ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে ঢাকার বাড়িঘর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা শহরের ৬০ শতাংশ ভূমির গঠনপ্রকৃতি এমন যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে মাটির ওপরের সব বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল- সব কিছু ধসে পড়ে মাটির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এমনটিই আভাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব আলম খান।

তিনি বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ অংশ গড়ে উঠেছে এমন জমিতে, যেখানে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি। লিকুইফেকশন হচ্ছে- এমন একটি বিষয়, যখন মাটি তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে; আর তখন মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে সেটিতে ঢেউ খেলতে শুরু করবে।

অধ্যাপক বলেন, ভূমিকম্পের পর লিকুইফেকশন বা মাটির তরলীকরণে ধ্বংসক্ষমতা সবচেয়ে ব্যাপক। বাংলাদেশের যে ভূ-কাঠামো, তাতে এ রকম ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অনেক।

তবে ভূমিকম্প হলেই যে লিকুইফেকশন হবে, ব্যাপারটি তা নয়। কয়েকটি ব্যাপার একসঙ্গে ঘটতে হবে। এটি নির্ভর করবে ভূমিকম্পটি কতটা শক্তিশালী, মাটির কতটা গভীরে এটি ঘটছে এবং সেখানে যে পানির স্তর আছে, সেটিতে কতটা পানি আছে।

অধ্যাপকের মতে, যদি ভূমিকম্প ছয় মাত্রার কাছাকাছি বা তার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং এর উৎপত্তিস্থল যদি ১০-১৫ কিলোমিটার গভীরতার মধ্যে হয়, তা হলে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

তার মতে, ঢাকা শহরের অন্তত ষাট ভাগ এলাকা এ রকম লিকুইফেকশন অঞ্চলে পড়েছে, যেখানে এ রকম বিপদ ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি এ ঝুঁকির ভিত্তিতে ঢাকাকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে- নারায়নগঞ্জ-ডেমরা-পুরান ঢাকা-মতিঝিল থেকে শ্যামলী পর্যন্ত এলাকা।

আফতাব আলম খানের মতে, পুরো বাংলাদেশের বেশিরভাগটাই যেহেতু গড়ে উঠেছে নদী বিধৌত পলিমাটিতে, তাই এ রকম লিকুইফেকশনের ঝুঁকি কমবেশি অনেক জায়গাতেই আছে।

কেবল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া রাজশাহীর মতো কিছু জেলায় অগভীর মাটিতে শক্ত শিলা বা ‘সলিড ক্রাস্ট’ আছে। যেখানে এর ঝুঁকি নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

ভূমিকম্পে তলিয়ে যেতে পারে ঢাকার বাড়িঘর

আপডেট সময় ০৫:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা শহরের ৬০ শতাংশ ভূমির গঠনপ্রকৃতি এমন যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে মাটির ওপরের সব বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল- সব কিছু ধসে পড়ে মাটির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এমনটিই আভাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব আলম খান।

তিনি বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ অংশ গড়ে উঠেছে এমন জমিতে, যেখানে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি। লিকুইফেকশন হচ্ছে- এমন একটি বিষয়, যখন মাটি তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে; আর তখন মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে সেটিতে ঢেউ খেলতে শুরু করবে।

অধ্যাপক বলেন, ভূমিকম্পের পর লিকুইফেকশন বা মাটির তরলীকরণে ধ্বংসক্ষমতা সবচেয়ে ব্যাপক। বাংলাদেশের যে ভূ-কাঠামো, তাতে এ রকম ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অনেক।

তবে ভূমিকম্প হলেই যে লিকুইফেকশন হবে, ব্যাপারটি তা নয়। কয়েকটি ব্যাপার একসঙ্গে ঘটতে হবে। এটি নির্ভর করবে ভূমিকম্পটি কতটা শক্তিশালী, মাটির কতটা গভীরে এটি ঘটছে এবং সেখানে যে পানির স্তর আছে, সেটিতে কতটা পানি আছে।

অধ্যাপকের মতে, যদি ভূমিকম্প ছয় মাত্রার কাছাকাছি বা তার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং এর উৎপত্তিস্থল যদি ১০-১৫ কিলোমিটার গভীরতার মধ্যে হয়, তা হলে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

তার মতে, ঢাকা শহরের অন্তত ষাট ভাগ এলাকা এ রকম লিকুইফেকশন অঞ্চলে পড়েছে, যেখানে এ রকম বিপদ ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি এ ঝুঁকির ভিত্তিতে ঢাকাকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে- নারায়নগঞ্জ-ডেমরা-পুরান ঢাকা-মতিঝিল থেকে শ্যামলী পর্যন্ত এলাকা।

আফতাব আলম খানের মতে, পুরো বাংলাদেশের বেশিরভাগটাই যেহেতু গড়ে উঠেছে নদী বিধৌত পলিমাটিতে, তাই এ রকম লিকুইফেকশনের ঝুঁকি কমবেশি অনেক জায়গাতেই আছে।

কেবল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া রাজশাহীর মতো কিছু জেলায় অগভীর মাটিতে শক্ত শিলা বা ‘সলিড ক্রাস্ট’ আছে। যেখানে এর ঝুঁকি নেই।