ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছেন, ক্ষমা চান: ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেল শিশু, চলছে উদ্ধার চেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে সব মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

প্রাকৃতিক প্রতিশোধের শিকার বিএনপি: আমানুল্লাহ কবীর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ভুল করেছে বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর। এ কারণে দলটি এখন প্রাকৃতিক প্রতিশোধের শিকার বলে মনে করেন বিএনপিপন্থী এই সাংবাদিক।

আমানুল্লাহ কবির বলেন, ‘কিছুটা প্রাকৃতিক প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। বিএনপি যে একটি ভুল করেছে গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে, এর খেসারত এখন দিচ্ছে দলটি।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি মনের দুঃখে ১০০ তলার উপর থেকে লাফ দেয়, পরে ৪০ তলায় নেমে যদি তার আত্মোপলব্ধি হয় আরে আত্মহত্যার কোনো মানে নেই, তার কি ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগে আছে?’

রবিবার মধ্যরাতে বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনামূলক অনুষ্ঠান ‘নিউজ অ্যান্ড ভিউজে’ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় তার সঙ্গে আরও অংশ নেন বিশিষ্ট স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক ইয়াসির ইয়ামীন।

রাজনীতিতে ‘প্রাকৃতিক প্রতিশোধের’ বিষয়টি স্বীকার করেন মোবাশ্বের হোসেনও। সরকারি দল আওয়ামী লীগও এর শিকার হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে হামলা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল ও মারামারিকে তিনি প্রাকৃতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন।

ব্যক্তিগত চিকিৎসককে না দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সিটি নির্বাচনে কারচুপি হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি। এ প্রসঙ্গে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপার সেনসেটিভ ব্যাপার। এটা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। সরকার বারবার জেল কোডের কথা বলছে। জেল কোডে কোনো ব্যক্তিগত কাজের লোক দেওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে যে কাজের লোক দেওয়া হয়েছে সেখানে কী জেল কোড সংশোধন করা হয়েছে। রোগী যদি চিকিৎসা নিয়ে আপত্তি করেন তাহলে তিনি সুস্থ হবেন না। আপনি যদি কাজের লোক দিতে পারেন তাহলে তার পছন্দমত হাসপাতালে দিতে পারবেন না কেন?’

‘এটা একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার। তার প্রতি সরকার অমানবিক না ঠিক আছে, তাহলে ওনার অভিযোগটার কী হবে। আমিও বাতের রোগী। এর যে কী কষ্ট আমি তা জানি। এখানে সুযোগ রয়েছে সরকার ইচ্ছা করলে পারে।’

এ প্রসঙ্গে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দুইটি দিক থাকা উচিত। আমি যদি টেবিলের অপর প্রান্তে থাকি আমার সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা হয় তাহলে আমি কী করতাম। আওয়ামী লীগকে এইভাবে বিবেচনা করতে হবে, আজকে আমার নেত্রী যদি জেলে থাকত, তাকে যদি এই চিকিৎসা দেওয়া হতো, তখন সরকার যদি এই ধরনের কথা বলত তাহলে আমরা কীভাবে নিতাম।’

জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘আপনার সরকার আপনার দল যেখানে মানবিক হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করছে সেই সরকার যখন এমন অমানবিক কাজ করে, একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করে ইতিহাসে এর মূল্যায়ন কী হবে?’

‘আ.লীগের কাছ থেকে বিএনপিকে আন্দোলন শিখতে হবে’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘আর বিএনপি কী আন্দোলন করবে সেটাতো আমরা দেখেছি। তাদের নেত্রী যে জেলে গেছে তারা তখন কী করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে শেখ হাসিনা জেলে গেলে দেখা যেত যে কত দিন হাসিনা জেলে থাকেন আর কত দিন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকেন। এখানে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে বিএনপির আন্দোলন শিখতে হবে।’

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরশেন নির্বাচনে কী হবে কী হবে না তা আমি জানি না। এখন এখানে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা সমান সুযোগ পাচ্ছেন কী না। আর যারা ভোট দেবেন তারা তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কী না- এই দুইটি বিষয় নিশ্চিত করে পারলে যে রেজাল্ট হবে সেটা সবাই মেনে নেবে।’

‘এমন ক্ষমতাহীন মেয়র আর কোথাও দেখিনি’

ঢাকা শহরে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি বলে জানান বিশিষ্ট স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে আমরা ছিলাম। তখন মেয়র আনিসুল হক বেঁচে ছিলেন। সেখানে তিনজন মন্ত্রী এবং ঢাকার জনসেবার সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই ছিলেন। সেখানে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওয়াসা খাল এবং ড্রেনের ব্যবস্থা পুরোটা সিটি করপোরেশনের কাছে হ্যান্ডওভার করা। কিন্তু মেয়র সাহেব সেই দায়িত্ব নিতে চাননি।’

