ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস দক্ষিণ আফ্রিকার

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৪৯২ রানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার জোহানেসবার্গে ৪ টেস্টের সিরিজটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কোন টেস্ট সিরিজ জিতল প্রোটিয়ারা। রানের হিসেবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় এবং টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ বৃহত্তম জয়। এর আগে জোহানেসবার্গেই ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডকে ৩৫৮ রানে হারিয়েছিল তারা। আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য দ্বিতীয় বড় ব্যবধানের হার। তাদের সবচেয়ে বড় হার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ৬৭৫ রানের, ১৯২৮ সালে। যেটি টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারও। এদিন চতুর্থ ইনিংসে ৬১২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারনন ফিল্যান্ডারের তোপের মুখে ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফিল্যান্ডার। আর সিরিজ সেরা হয়েছেন কাগিসো রাবাদা।

নানা ঘটনায় সিরিজটি শুরু থেকেই আলোচিত ছিল। তবে সব আলোচনা ছাড়িয়ে যায় কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়ানদের বল ট্যাম্পারিংয়ের ঘটনায়। যা বিপুল আলোড়ন তোলে ক্রিকেট বিশ্বে। অস্ট্রেলিয়া প্রবেশ করে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়ে। প্রথম তিন টেস্টে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ানদের সিরিজে সমতা ফিরতে ওয়ান্ডারার্স টেস্টে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। কিন্তু বল ট্যাম্পারিং কেলেঙ্কারিতে বিধ্বস্ত টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল চতুর্থ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল।

চতুর্থ দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রানের পুঁজি নিয়ে এদিন মাঠে নামে অজিরা। কিন্তু স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে এদিন মাত্র ৩১ রান যোগ করতেই অবশিষ্ট ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। এ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছেন জো ব্রুন্স। পিটার হ্যান্ডসকম্ব করেছেন ২৪ রান। এছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই দুই অংকের ঘরে যেতে পারেননি। ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বধে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফিল্যান্ডার।

এ আগে সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ৩৪৪ রান করে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়ারা ২৬৭ রানের লিড পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্যটা তাই ৬১২ রানের পাহাড়ে পরিণত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের প্রথম ইনিংসে করে ৪৮৮ রান। বিপরীতে বল ট্যাম্পারিংকাণ্ডে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ২২১ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৪৮৮ (১৩৬.৫ ওভার)।

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২২১ (৭০ ওভার)।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৩৪৪/৬ (ইনিংস ঘোষণা) (১০৫ ওভার) (মারকরাম ৩৭, এলগার ৮১, আমলা ১৬, ডি ভিলিয়ার্স ৬, ডু প্লেসি ১২০, বাভুমা ৩৫*, ডি কক ৪, ফিল্যান্ডার ৩৩*; হ্যাজলউড ০/৪১, সেয়ার্স ০/৬৮, লায়ন ২/১১৬, কামিন্স ৪/৫৮, মিচেল ০/৪০, রেনশ ০/৯)।

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ১১৯ (৪৬.৪ ওভার) (রেনশ ৫, বার্নস ৪২, খাজা ৭, হ্যান্ডসকম্ব ২৪, শন ৭, মিচেল মার্শ ০, পেইন ৭, কামিন্স ১, লায়ন ৯, সেয়ার্স ০, হ্যাজলউড ৯*; রাবাদা ০/১৬, ফিল্যান্ডার ৬/২১, মহারাজ ১/৪৭, মরকেল ২/২৮, মারকরাম ০/৬)।

ফলাফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯২ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ভারনন ফিল্যান্ডার।

ম্যান অব দ্য সিরিজ : কাগিসো রাবাদা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস দক্ষিণ আফ্রিকার

আপডেট সময় ০৮:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৪৯২ রানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার জোহানেসবার্গে ৪ টেস্টের সিরিজটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কোন টেস্ট সিরিজ জিতল প্রোটিয়ারা। রানের হিসেবে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় এবং টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ বৃহত্তম জয়। এর আগে জোহানেসবার্গেই ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডকে ৩৫৮ রানে হারিয়েছিল তারা। আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য দ্বিতীয় বড় ব্যবধানের হার। তাদের সবচেয়ে বড় হার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ৬৭৫ রানের, ১৯২৮ সালে। যেটি টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারও। এদিন চতুর্থ ইনিংসে ৬১২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারনন ফিল্যান্ডারের তোপের মুখে ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফিল্যান্ডার। আর সিরিজ সেরা হয়েছেন কাগিসো রাবাদা।

নানা ঘটনায় সিরিজটি শুরু থেকেই আলোচিত ছিল। তবে সব আলোচনা ছাড়িয়ে যায় কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়ানদের বল ট্যাম্পারিংয়ের ঘটনায়। যা বিপুল আলোড়ন তোলে ক্রিকেট বিশ্বে। অস্ট্রেলিয়া প্রবেশ করে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়ে। প্রথম তিন টেস্টে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ানদের সিরিজে সমতা ফিরতে ওয়ান্ডারার্স টেস্টে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। কিন্তু বল ট্যাম্পারিং কেলেঙ্কারিতে বিধ্বস্ত টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল চতুর্থ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল।

চতুর্থ দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রানের পুঁজি নিয়ে এদিন মাঠে নামে অজিরা। কিন্তু স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে এদিন মাত্র ৩১ রান যোগ করতেই অবশিষ্ট ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। এ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছেন জো ব্রুন্স। পিটার হ্যান্ডসকম্ব করেছেন ২৪ রান। এছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই দুই অংকের ঘরে যেতে পারেননি। ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বধে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফিল্যান্ডার।

এ আগে সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ৩৪৪ রান করে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়ারা ২৬৭ রানের লিড পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্যটা তাই ৬১২ রানের পাহাড়ে পরিণত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের প্রথম ইনিংসে করে ৪৮৮ রান। বিপরীতে বল ট্যাম্পারিংকাণ্ডে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ২২১ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৪৮৮ (১৩৬.৫ ওভার)।

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২২১ (৭০ ওভার)।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৩৪৪/৬ (ইনিংস ঘোষণা) (১০৫ ওভার) (মারকরাম ৩৭, এলগার ৮১, আমলা ১৬, ডি ভিলিয়ার্স ৬, ডু প্লেসি ১২০, বাভুমা ৩৫*, ডি কক ৪, ফিল্যান্ডার ৩৩*; হ্যাজলউড ০/৪১, সেয়ার্স ০/৬৮, লায়ন ২/১১৬, কামিন্স ৪/৫৮, মিচেল ০/৪০, রেনশ ০/৯)।

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ১১৯ (৪৬.৪ ওভার) (রেনশ ৫, বার্নস ৪২, খাজা ৭, হ্যান্ডসকম্ব ২৪, শন ৭, মিচেল মার্শ ০, পেইন ৭, কামিন্স ১, লায়ন ৯, সেয়ার্স ০, হ্যাজলউড ৯*; রাবাদা ০/১৬, ফিল্যান্ডার ৬/২১, মহারাজ ১/৪৭, মরকেল ২/২৮, মারকরাম ০/৬)।

ফলাফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯২ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ভারনন ফিল্যান্ডার।

ম্যান অব দ্য সিরিজ : কাগিসো রাবাদা।