ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্মকে পুঁজি করে চালানো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: আমিনুল হক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর এই নির্বাচন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে: প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে আইসিসিকে ফের চিঠি বিসিবির আজাদীর বাংলাদেশ গড়তে শাপলা কলিতে ভোট দিন: হাসনাত আবদুল্লাহ প্রচারের প্রথম দিনেই বিভিন্ন স্থানে হামলা সংঘর্ষ, আহত ২০ সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না: মির্জা ফখরুল

সুলতানা কামালের অভিযোগ হাস্যকর: আইন মন্ত্রণালয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের বক্তব্যকে অবাস্তব ও হাস্যকর অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ রবিবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভূমিকা নিয়ে যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তার প্রতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। সুলতানা কামালের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

তাতে বলা হয়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর আওতায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান রয়েছে। মামলার সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ওই আইনের ১৮(১) ও (২) উপধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার বিধান রয়েছে। উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী আইনটি সফলভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। আইনমন্ত্রীর এ ক্ষেত্রে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার কোনো কারণ নেই।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়ী করে সুলতানা কামাল প্রকৃত তথ্য না জেনে মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এটি অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য, দুঃখজনক এবং ভিত্তিহীন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ১৯ ধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত বলে জানানো হয় ব্যাখ্যায়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বাধা থাকলে তা দূরীকরণে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এই ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনটির প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া কিংবা বাস্তবায়নে বাহানা তৈরি করার কোনো কারণ নেই। কাজেই সুলতানা কামালের অভিযোগ শুধু অবাস্তবই নয় হাস্যকরও বটে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, যারা ভূমিদস্যু তারা অন্যদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে অভ্যস্ত হয়ে যান। একসময়ে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা শেষ হলে তারা অন্যদের সম্পত্তিতে হাত বাড়ায়। শাস্তি না দেয়া হলে তাদের থামানো সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন সৈনিক আমরা মন্ত্রিসভায় পেয়েছি। কিন্তু তিনি রিট করা, আপিল করার নাম করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রূপে তাক লাগালেন জয়া আহসান

সুলতানা কামালের অভিযোগ হাস্যকর: আইন মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় ১১:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের বক্তব্যকে অবাস্তব ও হাস্যকর অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ রবিবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভূমিকা নিয়ে যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তার প্রতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। সুলতানা কামালের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

তাতে বলা হয়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর আওতায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান রয়েছে। মামলার সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ওই আইনের ১৮(১) ও (২) উপধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার বিধান রয়েছে। উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী আইনটি সফলভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। আইনমন্ত্রীর এ ক্ষেত্রে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার কোনো কারণ নেই।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়ী করে সুলতানা কামাল প্রকৃত তথ্য না জেনে মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এটি অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য, দুঃখজনক এবং ভিত্তিহীন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ১৯ ধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত বলে জানানো হয় ব্যাখ্যায়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বাধা থাকলে তা দূরীকরণে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এই ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনটির প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া কিংবা বাস্তবায়নে বাহানা তৈরি করার কোনো কারণ নেই। কাজেই সুলতানা কামালের অভিযোগ শুধু অবাস্তবই নয় হাস্যকরও বটে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, যারা ভূমিদস্যু তারা অন্যদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে অভ্যস্ত হয়ে যান। একসময়ে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা শেষ হলে তারা অন্যদের সম্পত্তিতে হাত বাড়ায়। শাস্তি না দেয়া হলে তাদের থামানো সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন সৈনিক আমরা মন্ত্রিসভায় পেয়েছি। কিন্তু তিনি রিট করা, আপিল করার নাম করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।’