অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিরোধী দলের রাজনীতি কবে কখন কোথায় সরকার করে দিয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকারের অনুমতি নিয়ে বিরোধীদলের রাজনীতি হয় না। সাংগঠনিক শক্তি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায় করতে হয়। আওয়ামী লীগ অতীতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন করে সব দাবি আদায় করেছে।’
বুধবার রাতে সময় টিভিতে ‘অনুমতির অপেক্ষা’ শিরোনামের টক শো’তে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ করিব। টক শোটি সঞ্চালনা করেন এহসান জুয়েল।
জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিএনপিকে রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এ দাবি অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি জননিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে কি না প্রশ্নে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের অনুমতি নিয়ে যদি বিরোধী দলের রাজনীতি করতে হয়, তাহলে সেটা স্বাভাবিকভাবে সরকারকেই সুযোগ দিচ্ছেন আপনকে নিয়ন্ত্রণ করার।’
কিন্তু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই তো অনুমতি নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর’ সঞ্চালকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কথাটি যদি বলেন তাহলে ২০১৩, ২০২৪, ২০১৫ সালে দেশব্যপী যে সন্ত্রাস চালালেন, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারলেন। তখন আইন কোথায় ছিল? তখন আইন মানেননি। আর অনুমতি পাচ্ছেন না বলে চিৎকার করছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার মতে, কোনো একটি দলকে অনুমতি দেয়া হয়নি মিটিং করার জন্য, এর ওপর ভিত্তি করে দেশে গণতন্ত্র নেই বলা উচিত নয়। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করে (বিএনপি) সন্ত্রাসি কার্যক্রম করবে না, তাহলে অনুমতি দিবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে আগামীতে সমাবেশ করতে দেবে না, এটা তো তারা (পুলিশ) বলেনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) র্যালি করছে, প্রতিদিন বিএনপির মহাসচিব এবং রিজভী সাহেব অফিসে বসে সরকারের বিরুদ্ধে যা খুশি তাই বলছে। জনসভায় যে কথা গুলো তারা (বিএনপি) বলতেন তা তারা প্রতিদিন বলছে। জনসভা করলে অনেক আয়োজন করতে হতো, অনেক খচর হতো। সে আয়োজন তারা করতে পারবে না কি না সেটাও বিবেচনার বিষয়।’
বিএনপির জনসভায় যা বলতো সেসব মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষের কাছে আসছে। সরকারকে সৈরস্বাশক এসবও বলছে তারা। আর নির্বাচনী প্রচারণাওতো তারা (বিএনপি) চালাচ্ছে এবং আগামীতে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে, ক্ষমতায় আসবে, এসব কথাও বলছে বলেও অভিমত একসময়কালের এ সাংবাদিক নেতার। তার মতে, বিরোধী দলকে তার নিজের শক্তিতে জনগণকে তৎপরতা যদি চালাতে হয়। তাহলে অবশ্যই সরকার চাপে থাকবে। সরকারও তখন তাদেরকে মূল্য দেবে।
১৯৯৬ সালে বিএনপির একতরফা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভোটারবিহীন সে নির্বাচনে তারা কেবিনেট গঠন করেছে। পার্লামেন্টে বসেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। যদি আন্দোলন করতে পারেন তাহলে সেই আন্দোলনে একটা ফল আসবেই। কিন্তু বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তারা অনেক কথা বলছে কিন্তু জনগনে সম্পৃক্ত করে তারা এমনে কোন আন্দোলন তৈরি করতে পারেনি।’
পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা বারবার গ্রেপ্তার করেছে, মিটিং করতে দেয়নি, কিন্তু আন্দোলন বন্ধ ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান যিনি প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলে থাকার সময় তাকে ২৪ বার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের পার্টি অফিস থেকে বের হতে দেয়া হতো না। কিন্তু আন্দোলন বন্ধ থাকেনি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে দাবি আদায় করেছে আওয়ামী লীগ।’
দেশে গণতন্ত্র কতটুকু আছে সেটা এখন প্রথম প্রশ্ন উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ করিব বলেন, ‘সকলের অংশগ্রহণ থাকলে তখনই একে গণতন্ত্র বলতে পারি। এর আর কোনো সংজ্ঞা নেই। সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এখন যদি দেশের সকল জনগণ ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবারই অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকে বা সীমিত থাকে তাহলে এটাকে কি আমরা গণতন্ত্র বলতে পারবো? যদি বলিও, তাহলে তাকে বলতে হবে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র বা লিমিটেড ডোমোক্রেসি।’
এ জ্যেষ্ট সাংবাদিকের মতে, বিএনপির সময় গণতন্ত্রের নহর বইছে সেটা যেমন কেউ বলতে পারবে না তেমনি আওয়ামী লীগের সময় নহর বইছে এটাও কেউ বলতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হলো বড় পার্টি। এখন বিএনপি যদি মিটিং মিছিল করতে না পারে। তাহলে গণতন্ত্র এখানে নিয়ন্ত্রিত বলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মুক্তভাবে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছে অথচ বিএনপিকে সে সুযোগই দেয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে আন্দোলন শিখতে হবে আওয়ামী লীগের কাছে। বিএনপির বর্তমান অবস্থায় আওয়ামী লীগ থাকলে বিএনপি দুই দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারতো না।’
সঞ্চালকের এক প্রশ্নে আইনি লড়াই দিয়ে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন বা জামিন পাবেন বলে তার মনে হয় না বলে জানান এ জ্যেষ্ট সাংবাদিক।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে বিএনপি যা বলবে, তা অন্য জায়গায় বলছে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর একথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। এই যুক্তি আওয়ামী লীগ কেন নিজেদের ওপর প্রয়োগ করছে না? তাদের সব কথাও মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে।’
অনুমতির রাজনীতির অবসান ঘটানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন মন্তব্য করে এ রাজনীতিক বলেন, ‘অনুমতির রাজনীতির অবসানের জন্যই জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সামরিক আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। অনুমতির এ বিধান উঠিয়ে দেয়া উচিত। সমাবেশ আয়োজন করতে রাজনৈতিক দলকে পথ করে দেয়া প্রশাসনের দায়িত্ব।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















