ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

পল্লবীতে ধর্ষণের অভিযোগে ‘উবার চালকের প্রবেশাধিকার বাতিল’

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

১৪ সেপ্টেম্বরের প্রিন্ট ও অনলাইনে প্রকাশিত ‘পল্লবীতে কিশোরীকে গণধর্ষণ: উবার চালক ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রিমাণ্ডে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে উবার কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নিউজটিতে যে ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা চাই আর কারো সঙ্গেই যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ‘ওই চালকের উবার অ্যাপে প্রবেশাধিকার বাতিল করেছে’।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্টরা যদি এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করতে চান তাহলে উবার কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে সব সময় প্রস্তুত আছে।

জানা গেছে, ১০ জুলাই রাজধানীর পল্লবীতে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় রিমান্ডে থাকা উবার চালক শাহ জামাল (৩০) ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি আবু বক্কর ওরফে আবু তাহের (২৬) পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছে।

তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও রাজি হয়েছে। উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বৃহস্পতিবার দৈনিক আকাশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, রিমান্ডে থাকা দু’জনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গণধর্ষণে অংশ নেয়া আরও একজনের কথা জানা গেছে। তার নাম জসিম মীর (৩২)। সে পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।

জসিমের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যে কোনো সময় সে ধরা পড়বে। ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, উবার চালকের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনার পর উবারযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি গণ্যমাধ্যমে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উবার চালক শাহ জামালের বাবার নাম আজিজুর রহমান। গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার কান্তনগরে। থাকে পল্লবী ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ ১ নম্বর লেনের ১৩ নম্বর বাসায়। পলাতক জসিম মীরের বাবার নাম রব মীর। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরের বিটুই গ্রামে।

থাকে রাজধানীর লালমাটিয়া ৮ নম্বর এভিনিউর ১৪৪ নম্বর বাসায়। গ্রেফতারকৃত আবু বক্কর ওরফে আবু তাহের পল্লবী ১১ নম্বর সেক্টরের বি-ব্লক ১ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাসায় থাকে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) শাহাদাৎ হোসেন সুমা বলেন, গত ১০ জুলাই পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় উবার চালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক এবং বিদ্যুৎ মিস্ত্রি মিলে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় পরদিন ১৫ বছর বয়সী কিশোরী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি।

তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলাটির তদন্তভার উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে ন্যস্ত হওয়ায় আসামিদের তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উবার চালক শাহ জামাল পুলিশকে বলে, ‘১০ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে আমি, আমার বন্ধু অটোরিকশা চালক জসিম ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি আবু বক্কর ওরফে আবু তাহের পল্লবী ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ ১ নম্বর লেনের ১৯ নম্বর বাসার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় একটি মেয়ে ওই বাসার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

তাকে দেখে আমরা ধর্ষণের পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনজনে মিলে মেয়েটিকে জোর করে আবু তাহেরের বাসায় নিয়ে যাই। পরে তাকে ভয় দেখিয়ে ১ ঘণ্টা সময় ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করি। এরপর তাকে বাসা থেকে বের করে দিই।’

একই ধরনের তথ্য জানায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবু বক্কর ওরফে আবু তাহেরও।

ওই কিশোরী এজাহারে উল্লেখ করেন, আমার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। কাজের উদ্দেশ্যে এক মাস আগে ঢাকায় আসি। ১০ জুলাই বাউনিয়াবাদ ১ নম্বর লেন দিয়ে যাওয়ার সময় আবু বকর ওরফে আবু তাহের, জসিম মীর এবং শাহ জামালের সঙ্গে দেখা হয়।

এ সময় তারা জোর করে আমাকে আবু বকর ওরফে আবু তাহেরের বাসায় নিয়ে যায়। প্রথমে আবু তাহের ও পরে পালাক্রমে জসিম ও শাহ জামাল আমাকে ধর্ষণ করে।

ওই কিশোরী বলেন, দুপুর সোয়া ২টার দিকে তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় রিভা, আরমান হোসেন এবং সুমনসহ অন্যদের জানালে তারা আমাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