‘পৃথিবীর একটি মাত্র দেশ আমি খুঁজে বের করতে পেরেছি মেয়রের কোনো ক্ষমতা নেই। লাইট বদলানোর ক্ষমতা মেয়রের রয়েছে, কিন্তু লাইটের ল্যাম্পপোস্ট সরানোর কোনো ক্ষমতা মেয়রের নেই। মেয়র সাহেবরা রাতে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে পারেন না।’

মোবাশ্বের বলেন, ‘সেই সভায় আরেকটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাস্তায় বৃষ্টির যে পানি জমে সেই পানি বাড়ির মালিক পাইপ দিয়ে বের করে দেবেন। কিন্তু সেই কাজও করা হয়নি।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, ‘ওনার (মোবাশ্বির) কথা থেকে একটি জিনিস খুব স্পষ্ট পলিটিক্যাল উইলিং বলে একটি কথা আছে। এখন পলিটিক্যাল উইলিংটা তাদের আছে কি না। সেই জায়গাটায় ব্যত্যয় ঘটেছে। খাল উদ্ধারের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে ওয়াসার লোক সেই টাকার সন্ধান পাচ্ছে না। যেখানে গুড়ের সন্ধান পাবে সেখানেই পিঁপড়া যাবে। ওয়াসার ব্যাপারটা বিচ্ছিন্ন না। সড়কের ব্যাপারেও যদি বলি সেখানেও একই অবস্থা। এ কারণেই সিটি গভর্নমেন্টের ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা নেই। এখন সিটি গভর্নমেন্ট থাকলে ওয়াসা, ট্রাফিক পুলিশ, ট্রান্সপোর্ট, রাস্তা তাদের অধীনে থাকত। এগুলো তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।’

আমরা একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে যাবার যে পথযাত্রায় রয়েছি, যে যোগ্যতার স্বীকৃতি অর্জন করেছি, এটি ধারাবাহিক না থাকলে পুনর্মূল্যায়নে আমরা কোথায় দাঁড়াব? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘এখানেতো স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে ছয় বছরের মধ্যে আমাদেরকে ওই জায়গায় যেতে হবে। ছয় বছরের ভেতরে যে ধারায় অগ্রগতি হচ্ছে সেই ধারা ধরে রাখার জন্য আমাদের নতুন করে কতগুলো চেষ্টা করতে হবে। পরের ধাপটা না দিতে পারলে হবে না। সেই জিনিসটা মাথায় না রাখলে হবে না।

ধারাবাহিকতা যদি না থকে উন্নয়নের যে সূচকগুলোতে আমরা অর্জন করেছি তা ধরে রাখতে পারবো না।’ ‘পানি জমছে, বিদ্যুতের তাড় ছিঁড়ে পড়ছে, এতটা হযবরল অবস্থা আমাদের রাজধানীর মতো আর কোনো দেশে আছে?’

‘একটু সচেতন হলেই বজ্রপাত থেকে বাঁচা সম্ভব’

আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এখন এপ্রিল মাস চলছে, অথচ রাতে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমেছে। প্রতি বছর দুই থেকে তিনশ মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাচ্ছে। আগে তাল গাছ ছাড়া গ্রামের কথা ভাবা যেত না। এখন তাল গাছ নেই। কেন নেই? এখন তাল গাছ ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়। কারণ তাল গাছ প্রচুর তাপ উৎপন্ন করতে পারে। আগে তা ব্যবহার করা হতো ঘরের চালের টানা দেওয়ার জন্য।’

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে তাল গাছ লাগানো যেতে পারে। বিদ্যুৎ যে জায়গাগুলোতে আকর্ষণ করতে পারে সেই জায়গাগুলোতে তাল গাছের বিরাট অবদান ছিল। সারাদেশে এখন মোবাইল টাওয়ার রয়েছে। সেগুলো সব আরতিং করা। বিদ্যুতের লাইন রয়েছে সেগুলো সব আরতিং করা। বজ্রপাতে এর প্রভাব রয়েছে।’

‘আমাদের দেশে এখন সবার হাতেই মোবাইল রয়েছে। মোবাইলে আবহাওয়া অফিসের অ্যাপস রয়েছে, সেখানে আবহাওয়া অফিস তাদের তথ্য আপডেট করে থাকে। কোথায় কখন ঝড় বৃষ্টি হবে সেই তথ্য দেওয়া থাকে। সেই অবস্থায় খোলা মাঠে গাছের নিচে যাতে না থাকা হয়। একটু সচেতন থাকলেই বজ্রপাত থেকে বাঁচা সম্ভব।’

‘বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। শহরে এসব ঘটনা কম। কিন্তু গ্রামে মানুষকে নিজ থেকে একটু সাবধানে থাকতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাকৃতিক প্রতিশোধের শিকার বিএনপি: আমানুল্লাহ কবীর

