অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে মন্তব্য করেছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ের্তে। তিনি বলেছেন, এ গণহত্যা থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতেও তার দেশ প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশটির কৃষক ও কৃষি দফতরের কর্মকর্তাদের জন্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হওয়ার পর মালয়েশিয়া বাদে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো অনেকটাই চুপ ছিল। গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শেষ হওয়া আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলণেও এ নিয়ে তেমন কথা হয়নি।
আসিয়ান সম্মেলণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। রাখাইনের অস্থিরতাকে কেবলই একটি অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও সেসময় মন্তব্য করেন নাজিব রাজাক।
আসিয়ানের সম্মেলণ চলাকালে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে। সিডনিতে সু চির প্রকাশ্য ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সেটিও বাতিল করা হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আসিয়ানের অন্যতম দেশ ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের রোহিঙ্গা নিয়ে বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে বিশ্লেষকগণ।
রোহিঙ্গাদের জন্য নিজেকে সমব্যথী উল্লেখ করে রদ্রিগো দুয়ের্তে বলেন, ‘আমি তাদের (রোহিঙ্গা) জন্য হ্যাঁ বলব, তাদের সাহায্য করব। আমি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে চাই।’
রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপেরও দায়িত্ব রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদেরও রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা উচিত। আমাদের উচিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইউরোপের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া।
‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘তারা (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) এমনকি রোহিঙ্গা সংকটেরও সমাধান করতে পারে না।’
এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার ব্যাপারে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র জ হতে বলেছেন, তার (দুয়ের্তে) বক্তব্যে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। মিয়ানমার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত আরসার হামলার ধুয়ো তুলে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নৃশংসতা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা ‘সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন নির্যাতন নিপীড়ন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে আনুমানিক ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বর্তমানে তারা কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো মিয়ানমার অসম্ভব করে তুলেছে। সেখানে (রাখাইন) রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবার মতো কোনো নিরাপদ পরিস্থিতিও নেই।
রোহিঙ্গা নিধণের ঘটনাকে মিয়ানামেরর পূর্বপরিকল্পিত এবং সেখানে (রাখাইন) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে আসছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহারণ’ বলেও আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