পল্লবীতে ধর্ষণের অভিযোগে ‘উবার চালকের প্রবেশাধিকার বাতিল’

আপডেট সময় ১০:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

১৪ সেপ্টেম্বরের প্রিন্ট ও অনলাইনে প্রকাশিত ‘পল্লবীতে কিশোরীকে গণধর্ষণ: উবার চালক ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রিমাণ্ডে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে উবার কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নিউজটিতে যে ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা চাই আর কারো সঙ্গেই যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ‘ওই চালকের উবার অ্যাপে প্রবেশাধিকার বাতিল করেছে’।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্টরা যদি এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করতে চান তাহলে উবার কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে সব সময় প্রস্তুত আছে।

জানা গেছে, ১০ জুলাই রাজধানীর পল্লবীতে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় রিমান্ডে থাকা উবার চালক শাহ জামাল (৩০) ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি আবু বক্কর ওরফে আবু তাহের (২৬) পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছে।

তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও রাজি হয়েছে। উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বৃহস্পতিবার দৈনিক আকাশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, রিমান্ডে থাকা দু’জনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গণধর্ষণে অংশ নেয়া আরও একজনের কথা জানা গেছে। তার নাম জসিম মীর (৩২)। সে পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।

জসিমের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যে কোনো সময় সে ধরা পড়বে। ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, উবার চালকের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনার পর উবারযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি গণ্যমাধ্যমে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উবার চালক শাহ জামালের বাবার নাম আজিজুর রহমান। গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার কান্তনগরে। থাকে পল্লবী ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ ১ নম্বর লেনের ১৩ নম্বর বাসায়। পলাতক জসিম মীরের বাবার নাম রব মীর। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরের বিটুই গ্রামে।

থাকে রাজধানীর লালমাটিয়া ৮ নম্বর এভিনিউর ১৪৪ নম্বর বাসায়। গ্রেফতারকৃত আবু বক্কর ওরফে আবু তাহের পল্লবী ১১ নম্বর সেক্টরের বি-ব্লক ১ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাসায় থাকে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) শাহাদাৎ হোসেন সুমা বলেন, গত ১০ জুলাই পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় উবার চালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক এবং বিদ্যুৎ মিস্ত্রি মিলে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় পরদিন ১৫ বছর বয়সী কিশোরী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি।

তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলাটির তদন্তভার উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে ন্যস্ত হওয়ায় আসামিদের তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উবার চালক শাহ জামাল পুলিশকে বলে, ‘১০ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে আমি, আমার বন্ধু অটোরিকশা চালক জসিম ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি আবু বক্কর ওরফে আবু তাহের পল্লবী ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ ১ নম্বর লেনের ১৯ নম্বর বাসার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় একটি মেয়ে ওই বাসার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

তাকে দেখে আমরা ধর্ষণের পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনজনে মিলে মেয়েটিকে জোর করে আবু তাহেরের বাসায় নিয়ে যাই। পরে তাকে ভয় দেখিয়ে ১ ঘণ্টা সময় ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করি। এরপর তাকে বাসা থেকে বের করে দিই।’

একই ধরনের তথ্য জানায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবু বক্কর ওরফে আবু তাহেরও।

ওই কিশোরী এজাহারে উল্লেখ করেন, আমার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। কাজের উদ্দেশ্যে এক মাস আগে ঢাকায় আসি। ১০ জুলাই বাউনিয়াবাদ ১ নম্বর লেন দিয়ে যাওয়ার সময় আবু বকর ওরফে আবু তাহের, জসিম মীর এবং শাহ জামালের সঙ্গে দেখা হয়।

এ সময় তারা জোর করে আমাকে আবু বকর ওরফে আবু তাহেরের বাসায় নিয়ে যায়। প্রথমে আবু তাহের ও পরে পালাক্রমে জসিম ও শাহ জামাল আমাকে ধর্ষণ করে।

ওই কিশোরী বলেন, দুপুর সোয়া ২টার দিকে তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় রিভা, আরমান হোসেন এবং সুমনসহ অন্যদের জানালে তারা আমাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেন।