অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক সিদ্ধান্তে বিদেশি কোনো চাপ ছিল না। বিদেশের কোনো চাপে নত হওয়ার মতো মানুষ তিনি নন। তারপরও আমি বলব, বিদেশি কোনো চাপ ছিল না।
মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় জেলা কারাগারের পাশে জেলা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ৪ তলা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক কোনো সমস্যাই নেই। বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে চলছে। সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কোনো কিছুই করে নাই এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতায় সংবিধানসম্মত যা তাই আমরা করে যাব।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, কিছুদিন আগে ঐক্যজোট বলে একটা জোট হয়েছে ভালো কথা। গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক অধিকার সবার আছে, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। তাদের অতীত ইতিহাস সবার জানা, তারা দিনের বেলায় এক কথা বলে, রাতের বেলায় এক কথা বলে।
তিনি বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে পত্র দিয়েছেন তারা সংলাপ চান। প্রধানমন্ত্রী সেই সংলাপের প্রত্যাশার উত্তর দিয়েছেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংবিধান রেখে আলোচনার দরজা আমারা সব সময় উন্মুক্ত রাখি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে ২০২১ সালে মধ্য আয় ও ২০৪১ সালে উন্নত আয়ের দেশে উন্নীত করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বদ্ধপরিকর। যখন বঙ্গবন্ধু ছিলেন তখন ৫ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা হতো। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ারা এসে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন। উন্নয়নে তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এখন বাংলাদেশকে একটি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দিয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালে বাংলাদেশ কী হবে তার রূপরেখা তিনি দিয়ে গেছেন এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারে নাই। শুধু আপনাদের নয়, আপনাদের সন্তান ও নাতিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তা করেন।’
তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে ১১ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেয়। এই খাতকে অন্যান্য সরকার শুধু অবহেলাই করেনি তাদের মর্যাদা পর্যন্ত দিতে কার্পণ্য করেছে। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল, জিয়া এরশাদ সরকারের সময় এই অফিসগুলো ছিল পুরাতন ভাঙা জীর্ণ ভবন অথবা টিনের শেড দেয়া ঘর। দলিল লেখক ভাইদের জন্য ঠিকানা ছিল মাথায় টিন নিচে মাটি। খুব ভালো হলে অর্ধপাকা মেঝে। ভবন তো দূরের কথা নিজস্ব কোনো জমিও ছিল না রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের।
মন্ত্রী বলেন, অবহেলাকে পেছনে ফেলে বিগত ৫ বছর প্রতিষ্ঠানটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কারণ বিগত ৫ বছরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে যা অতীতে কোনো সরকারের আমলে হয়নি। দলিল লেখকদের বয়সসীমা ৬৫ রোহিতকরণ, বিদেশে ট্রেনিং, আইনসহ অনেক উন্নয়ন এই ডিপার্টমেন্টে হয়েছে।
আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। আর তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন সেখানে টাকা খরচ করতে তিনি কার্পণ্য করেন না। আর তাই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করুন। ‘
বাংলাদেশ নিবন্ধনের মহাপরিদর্শক ডা. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, উপসচিব (প্রশাসন) মাহবুবুর রহমান, উপসচিব (রেজিস্ট্রেশন) নাজমুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর শিরীন বেগম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভ‚ইয়া সাজনু, জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ শিকদার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















