অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
দুজনের জীবনের গল্প দুই রকম। একজন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। বেড়ে উঠেছেন সীমাহীন আরাম-আয়েশের মধ্যে।
আরেকজন জন্ম নিয়েছেন চিরদুঃখীর কুটিরে। বড় হয়েছেন আস্তাকুঁড়ে, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে। দুই কোরিয়ার দুই নেতা। প্রথম জন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
অন্যজন দক্ষিণ কোরিয়ার মুন জায়ে ইন। বংশতন্ত্র হিসেবে পৈতৃক সূত্রে দুজনেই উ. কোরিয়ার। একজন রাজপুত্র, অন্যজন শরণার্থীপুত্র।
দুই দেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বড় হওয়ার গল্প দুই রকম হলেও একটা বড় মিলও আছে দুজনের। দুজনেই নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অবাক করার বিষয় হচ্ছে- আগামী শুক্রবারই এক ঐতিহাসিক বৈঠকে প্রথম দেখা হবে রাজপুত্র আর শরণার্থীপুত্রের।
উত্তর কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম জং ইলের (১৯৪১-২০১১) চতুর্থ সন্তান ও কিম ইল-সাংয়ের (১৯১২-১৯৯৪) নাতি কিম জং উন।
বাবা কিম জং ইল জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান উত্তর কোরিয়ার হ্যাংনাম প্রদেশের নিকটবর্তী কোরীয়দের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত মাউন্ট পিকতু বা পিকতুর একটি গেরিলা ক্যাম্পে।
সোভিয়েত রাশিয়ার রেকর্ড মতে, ইলের বাবা কিম ইল সাং সেই সময় নির্বাসনে ছিলেন। কিমের শৈশব রহস্যঘেরা হলেও বরাবরই রাজপুত্রের বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন তিনি। বাবার তৃতীয় ঘরের সন্তান। পড়াশোনা করেন ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে।
মুন জায়ে ইনের বাবা-মায়ের জন্মও বর্তমান উত্তর কোরিয়ার হ্যাংনাম প্রদেশের এক ছোট্ট গ্রামে। মুনের বাবা মুন ইয়ং হিয়ং শহরের এক উচ্চবিদ্যালয় থেকে পাস করে স্থানীয় প্রশাসনের এক কৃষি কর্মকর্তা হন।
১৯৫০ সালে কোরীয় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে কিমের দাদা কিম ইল সাংয়ের সেনা হ্যাংনাম শহর দখল করে নেয়।
মার্কিন সেনাদের সহায়তায় আরও প্রায় এক লাখ বাসিন্দার সঙ্গে শহর ছাড়েন মুনের বাবা। আশ্রয় নেন বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার গিওজে শহরের এক শরণার্থী শিবিরে। শরণার্থী শিবিরের দক্ষিণের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্ম দেন মুনের মা।
শিক্ষিত হলেও মুনের বাবা আর চাকরি পাননি। তাই ছোট্ট একটি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
নিজের জীবনীতে মুন লিখেছেন- ‘যদিও বাবা একটি ছোট্ট দোকান চালাতেন, কিন্তু অনেকেই বলতেন- দোকান ঠিকমতো চলে না। সারাজীবন তিনি একইভাবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন।’ অনেক সময় মুনের পরিবার নির্ভর করত ক্যাথলিক চার্চ থেকে দেয়া খাবারের ওপর। বাবার আয়ে সংসার চলে না তাই মা-ও যোগ দেন কাজে।
বাবা-মায়ের অল্প আয়ের ওপর নির্ভর করে পড়াশোনা শেখেন মুন। যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। সেনাবাহিনীর সফল জীবন শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক পার্ক চুং হির সময়ে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০০৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট রো মুন হিউনের প্রধান সহযোগী হিসেবে যোগ দেন।
২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন তিনি। কিন্তু পার্ক গিউন হাইয়ের কাছে তিনি হেরে যান। দুর্নীতির দায়ে গত বছর পার্ক অভিশংসিত হলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























