ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সৌদি যুবরাজের হানিমুনের দিন কি শেষ?

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র সমর্থন পেয়েছেন সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সৌদি আরবকে।

এরপর থেকে সৌদি আরবে যুবরাজ কর্তৃক গৃহীত বহু কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু উল্টেপাল্টে যাচ্ছে। সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি আরবকে কঠোর শাস্তি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আর ট্রাম্পের ওই হুশিয়ারিতে চুপ করে বসে নেই সৌদি যুবরাজ। তিনি ট্রাম্পকে পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। তেলের বাজারে সৌদি আরবের অবদানের কথা স্মরণ করে দিয়েছেন এবং সৌদির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়টিও সামনে এনেছেন সৌদি যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাশিয়ার দিকে নতুন পথে হাঁটতে পারে দেশটি, এমন হুমকিও দিয়েছেন যুবরাজ।

তবে সতর্কসংকেতের জায়গাটি হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্ব মোহাম্মদ বিন সালমানকে যতটা উদার ভেবেছিলেন তিনি আসলে ততটা উদার নন।

গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে সৌদি আরবের কয়েক ডজন প্রিন্স এবং ব্যবসায়ীদের যখন পাঁচতারকা হোটেলে আটকে রাখা হয়, তখন মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোরতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।

এমনকি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে স্বল্প সময়ের জন্য আটকে রেখেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে আটক রেখে সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে সৌদি আরব।

মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে কেউ যদি কোনো প্রশ্ন তোলে তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এমনকি তার সংস্কারকাজের সমালোচনা করে কেউ যদি শুধু একটি টুইটও করলেও তাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত জামাল খাশোগি অক্টোবর মাসের ২ তারিখে নিখোঁজ হওয়ার পর মোহাম্মদ বিন সালমানের ভূমিকা নিয়ে নানা সন্দেহ তৈরি হয়।

এদিকে কিছু দিন আগে কানাডার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও কাতারের সঙ্গেও দেশটির সম্পর্ক তলানিতে। সব মিলিয়ে যুবরাজ এক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে; যা তার এত দিনকার আরামদায়ক চেয়ারটি কঠিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সৌদি যুবরাজের হানিমুনের দিন কি শেষ?

আপডেট সময় ০৬:১৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র সমর্থন পেয়েছেন সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সৌদি আরবকে।

এরপর থেকে সৌদি আরবে যুবরাজ কর্তৃক গৃহীত বহু কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু উল্টেপাল্টে যাচ্ছে। সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি আরবকে কঠোর শাস্তি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আর ট্রাম্পের ওই হুশিয়ারিতে চুপ করে বসে নেই সৌদি যুবরাজ। তিনি ট্রাম্পকে পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। তেলের বাজারে সৌদি আরবের অবদানের কথা স্মরণ করে দিয়েছেন এবং সৌদির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়টিও সামনে এনেছেন সৌদি যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাশিয়ার দিকে নতুন পথে হাঁটতে পারে দেশটি, এমন হুমকিও দিয়েছেন যুবরাজ।

তবে সতর্কসংকেতের জায়গাটি হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্ব মোহাম্মদ বিন সালমানকে যতটা উদার ভেবেছিলেন তিনি আসলে ততটা উদার নন।

গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে সৌদি আরবের কয়েক ডজন প্রিন্স এবং ব্যবসায়ীদের যখন পাঁচতারকা হোটেলে আটকে রাখা হয়, তখন মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোরতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।

এমনকি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে স্বল্প সময়ের জন্য আটকে রেখেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে আটক রেখে সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে সৌদি আরব।

মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে কেউ যদি কোনো প্রশ্ন তোলে তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এমনকি তার সংস্কারকাজের সমালোচনা করে কেউ যদি শুধু একটি টুইটও করলেও তাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ রয়েছে।

মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত জামাল খাশোগি অক্টোবর মাসের ২ তারিখে নিখোঁজ হওয়ার পর মোহাম্মদ বিন সালমানের ভূমিকা নিয়ে নানা সন্দেহ তৈরি হয়।

এদিকে কিছু দিন আগে কানাডার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও কাতারের সঙ্গেও দেশটির সম্পর্ক তলানিতে। সব মিলিয়ে যুবরাজ এক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে; যা তার এত দিনকার আরামদায়ক চেয়ারটি কঠিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।