অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে তৈরি করা হচ্ছে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এজন্য ‘মোল্লাহাট ১০০ মেগাওয়াট সোলার পিভি পাওয়ার প্ল্যান্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ১৯৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ভারতীয় ঋণ (এলওসি) থেকে ১ হাজার ১৩৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং রুরাল কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রকল্পটি চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রক্রিয়াকরণের অংশ হিসেবে গত ১৭ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেয়া বেশ কিছু শর্ত প্রতিপালন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হলে সম্প্রতি প্রক্রিয়াকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য একনেক অনুবিভাগে প্রস্তুত রয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে আরপিসিএল।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস একনেকের জন্য তৈরি সার-সংক্ষেপে বলেন, প্রকল্পের আওতায় মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পিভি পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করা হবে।
এটি দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। এজন্য পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক অবস্থায় সোলার প্যানেলের নিচে মৎস্য চাষের বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্প এলাকার ভূমির ৩০ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটির লোড বেয়ারিং ক্ষমতা খুব কম থাকা এবং প্রকল্প এলাকায় গত ২০ বছরের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার উদঘাটিত হয়।
ফলে জলাশয় সুবিধা রেখে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য পাইলিং ও অবকাঠামো নির্মাণে অধিক ব্যয় প্রয়োজন। এ বিবেচনায় সোলার প্যানেলের নিচে মৎস্য চাষের সুবিধা রাখা বাদ দিয়ে পৃথকভাবে ৬২ একর ভূমিতে জলাশয় সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে মাছ চাষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার ২০২০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের জন্য আরপিসিএল বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলায় দুই পর্যায়ে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে মোল্লাহাট ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ভারতীয় তৃতীয় এলসির (লাইন অব ক্রেডিট) ঋণের আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় ৫০০ একর ভূমিকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৫ হাজার ৯৯১ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন কাজ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ২৮ কিলোমিটার (প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে গোপলগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত) ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ করা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























