ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদ ইসলামের রিট নারীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করবে বিএনপি: ইশরাক হোসেন খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে হিমালয়ের মত দাঁড়িয়েছিলেন: রিজভী নির্বাচিত হলে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ভোটাররা সঙ্গে থাকলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: পার্থ বেহেশতের লোভ দেখিয়ে একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে: মেজর হাফিজ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের গণভোটের আয়োজন দেশদ্রোহিতা: জি এম কাদের বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ হাদি হত্যার দায় স্বীকার, জবানবন্দি রুবেলের

সৌদি যুবরাজের হানিমুনের দিন কি শেষ?

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র সমর্থন পেয়েছেন সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সৌদি আরবকে।

এরপর থেকে সৌদি আরবে যুবরাজ কর্তৃক গৃহীত বহু কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু উল্টেপাল্টে যাচ্ছে। সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি আরবকে কঠোর শাস্তি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আর ট্রাম্পের ওই হুশিয়ারিতে চুপ করে বসে নেই সৌদি যুবরাজ। তিনি ট্রাম্পকে পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। তেলের বাজারে সৌদি আরবের অবদানের কথা স্মরণ করে দিয়েছেন এবং সৌদির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়টিও সামনে এনেছেন সৌদি যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাশিয়ার দিকে নতুন পথে হাঁটতে পারে দেশটি, এমন হুমকিও দিয়েছেন যুবরাজ।

তবে সতর্কসংকেতের জায়গাটি হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্ব মোহাম্মদ বিন সালমানকে যতটা উদার ভেবেছিলেন তিনি আসলে ততটা উদার নন।

গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে সৌদি আরবের কয়েক ডজন প্রিন্স এবং ব্যবসায়ীদের যখন পাঁচতারকা হোটেলে আটকে রাখা হয়, তখন মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোরতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।

এমনকি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে স্বল্প সময়ের জন্য আটকে রেখেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে আটক রেখে সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে সৌদি আরব।

মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে কেউ যদি কোনো প্রশ্ন তোলে তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এমনকি তার সংস্কারকাজের সমালোচনা করে কেউ যদি শুধু একটি টুইটও করলেও তাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত জামাল খাশোগি অক্টোবর মাসের ২ তারিখে নিখোঁজ হওয়ার পর মোহাম্মদ বিন সালমানের ভূমিকা নিয়ে নানা সন্দেহ তৈরি হয়।

এদিকে কিছু দিন আগে কানাডার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও কাতারের সঙ্গেও দেশটির সম্পর্ক তলানিতে। সব মিলিয়ে যুবরাজ এক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে; যা তার এত দিনকার আরামদায়ক চেয়ারটি কঠিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদ ইসলামের রিট

সৌদি যুবরাজের হানিমুনের দিন কি শেষ?

আপডেট সময় ০৬:১৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র সমর্থন পেয়েছেন সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সৌদি আরবকে।

এরপর থেকে সৌদি আরবে যুবরাজ কর্তৃক গৃহীত বহু কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু উল্টেপাল্টে যাচ্ছে। সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি আরবকে কঠোর শাস্তি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আর ট্রাম্পের ওই হুশিয়ারিতে চুপ করে বসে নেই সৌদি যুবরাজ। তিনি ট্রাম্পকে পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। তেলের বাজারে সৌদি আরবের অবদানের কথা স্মরণ করে দিয়েছেন এবং সৌদির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়টিও সামনে এনেছেন সৌদি যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাশিয়ার দিকে নতুন পথে হাঁটতে পারে দেশটি, এমন হুমকিও দিয়েছেন যুবরাজ।

তবে সতর্কসংকেতের জায়গাটি হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্ব মোহাম্মদ বিন সালমানকে যতটা উদার ভেবেছিলেন তিনি আসলে ততটা উদার নন।

গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে সৌদি আরবের কয়েক ডজন প্রিন্স এবং ব্যবসায়ীদের যখন পাঁচতারকা হোটেলে আটকে রাখা হয়, তখন মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোরতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।

এমনকি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে স্বল্প সময়ের জন্য আটকে রেখেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে আটক রেখে সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে সৌদি আরব।

মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে কেউ যদি কোনো প্রশ্ন তোলে তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এমনকি তার সংস্কারকাজের সমালোচনা করে কেউ যদি শুধু একটি টুইটও করলেও তাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত জামাল খাশোগি অক্টোবর মাসের ২ তারিখে নিখোঁজ হওয়ার পর মোহাম্মদ বিন সালমানের ভূমিকা নিয়ে নানা সন্দেহ তৈরি হয়।

এদিকে কিছু দিন আগে কানাডার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও কাতারের সঙ্গেও দেশটির সম্পর্ক তলানিতে। সব মিলিয়ে যুবরাজ এক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে; যা তার এত দিনকার আরামদায়ক চেয়ারটি কঠিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।