ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইউটিউব দেখে সন্তান জন্ম দিলেন মার্কিন নারী

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইউটিউব দেখে দেখে সন্তান প্রসব করেছেন বলে দাবি করেছেন সদ্য মা হওয়া এক মার্কিন নারী। তিনি বলছেন, সন্তান জন্মদানের সময় একটি হোটেল কক্ষে তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের বাসিন্দা টিয়া ফ্রিম্যান নামের ওই নারী বেশ কয়েকটি টুইটের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের এই তথ্য জানান। টুইটে তিনি বলেন, সে সময় (সন্তান জন্মদান) তিনি যেন ‘অটো পাইলট’ হয়ে গিয়েছিলেন।

প্রসব বেদনা উঠলেও তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, তার হয়তো ফুড পয়জনিং বা পেট খারাপ হয়েছে। মধ্য জানুয়ারিতে গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতে পারেন ২২ বছরের টিয়া ফ্রিম্যান। কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, এত তাড়াতাড়ি সন্তানের জন্ম হতে পারে।

প্রথম যখন তিনি বুঝতে পারেন, মা হতে চলেছেন তিনি, সেই সময় সম্পর্কে টিয়া বলছেন, আমার ওজন মাত্র পাঁচ কেজি বেড়েছিল, তাই সেটা দেখে বোঝার কোনও উপায় ছিল না যে, আমার পেটে সন্তান এসেছে।

কিন্তু গর্ভধারণের অন্যসব লক্ষণ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন মা হতে চলেছেন তিনি। এই তথ্য জানার পরেও তিনি সেটি কাউকে জানাননি। বরং জার্মানিতে একটি সফরে যান। ১৪ ঘণ্টার ওই সফরে তার সব কিছু পাল্টে যায়।

পেটে ব্যথা শুরু হলে টিয়া ভেবেছিলেন, তার হয়তো খাবার খেয়ে পেট খারাপ হয়েছে। কিন্তু ট্রানজিট হিসাবে তুরস্কে নামার পর থেকে তার বমিও হতে শুরু করে। তখন তিনি গুগলে সার্চ করে লক্ষণগুলো দেখে বুঝতে পারেন যে, তার প্রসব বেদনা শুরু হয়েছে। তুরস্কের একটি হোটেলে ওঠার পর তিনি বুঝতে পারছিলেন না, ঠিক কি করা উচিত।

তিনি বলেন, `হোটেল রুমে বসে বুঝতে পারছিলাম, আমার প্রসব বেদনা উঠেছে। আমি অন্য একটি দেশে আছি, যেখানে কেউ ইংরেজি বলে না, এখানকার জরুরী নম্বরও জানি না। বুঝতেই পারছিলাম না কি করা উচিত।’

তারপরে তিনি চিকিৎসককে না ডেকে বরং ইউটিউবের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হোটেল রুমের বাথটাবটি গরম পানি দিয়ে ভর্তি করে নেন। কয়েকটি টাওয়েল কাছে নেন এবং ইন্টারনেট দেখে প্রসবের উপযোগীভাবে বাথটাবে বসেন। এরপর তিনি পেটে চাপ দিতে শুরু করেন।

টিয়া বলছেন, ‘আমি জীবনে আর কখনো কোন কিছুতে এতো ব্যথা অনুভব করিনি। আমার সন্তানের জন্ম খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যায়।

এরপর শিশুর সঙ্গে লেগে থাকা অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ডটি তিনি নিজেই কেটে ফেলেন। এরপর জুতার ফিতা দিয়ে সেটি আটকে দেন। অবশ্য তার আগে ফিতাটি তিনি গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিয়েছেন।

টিয়া বলছেন, সব হোটেল রুমেই গরম পানির বৈদ্যুতিক কেটলি থাকে। পানি গরম করে আগে ফিতাটি জীবাণুমুক্ত করে নিয়েছি। এরপর সেটি একটি ক্লাম্পের মতো ব্যবহার করেছি। তিনি তার ছেলের নাম রেখেছেন ‘জাভিয়ের’।

পরদিন যখন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুকে নিয়ে তিনি পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে যান, তখন বিমানবন্দরের কর্মীরা চমকে যায়।

তিনি জানান, তারা ভেবেছিল আমি মানব পাচারকারী, যে একটি শিশুকে পাচার করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু তিনি তা নন, এটা প্রমাণিত হওয়ার পর টার্কিশ এয়ারলাইন্স টিয়া ফ্রিম্যানকে ইস্তানবুলের একটি হোটেলে দুই সপ্তাহ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়েছে। জাভিয়ারের বয়স এখন একমাস। সে আর তার মা, দুজনেই পুরোপুরি সুস্থ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইউটিউব দেখে সন্তান জন্ম দিলেন মার্কিন নারী