আপডেট সময় ০৬:১০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ভুল করেছে বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর। এ কারণে দলটি এখন প্রাকৃতিক প্রতিশোধের শিকার বলে মনে করেন বিএনপিপন্থী এই সাংবাদিক।

আমানুল্লাহ কবির বলেন, ‘কিছুটা প্রাকৃতিক প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। বিএনপি যে একটি ভুল করেছে গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে, এর খেসারত এখন দিচ্ছে দলটি।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি মনের দুঃখে ১০০ তলার উপর থেকে লাফ দেয়, পরে ৪০ তলায় নেমে যদি তার আত্মোপলব্ধি হয় আরে আত্মহত্যার কোনো মানে নেই, তার কি ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগে আছে?’

রবিবার মধ্যরাতে বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনামূলক অনুষ্ঠান ‘নিউজ অ্যান্ড ভিউজে’ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় তার সঙ্গে আরও অংশ নেন বিশিষ্ট স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক ইয়াসির ইয়ামীন।

রাজনীতিতে ‘প্রাকৃতিক প্রতিশোধের’ বিষয়টি স্বীকার করেন মোবাশ্বের হোসেনও। সরকারি দল আওয়ামী লীগও এর শিকার হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে হামলা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল ও মারামারিকে তিনি প্রাকৃতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন।

ব্যক্তিগত চিকিৎসককে না দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সিটি নির্বাচনে কারচুপি হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি। এ প্রসঙ্গে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপার সেনসেটিভ ব্যাপার। এটা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। সরকার বারবার জেল কোডের কথা বলছে। জেল কোডে কোনো ব্যক্তিগত কাজের লোক দেওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে যে কাজের লোক দেওয়া হয়েছে সেখানে কী জেল কোড সংশোধন করা হয়েছে। রোগী যদি চিকিৎসা নিয়ে আপত্তি করেন তাহলে তিনি সুস্থ হবেন না। আপনি যদি কাজের লোক দিতে পারেন তাহলে তার পছন্দমত হাসপাতালে দিতে পারবেন না কেন?’

‘এটা একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার। তার প্রতি সরকার অমানবিক না ঠিক আছে, তাহলে ওনার অভিযোগটার কী হবে। আমিও বাতের রোগী। এর যে কী কষ্ট আমি তা জানি। এখানে সুযোগ রয়েছে সরকার ইচ্ছা করলে পারে।’

এ প্রসঙ্গে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দুইটি দিক থাকা উচিত। আমি যদি টেবিলের অপর প্রান্তে থাকি আমার সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা হয় তাহলে আমি কী করতাম। আওয়ামী লীগকে এইভাবে বিবেচনা করতে হবে, আজকে আমার নেত্রী যদি জেলে থাকত, তাকে যদি এই চিকিৎসা দেওয়া হতো, তখন সরকার যদি এই ধরনের কথা বলত তাহলে আমরা কীভাবে নিতাম।’

জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘আপনার সরকার আপনার দল যেখানে মানবিক হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করছে সেই সরকার যখন এমন অমানবিক কাজ করে, একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করে ইতিহাসে এর মূল্যায়ন কী হবে?’

‘আ.লীগের কাছ থেকে বিএনপিকে আন্দোলন শিখতে হবে’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘আর বিএনপি কী আন্দোলন করবে সেটাতো আমরা দেখেছি। তাদের নেত্রী যে জেলে গেছে তারা তখন কী করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে শেখ হাসিনা জেলে গেলে দেখা যেত যে কত দিন হাসিনা জেলে থাকেন আর কত দিন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকেন। এখানে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে বিএনপির আন্দোলন শিখতে হবে।’

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরশেন নির্বাচনে কী হবে কী হবে না তা আমি জানি না। এখন এখানে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা সমান সুযোগ পাচ্ছেন কী না। আর যারা ভোট দেবেন তারা তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কী না- এই দুইটি বিষয় নিশ্চিত করে পারলে যে রেজাল্ট হবে সেটা সবাই মেনে নেবে।’

‘এমন ক্ষমতাহীন মেয়র আর কোথাও দেখিনি’

ঢাকা শহরে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি বলে জানান বিশিষ্ট স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে আমরা ছিলাম। তখন মেয়র আনিসুল হক বেঁচে ছিলেন। সেখানে তিনজন মন্ত্রী এবং ঢাকার জনসেবার সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই ছিলেন। সেখানে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওয়াসা খাল এবং ড্রেনের ব্যবস্থা পুরোটা সিটি করপোরেশনের কাছে হ্যান্ডওভার করা। কিন্তু মেয়র সাহেব সেই দায়িত্ব নিতে চাননি।’

