ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

উত্থান-পতনে পাট পণ্য রফতানি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলছে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি। এক বছর রফতানি আয় বাড়লেও অন্য বছর কমছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা ও পাটপণ্যের ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশের জনগণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি পণ্য ব্যবহার বাড়ানোর কারণে সেখানে পাটপণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ নতুন নতুন বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন করছে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বদেশি পাটপণ্যের কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কারণে পাট ও পাটপণ্য রফতানি ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে তারা আশা করেন।

এ ছাড়া দেশে বেশ কয়েকটি পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বেড়েছে। সরকার পাটকে উৎসাহ দিতে ৬ মার্চকে পাট দিবস ঘোষণা করেছে। যাতে আশার আলো দেখছেন পাটচাষী থেকে শুরু করে বড় শিল্প উদ্যোক্তারা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১০-১১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতারি হয় ১১১ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৬ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।

এরপর ২০১২-১৩ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি ৬ লাখ ডলারে। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা আঙ্ককাজনকভাবে কমে ৮২ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। এরপরের অর্থবছরে রফতানি আবার বাড়ে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রফতানি হয় ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি হয় ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই রফতানি আয় সামান্য বেড়ে হয় ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতারি আয় বেড়ে হয় ১০২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সেখান থেকে জুলাই-আগস্ট মাসের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার। তার বিপরীতে আয় হয় ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলার।

পাট ও পাটপণ্য রফতানির বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা এখনও পিছিয়ে থাকায় পর্যাপ্ত পাট ও পাটপণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না।

তবে সরকার মানসম্মত পাট উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নীতি সহায়তার পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্র্যকরণে নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া রফতানিমুখী পাটপণ্য বহুমুখীকরণে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

এতে সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে মানসম্মত পাটজাত পণ্য উৎপাদন হওয়ায় রফতানি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্থান-পতনে পাট পণ্য রফতানি

আপডেট সময় ০৬:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলছে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি। এক বছর রফতানি আয় বাড়লেও অন্য বছর কমছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা ও পাটপণ্যের ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশের জনগণ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি পণ্য ব্যবহার বাড়ানোর কারণে সেখানে পাটপণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ নতুন নতুন বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন করছে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বদেশি পাটপণ্যের কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কারণে পাট ও পাটপণ্য রফতানি ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে তারা আশা করেন।

এ ছাড়া দেশে বেশ কয়েকটি পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বেড়েছে। সরকার পাটকে উৎসাহ দিতে ৬ মার্চকে পাট দিবস ঘোষণা করেছে। যাতে আশার আলো দেখছেন পাটচাষী থেকে শুরু করে বড় শিল্প উদ্যোক্তারা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১০-১১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতারি হয় ১১১ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৬ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।

এরপর ২০১২-১৩ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি ৬ লাখ ডলারে। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা আঙ্ককাজনকভাবে কমে ৮২ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। এরপরের অর্থবছরে রফতানি আবার বাড়ে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রফতানি হয় ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি হয় ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই রফতানি আয় সামান্য বেড়ে হয় ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতারি আয় বেড়ে হয় ১০২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সেখান থেকে জুলাই-আগস্ট মাসের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার। তার বিপরীতে আয় হয় ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলার।

পাট ও পাটপণ্য রফতানির বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা এখনও পিছিয়ে থাকায় পর্যাপ্ত পাট ও পাটপণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না।

তবে সরকার মানসম্মত পাট উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নীতি সহায়তার পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্র্যকরণে নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া রফতানিমুখী পাটপণ্য বহুমুখীকরণে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

এতে সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে মানসম্মত পাটজাত পণ্য উৎপাদন হওয়ায় রফতানি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।