালাপের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
৯ই অক্টোবরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেয়ার্ড কুশনার এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপকালে প্রিন্স সালমান বলেন, খাসোগি একটি বহুজাতিক ইসলামপন্থী সংস্থা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য ছিলেন। এসময় প্রিন্স সালমান যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি মিত্রতা বজায় রাখায় আহ্বান জানান।
তবে খাসোগির পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুসলিম ব্রাদারহুডের যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, খাসোগি নিজে গত কয়েক বছর ধরে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জামাল খাসোগি কোনোদিক থেকে ক্ষতিকর ব্যক্তি ছিলেন না। অন্যভাবে তাকে দোষারোপ করা হাস্যকর হবে।
গত ২রা অক্টোবর তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন সৌদি সাংবাদিক এবং প্রিন্সের কঠোর সমালোচক জামাল খাসোগি। শুরু থেকেই তুরস্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, কনস্যুলেটের ভেতরে খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রিন্স সালমানের কাঁধে ভর করেই এ হত্যাকান্ডটি পরিচালিত হয়েছে। শুরুতে এ কথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেয়া হয়। তবে এ ঘটনায় সৌদি রাজ পরিবারের কোনো যোগসাজশ নেই বলে দাবি করা হয়। কিন্তু খাসোগিকে কি কারণে এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছিল সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি দেশটির পক্ষ থেকে। সেদিনের ঘটনা এক একবার এক একরকমভাবে উপস্থাপন করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তারা প্রথমে জানান, খাসোগি কাজ শেষে কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে গেছেন। পরে তারা স্বীকার করেন যে, কনস্যুলেটের ভেতরে দুর্বৃত্তদের এক অপারেশনে খাসোগি নিহত হন। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরব। তাদেরকে সৌদি আরবে বিচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে তুরস্ক কর্তৃপক্ষও সন্দেহভাজনদের সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চায়। এমনকি তারাও জনসম্মুখে এ হত্যাকান্ডে সৌদি আরবের জড়িত থাকার অভিযোগ করা থেকে দূরে সরে গেছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান প্রিন্স সালমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ হত্যা তদন্তে একে অন্যকে সাহায্য চালিয়ে যাবার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
এদিকে সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলোসহ অন্যান্যদেশগুলো এ হত্যাকান্ড নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তারা দেশটির পক্ষ থেকে সদুত্তর দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও জানান যে, খাসোগিকে হত্যা প্রসঙ্গে সৌদির উত্তরে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে দেশটির সাথে লাভজনক অস্ত্র বিক্রি চুক্তি ত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন। গত সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পাম্পেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিত্রতা অক্ষুন্ন রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।