ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

আপন চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন কামাল হোসেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্তে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে দুই দফায় জামিনের শর্ত পালন না করায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত জন্মদাতা বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে তিনি আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান। এই জালিয়াতির মাধ্যমেই তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সময় তার প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেছিলেন। তবে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর একই স্কুলে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি কৌশলে চাচা-চাচিকে নিজের বাবা-মা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে

আপডেট সময় ০৭:১১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

আপন চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন কামাল হোসেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্তে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে দুই দফায় জামিনের শর্ত পালন না করায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত জন্মদাতা বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে তিনি আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান। এই জালিয়াতির মাধ্যমেই তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সময় তার প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেছিলেন। তবে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর একই স্কুলে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি কৌশলে চাচা-চাচিকে নিজের বাবা-মা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।