ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রথীশের পরকীয়ার কথা বলতে গিয়ে সহকর্মীর প্রেমে পড়েন দীপা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইনজবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে স্ত্রীকেও প্রায় সময় মারধর করতেন। দীপা ভৌমিক নিজের এ কষ্টের কথা বলতেন সহকর্মী কামরুল ইসলাম জাফরির কাছে। কথা বলতে বলতে তারা প্রেমাসক্ত হয়ে পড়েন। স্বামী রথীশকে হত্যার কথা স্বীকার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এমন দাবি করেছেন দীপা।

তিনি বলেন, রথীশ একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। তাকে অবজ্ঞা-অসম্মান করত। শুধু তাই নয়, তার বিবাহিত জীবন ছিল অশান্তিতে ভরা। পরস্পরকে কেউ বিশ্বাস করত না। তাকে অবিশ্বাস করায় সেও স্বামীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি। তাকে প্রায় মারধর করা হতো। এ ব্যাপারে বাড়িতে স্বজনদের নিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়। এ কারণে তাদের মধ্যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এসব কষ্টের কথা দীপা তার সহকর্মী জাফরিকে জানাত। এ নিয়ে আলোচনা করায় তারা প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ে। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে দেয়া ১২ পাতার জবানবন্দিতে পারিবারিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দীপা। উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাতে ১০টি ঘুমের বড়ি দিয়ে আইনজীবী রথীশকে অচেতন করে প্রেমিক জাফরির সহযোগিতায় হত্যা করেন দীপা।

তিনি পুলিশকে জানান, রথীশকে খুন করার জন্য প্রেমিক জাফরি দু’ঘণ্টা আগে থেকেই তার শোয়ার ঘরের পেছনের দরজার কাছে ঘরের বাইরে অবস্থান নিয়েছিল। ঘুমের বড়ি খাওয়ানোর ফলে আইনজীবী রথীশ তার মেয়েসহ ঘুমে অচতেন হয়ে পড়েন। পরে রথীশের গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

রাতভর লাশ ঘরে রেখে ৩১ মার্চ ভোর ৫টার দিকে বাড়ি থেকে লাশ বহনের জন্য রিকশা-ভ্যান আনতে যান প্রেমিক জাফরি। সকাল সাড়ে ৯টায় একটি মাঝারি ধরনের স্টিলের আলমারির ভেতরে লাশ ঢুকিয়ে সেটি ভ্যান গাড়িতে তুলে তাজহাট মোল্লাপাড়ায় নিয়ে যান জাফরি। সেখানে আগে থেকেই খুঁড়ে রাখা গর্তে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় রথীশের লাশ। মাটি খুঁড়ে গর্ত করা ও মাটিচাপা দিতে দুই ছাত্রকে ব্যবহার করে ঘাতক কামরুল ও দীপা। এজন্য তাদের ৩০০ টাকা মজুরি দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রথীশের পরকীয়ার কথা বলতে গিয়ে সহকর্মীর প্রেমে পড়েন দীপা

আপডেট সময় ১১:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আইনজবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে স্ত্রীকেও প্রায় সময় মারধর করতেন। দীপা ভৌমিক নিজের এ কষ্টের কথা বলতেন সহকর্মী কামরুল ইসলাম জাফরির কাছে। কথা বলতে বলতে তারা প্রেমাসক্ত হয়ে পড়েন। স্বামী রথীশকে হত্যার কথা স্বীকার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এমন দাবি করেছেন দীপা।

তিনি বলেন, রথীশ একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। তাকে অবজ্ঞা-অসম্মান করত। শুধু তাই নয়, তার বিবাহিত জীবন ছিল অশান্তিতে ভরা। পরস্পরকে কেউ বিশ্বাস করত না। তাকে অবিশ্বাস করায় সেও স্বামীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি। তাকে প্রায় মারধর করা হতো। এ ব্যাপারে বাড়িতে স্বজনদের নিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়। এ কারণে তাদের মধ্যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এসব কষ্টের কথা দীপা তার সহকর্মী জাফরিকে জানাত। এ নিয়ে আলোচনা করায় তারা প্রেমাসক্ত হয়ে পড়ে। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে দেয়া ১২ পাতার জবানবন্দিতে পারিবারিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দীপা। উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাতে ১০টি ঘুমের বড়ি দিয়ে আইনজীবী রথীশকে অচেতন করে প্রেমিক জাফরির সহযোগিতায় হত্যা করেন দীপা।

তিনি পুলিশকে জানান, রথীশকে খুন করার জন্য প্রেমিক জাফরি দু’ঘণ্টা আগে থেকেই তার শোয়ার ঘরের পেছনের দরজার কাছে ঘরের বাইরে অবস্থান নিয়েছিল। ঘুমের বড়ি খাওয়ানোর ফলে আইনজীবী রথীশ তার মেয়েসহ ঘুমে অচতেন হয়ে পড়েন। পরে রথীশের গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

রাতভর লাশ ঘরে রেখে ৩১ মার্চ ভোর ৫টার দিকে বাড়ি থেকে লাশ বহনের জন্য রিকশা-ভ্যান আনতে যান প্রেমিক জাফরি। সকাল সাড়ে ৯টায় একটি মাঝারি ধরনের স্টিলের আলমারির ভেতরে লাশ ঢুকিয়ে সেটি ভ্যান গাড়িতে তুলে তাজহাট মোল্লাপাড়ায় নিয়ে যান জাফরি। সেখানে আগে থেকেই খুঁড়ে রাখা গর্তে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় রথীশের লাশ। মাটি খুঁড়ে গর্ত করা ও মাটিচাপা দিতে দুই ছাত্রকে ব্যবহার করে ঘাতক কামরুল ও দীপা। এজন্য তাদের ৩০০ টাকা মজুরি দেয়া হয়।