ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে ঢাকার বাড়িঘর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা শহরের ৬০ শতাংশ ভূমির গঠনপ্রকৃতি এমন যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে মাটির ওপরের সব বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল- সব কিছু ধসে পড়ে মাটির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এমনটিই আভাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব আলম খান।

তিনি বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ অংশ গড়ে উঠেছে এমন জমিতে, যেখানে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি। লিকুইফেকশন হচ্ছে- এমন একটি বিষয়, যখন মাটি তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে; আর তখন মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে সেটিতে ঢেউ খেলতে শুরু করবে।

অধ্যাপক বলেন, ভূমিকম্পের পর লিকুইফেকশন বা মাটির তরলীকরণে ধ্বংসক্ষমতা সবচেয়ে ব্যাপক। বাংলাদেশের যে ভূ-কাঠামো, তাতে এ রকম ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অনেক।

তবে ভূমিকম্প হলেই যে লিকুইফেকশন হবে, ব্যাপারটি তা নয়। কয়েকটি ব্যাপার একসঙ্গে ঘটতে হবে। এটি নির্ভর করবে ভূমিকম্পটি কতটা শক্তিশালী, মাটির কতটা গভীরে এটি ঘটছে এবং সেখানে যে পানির স্তর আছে, সেটিতে কতটা পানি আছে।

অধ্যাপকের মতে, যদি ভূমিকম্প ছয় মাত্রার কাছাকাছি বা তার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং এর উৎপত্তিস্থল যদি ১০-১৫ কিলোমিটার গভীরতার মধ্যে হয়, তা হলে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

তার মতে, ঢাকা শহরের অন্তত ষাট ভাগ এলাকা এ রকম লিকুইফেকশন অঞ্চলে পড়েছে, যেখানে এ রকম বিপদ ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি এ ঝুঁকির ভিত্তিতে ঢাকাকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে- নারায়নগঞ্জ-ডেমরা-পুরান ঢাকা-মতিঝিল থেকে শ্যামলী পর্যন্ত এলাকা।

আফতাব আলম খানের মতে, পুরো বাংলাদেশের বেশিরভাগটাই যেহেতু গড়ে উঠেছে নদী বিধৌত পলিমাটিতে, তাই এ রকম লিকুইফেকশনের ঝুঁকি কমবেশি অনেক জায়গাতেই আছে।

কেবল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া রাজশাহীর মতো কিছু জেলায় অগভীর মাটিতে শক্ত শিলা বা ‘সলিড ক্রাস্ট’ আছে। যেখানে এর ঝুঁকি নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে ঢাকার বাড়িঘর

আপডেট সময় ০৫:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা শহরের ৬০ শতাংশ ভূমির গঠনপ্রকৃতি এমন যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে মাটির ওপরের সব বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল- সব কিছু ধসে পড়ে মাটির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এমনটিই আভাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব আলম খান।

তিনি বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ অংশ গড়ে উঠেছে এমন জমিতে, যেখানে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি। লিকুইফেকশন হচ্ছে- এমন একটি বিষয়, যখন মাটি তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে; আর তখন মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে সেটিতে ঢেউ খেলতে শুরু করবে।

অধ্যাপক বলেন, ভূমিকম্পের পর লিকুইফেকশন বা মাটির তরলীকরণে ধ্বংসক্ষমতা সবচেয়ে ব্যাপক। বাংলাদেশের যে ভূ-কাঠামো, তাতে এ রকম ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অনেক।

তবে ভূমিকম্প হলেই যে লিকুইফেকশন হবে, ব্যাপারটি তা নয়। কয়েকটি ব্যাপার একসঙ্গে ঘটতে হবে। এটি নির্ভর করবে ভূমিকম্পটি কতটা শক্তিশালী, মাটির কতটা গভীরে এটি ঘটছে এবং সেখানে যে পানির স্তর আছে, সেটিতে কতটা পানি আছে।

অধ্যাপকের মতে, যদি ভূমিকম্প ছয় মাত্রার কাছাকাছি বা তার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং এর উৎপত্তিস্থল যদি ১০-১৫ কিলোমিটার গভীরতার মধ্যে হয়, তা হলে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

তার মতে, ঢাকা শহরের অন্তত ষাট ভাগ এলাকা এ রকম লিকুইফেকশন অঞ্চলে পড়েছে, যেখানে এ রকম বিপদ ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি এ ঝুঁকির ভিত্তিতে ঢাকাকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে- নারায়নগঞ্জ-ডেমরা-পুরান ঢাকা-মতিঝিল থেকে শ্যামলী পর্যন্ত এলাকা।

আফতাব আলম খানের মতে, পুরো বাংলাদেশের বেশিরভাগটাই যেহেতু গড়ে উঠেছে নদী বিধৌত পলিমাটিতে, তাই এ রকম লিকুইফেকশনের ঝুঁকি কমবেশি অনেক জায়গাতেই আছে।

কেবল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া রাজশাহীর মতো কিছু জেলায় অগভীর মাটিতে শক্ত শিলা বা ‘সলিড ক্রাস্ট’ আছে। যেখানে এর ঝুঁকি নেই।