‘পৃথিবীর একটি মাত্র দেশ আমি খুঁজে বের করতে পেরেছি মেয়রের কোনো ক্ষমতা নেই। লাইট বদলানোর ক্ষমতা মেয়রের রয়েছে, কিন্তু লাইটের ল্যাম্পপোস্ট সরানোর কোনো ক্ষমতা মেয়রের নেই। মেয়র সাহেবরা রাতে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে পারেন না।’

মোবাশ্বের বলেন, ‘সেই সভায় আরেকটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাস্তায় বৃষ্টির যে পানি জমে সেই পানি বাড়ির মালিক পাইপ দিয়ে বের করে দেবেন। কিন্তু সেই কাজও করা হয়নি।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে আমানুল্লাহ কবীর বলেন, ‘ওনার (মোবাশ্বির) কথা থেকে একটি জিনিস খুব স্পষ্ট পলিটিক্যাল উইলিং বলে একটি কথা আছে। এখন পলিটিক্যাল উইলিংটা তাদের আছে কি না। সেই জায়গাটায় ব্যত্যয় ঘটেছে। খাল উদ্ধারের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে ওয়াসার লোক সেই টাকার সন্ধান পাচ্ছে না। যেখানে গুড়ের সন্ধান পাবে সেখানেই পিঁপড়া যাবে। ওয়াসার ব্যাপারটা বিচ্ছিন্ন না। সড়কের ব্যাপারেও যদি বলি সেখানেও একই অবস্থা। এ কারণেই সিটি গভর্নমেন্টের ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা নেই। এখন সিটি গভর্নমেন্ট থাকলে ওয়াসা, ট্রাফিক পুলিশ, ট্রান্সপোর্ট, রাস্তা তাদের অধীনে থাকত। এগুলো তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।’

আমরা একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে যাবার যে পথযাত্রায় রয়েছি, যে যোগ্যতার স্বীকৃতি অর্জন করেছি, এটি ধারাবাহিক না থাকলে পুনর্মূল্যায়নে আমরা কোথায় দাঁড়াব? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘এখানেতো স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে ছয় বছরের মধ্যে আমাদেরকে ওই জায়গায় যেতে হবে। ছয় বছরের ভেতরে যে ধারায় অগ্রগতি হচ্ছে সেই ধারা ধরে রাখার জন্য আমাদের নতুন করে কতগুলো চেষ্টা করতে হবে। পরের ধাপটা না দিতে পারলে হবে না। সেই জিনিসটা মাথায় না রাখলে হবে না।

ধারাবাহিকতা যদি না থকে উন্নয়নের যে সূচকগুলোতে আমরা অর্জন করেছি তা ধরে রাখতে পারবো না।’ ‘পানি জমছে, বিদ্যুতের তাড় ছিঁড়ে পড়ছে, এতটা হযবরল অবস্থা আমাদের রাজধানীর মতো আর কোনো দেশে আছে?’

‘একটু সচেতন হলেই বজ্রপাত থেকে বাঁচা সম্ভব’

আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এখন এপ্রিল মাস চলছে, অথচ রাতে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমেছে। প্রতি বছর দুই থেকে তিনশ মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাচ্ছে। আগে তাল গাছ ছাড়া গ্রামের কথা ভাবা যেত না। এখন তাল গাছ নেই। কেন নেই? এখন তাল গাছ ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়। কারণ তাল গাছ প্রচুর তাপ উৎপন্ন করতে পারে। আগে তা ব্যবহার করা হতো ঘরের চালের টানা দেওয়ার জন্য।’

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে তাল গাছ লাগানো যেতে পারে। বিদ্যুৎ যে জায়গাগুলোতে আকর্ষণ করতে পারে সেই জায়গাগুলোতে তাল গাছের বিরাট অবদান ছিল। সারাদেশে এখন মোবাইল টাওয়ার রয়েছে। সেগুলো সব আরতিং করা। বিদ্যুতের লাইন রয়েছে সেগুলো সব আরতিং করা। বজ্রপাতে এর প্রভাব রয়েছে।’

‘আমাদের দেশে এখন সবার হাতেই মোবাইল রয়েছে। মোবাইলে আবহাওয়া অফিসের অ্যাপস রয়েছে, সেখানে আবহাওয়া অফিস তাদের তথ্য আপডেট করে থাকে। কোথায় কখন ঝড় বৃষ্টি হবে সেই তথ্য দেওয়া থাকে। সেই অবস্থায় খোলা মাঠে গাছের নিচে যাতে না থাকা হয়। একটু সচেতন থাকলেই বজ্রপাত থেকে বাঁচা সম্ভব।’

‘বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। শহরে এসব ঘটনা কম। কিন্তু গ্রামে মানুষকে নিজ থেকে একটু সাবধানে থাকতে হবে।’