অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা বেশিরভাগ জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
রবিবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমাম তার এই বক্তব্যের পেছনে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলছি, যারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের অধিকাংশই ছাত্রশিবিরের।’
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বাংলাদেশে সবার আগে আন্দোলন শুরু করে শিবিরের অনুসারীরাই। ১৯৯৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাদের সন্তানদেরকেও সুবিধা দেয়ার পরের বছরই এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে রাজনৈতিক মাঠে নামে শিবিরের অনুসারীরা। তবে সে সময় তাদের কৌশল ধরা পড়ে যায়।
এরপর নানা সময় একই দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়েছে শিবিরপন্থীরা। যদিও এবারের আন্দোলনে কোনো বিশেষ কোটার নাম উল্লেখ না করে মাঠে নামে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
আবার পরিষদ কোনো কোটা বাতিলের দাবি না তুলে সব মিলিয়ে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসতে দাবি জানাতে থাক।
গত ফেব্রুয়ারিতে এই সংগঠনটি মাঠে নামার পর ৮ এপ্রিল রাতে ছাত্রদের সঙ্গে প্রথমে রাজধানীর শাহবাগ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের সঙ্গে এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এরপর প্রথমে দেশের প্রায় সব কটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলন ছড়ায়।
আর তিন দিনের তুমুল আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভাষণে বলেন, ‘কোনো কোটা থাকার দরকার নেই।’
সেদিন প্রধানমন্ত্রী কোটা উঠে গেলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আর প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান।
তবে এখনও কোটার বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আর প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আজ রবিবার থেকে আবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কের আন্দোলনে নেমেছে ছাত্ররা।
একই দিন সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, যাদেরকে কোটা সুবিধা দেয়া হতো, তাদের জন্য বিকল্পের সন্ধানে প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হচ্ছে।
তবে সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা চূড়ান্ত জানিয়ে তার ওপর আস্থা রাখতেও বলেন সড়ক মন্ত্রী।
গত ৯ এপ্রিল সড়ক মন্ত্রীর সঙ্গেই সচিবালয়ে বৈঠক হয়েছিল আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতাদের। সেদিন এক মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে ছাত্রদের নেতারা। আর কাদের জানান, ৭ মের মধ্যে একটি কমিটি প্রতিবেদন দেবে।
সেই সমঝোতা অবশ্য ছাত্ররা আর না মেনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনে ফেরে। আর ৭ মের মধ্যে সেই প্রতিবেদন আর আসেনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, ছাত্ররা স্থগিত করা আন্দোলনে ফিরে ৭ মের সমঝোতা আর রাখেনি।
সেদিন ৭ মের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে কথা হলেও ছাত্ররা এখন বলছেন, প্রজ্ঞাপন জারির জন্য একমাস সময় নেওয়া হয়েছিল, যা ৭ মে পার হয়ে গেছে। আর এই দাবিতে নাকচ করেছেন এইচ টি ইমাম। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন সংসদে এই সিদ্ধান্তের কথা বলেছিলেন তখন তিনি ৭ মের কথা বলেছিলেন বলে আমার মনে পড়ে না। কারণ আমি সেদিন সংসদে ছিলাম, ‘তার বক্তব্য শুনেছি।’
ছাত্রদের বক্তব্যের ঢংয়েরও সমালোচনা করেন এইচ টি ইমাম। বলেন, ‘আন্দোলনরতরা সবাই যদি শিক্ষার্থী হয়, তাহলে তাদের মধ্যে একটা শিষ্টাচার থাকা উচিত। আমি মনে করি সরকারকে ছাত্রদের পক্ষ থেকে আলটিমেটাম দেওয়া শিষ্টাচার বহির্ভূত।’
নির্বাচনের আগে এই আন্দোলনের পেছনে ‘অনেক রাজনৈতিক অঙ্ক কষার বিষয় আছে এবং কষাও হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলছি যারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে তাদের অধিকাংশই ছাত্র শিবিরের।’
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকেও কোটা আন্দোলনের নেতাদের শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিবেদন এসেছিল। তবে ছাত্ররা ওই জাতীয় দৈনিকটি বর্জনের ঘোষণা দেয়ার হুমকিতে সংবাদটি প্রত্যাহার করে নেয় দৈনিকটি।
কোটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অবশ্য এর মধ্যে একটি কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব। ১০ মে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত নথিপত্র এখন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে আছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















