ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আলমারির ড্রয়ারে মিলল শিশুর মরদেহ, সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতে হত্যা নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী

রানির পাশে আমায় কবর দিও না: ডেনমার্কের প্রিন্স

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ডেনমার্কের প্রিন্স হেনরিক ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার স্ত্রী রানি মার্গ্রেথের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হতে চান না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, স্বামী হিসেবে তাকে রানি সমান মর্যাদা দেননি এবং এ কারণে তিনি অসুুুখী। ১৯৬৭ সালে মার্গ্রেথকে বিয়ে করেন হেনরিক। তখন তার নাম রাখা প্রিন্স কনসর্ট। কিন্তু তিনি বারবারই বলেছেন যে, তিনি রাজা কনসর্ট নামে পরিচিত হতে চান। রাজপ্রাসাদই হেনরিকের এ অভিপ্রায়ের কথা প্রকাশ করেছে।

প্রাসাদের মুখপাত্র লেনে ব্যালেভি বলেছেন, এটা গোপন করার কিছু নেই যে ড্যানিশ রাজতন্ত্র প্রিন্স হেনরিককে যে উপাধি দিয়েছে এবং তাকে যে ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাতে তিনি অসুখী ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়েছে। স্ত্রীর তাকে সমান চোখে না দেখায়, তিনি যে উপাধি চেয়েছিলেন এবং যে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন রানি তা পূরণ না করায় তার পাশে কবর না নেয়ার যে ইচ্ছা প্রিন্স হেনরিক করেছেন তা খুব স্বাভাবিক পরিণতি।

ব্যালেভি বলেছেন, হেনরিকের এ সিদ্ধান্তও রানি মেনে নিয়েছেন। প্রিন্স হেনরিক গত বছর অবসর নিয়েছেন এবং উপাধি ত্যাগ করেছেন। তার বয়স এখন ৮৩ বছর। অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি খুব কমই সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। তিনি ফ্রান্সের একটি বেসরকারি আঙুর বাগানে বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে তারা এখনও বিবাহিত এবং একই ছাদের নিচে বাস করছেন।

ডেনমার্কে ঐতিহ্যগতভাবে স্বামী রাজা হওয়ার পর রাজকুমারী রানির আসনে বসেন। আশা করা হয় রানির পাশেই প্রিন্সের কবর হবে। লন্ডনে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৩৪ সালে তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্সেস মার্গ্রেথের সঙ্গে সম্পর্ক হয় হেনরিকের। এখন মার্গ্রেথের বয়স ৭৭ বছর। ২০০৫ সালে হেনরিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডেনমার্ক লিঙ্গ সমতার দেশ। কিন্তু সেখানেই একজন তার স্বামীকে তার চেয়ে ছোট মনে করেন। এটা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সন্তানের সমান মর্যাদাও তাকে দেননি রানি। রানি মারা গেলে কোথায় সমাহিত করা হবে তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। হেনরিকের জন্ম ফ্রান্সে। মার্গ্রেথকে বিয়ের করার জন্য তাকে বাবা-মায়ের দেয়া নামটিও বাদ দিতে হয়। ছাড়তে হয় ফরাসি নাগরিকত্ব।

এছাড়া ক্যাথলিক ধর্ম ছেড়ে প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে এসেছে দুই সন্তান। কিন্তু এত দিনের সংসারেও তাদের সুুখী দম্পতির তকমা জুটল না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার

রানির পাশে আমায় কবর দিও না: ডেনমার্কের প্রিন্স

আপডেট সময় ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ডেনমার্কের প্রিন্স হেনরিক ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার স্ত্রী রানি মার্গ্রেথের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হতে চান না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, স্বামী হিসেবে তাকে রানি সমান মর্যাদা দেননি এবং এ কারণে তিনি অসুুুখী। ১৯৬৭ সালে মার্গ্রেথকে বিয়ে করেন হেনরিক। তখন তার নাম রাখা প্রিন্স কনসর্ট। কিন্তু তিনি বারবারই বলেছেন যে, তিনি রাজা কনসর্ট নামে পরিচিত হতে চান। রাজপ্রাসাদই হেনরিকের এ অভিপ্রায়ের কথা প্রকাশ করেছে।

প্রাসাদের মুখপাত্র লেনে ব্যালেভি বলেছেন, এটা গোপন করার কিছু নেই যে ড্যানিশ রাজতন্ত্র প্রিন্স হেনরিককে যে উপাধি দিয়েছে এবং তাকে যে ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাতে তিনি অসুখী ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়েছে। স্ত্রীর তাকে সমান চোখে না দেখায়, তিনি যে উপাধি চেয়েছিলেন এবং যে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন রানি তা পূরণ না করায় তার পাশে কবর না নেয়ার যে ইচ্ছা প্রিন্স হেনরিক করেছেন তা খুব স্বাভাবিক পরিণতি।

ব্যালেভি বলেছেন, হেনরিকের এ সিদ্ধান্তও রানি মেনে নিয়েছেন। প্রিন্স হেনরিক গত বছর অবসর নিয়েছেন এবং উপাধি ত্যাগ করেছেন। তার বয়স এখন ৮৩ বছর। অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি খুব কমই সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। তিনি ফ্রান্সের একটি বেসরকারি আঙুর বাগানে বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে তারা এখনও বিবাহিত এবং একই ছাদের নিচে বাস করছেন।

ডেনমার্কে ঐতিহ্যগতভাবে স্বামী রাজা হওয়ার পর রাজকুমারী রানির আসনে বসেন। আশা করা হয় রানির পাশেই প্রিন্সের কবর হবে। লন্ডনে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৩৪ সালে তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্সেস মার্গ্রেথের সঙ্গে সম্পর্ক হয় হেনরিকের। এখন মার্গ্রেথের বয়স ৭৭ বছর। ২০০৫ সালে হেনরিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডেনমার্ক লিঙ্গ সমতার দেশ। কিন্তু সেখানেই একজন তার স্বামীকে তার চেয়ে ছোট মনে করেন। এটা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সন্তানের সমান মর্যাদাও তাকে দেননি রানি। রানি মারা গেলে কোথায় সমাহিত করা হবে তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে রাখা হয়েছে। হেনরিকের জন্ম ফ্রান্সে। মার্গ্রেথকে বিয়ের করার জন্য তাকে বাবা-মায়ের দেয়া নামটিও বাদ দিতে হয়। ছাড়তে হয় ফরাসি নাগরিকত্ব।

এছাড়া ক্যাথলিক ধর্ম ছেড়ে প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে এসেছে দুই সন্তান। কিন্তু এত দিনের সংসারেও তাদের সুুখী দম্পতির তকমা জুটল না।