আপডেট সময় ০৬:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইউটিউব দেখে দেখে সন্তান প্রসব করেছেন বলে দাবি করেছেন সদ্য মা হওয়া এক মার্কিন নারী। তিনি বলছেন, সন্তান জন্মদানের সময় একটি হোটেল কক্ষে তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের বাসিন্দা টিয়া ফ্রিম্যান নামের ওই নারী বেশ কয়েকটি টুইটের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের এই তথ্য জানান। টুইটে তিনি বলেন, সে সময় (সন্তান জন্মদান) তিনি যেন ‘অটো পাইলট’ হয়ে গিয়েছিলেন।

প্রসব বেদনা উঠলেও তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, তার হয়তো ফুড পয়জনিং বা পেট খারাপ হয়েছে। মধ্য জানুয়ারিতে গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতে পারেন ২২ বছরের টিয়া ফ্রিম্যান। কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, এত তাড়াতাড়ি সন্তানের জন্ম হতে পারে।

প্রথম যখন তিনি বুঝতে পারেন, মা হতে চলেছেন তিনি, সেই সময় সম্পর্কে টিয়া বলছেন, আমার ওজন মাত্র পাঁচ কেজি বেড়েছিল, তাই সেটা দেখে বোঝার কোনও উপায় ছিল না যে, আমার পেটে সন্তান এসেছে।

কিন্তু গর্ভধারণের অন্যসব লক্ষণ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন মা হতে চলেছেন তিনি। এই তথ্য জানার পরেও তিনি সেটি কাউকে জানাননি। বরং জার্মানিতে একটি সফরে যান। ১৪ ঘণ্টার ওই সফরে তার সব কিছু পাল্টে যায়।

পেটে ব্যথা শুরু হলে টিয়া ভেবেছিলেন, তার হয়তো খাবার খেয়ে পেট খারাপ হয়েছে। কিন্তু ট্রানজিট হিসাবে তুরস্কে নামার পর থেকে তার বমিও হতে শুরু করে। তখন তিনি গুগলে সার্চ করে লক্ষণগুলো দেখে বুঝতে পারেন যে, তার প্রসব বেদনা শুরু হয়েছে। তুরস্কের একটি হোটেলে ওঠার পর তিনি বুঝতে পারছিলেন না, ঠিক কি করা উচিত।

তিনি বলেন, `হোটেল রুমে বসে বুঝতে পারছিলাম, আমার প্রসব বেদনা উঠেছে। আমি অন্য একটি দেশে আছি, যেখানে কেউ ইংরেজি বলে না, এখানকার জরুরী নম্বরও জানি না। বুঝতেই পারছিলাম না কি করা উচিত।’

তারপরে তিনি চিকিৎসককে না ডেকে বরং ইউটিউবের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হোটেল রুমের বাথটাবটি গরম পানি দিয়ে ভর্তি করে নেন। কয়েকটি টাওয়েল কাছে নেন এবং ইন্টারনেট দেখে প্রসবের উপযোগীভাবে বাথটাবে বসেন। এরপর তিনি পেটে চাপ দিতে শুরু করেন।

টিয়া বলছেন, ‘আমি জীবনে আর কখনো কোন কিছুতে এতো ব্যথা অনুভব করিনি। আমার সন্তানের জন্ম খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যায়।

এরপর শিশুর সঙ্গে লেগে থাকা অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ডটি তিনি নিজেই কেটে ফেলেন। এরপর জুতার ফিতা দিয়ে সেটি আটকে দেন। অবশ্য তার আগে ফিতাটি তিনি গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিয়েছেন।

টিয়া বলছেন, সব হোটেল রুমেই গরম পানির বৈদ্যুতিক কেটলি থাকে। পানি গরম করে আগে ফিতাটি জীবাণুমুক্ত করে নিয়েছি। এরপর সেটি একটি ক্লাম্পের মতো ব্যবহার করেছি। তিনি তার ছেলের নাম রেখেছেন ‘জাভিয়ের’।

পরদিন যখন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুকে নিয়ে তিনি পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে যান, তখন বিমানবন্দরের কর্মীরা চমকে যায়।

তিনি জানান, তারা ভেবেছিল আমি মানব পাচারকারী, যে একটি শিশুকে পাচার করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু তিনি তা নন, এটা প্রমাণিত হওয়ার পর টার্কিশ এয়ারলাইন্স টিয়া ফ্রিম্যানকে ইস্তানবুলের একটি হোটেলে দুই সপ্তাহ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়েছে। জাভিয়ারের বয়স এখন একমাস। সে আর তার মা, দুজনেই পুরোপুরি সুস্থ।