ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, ৬৯ হাজারের বেশি উত্তীর্ণ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করতে নয়, বানচাল করতে এসেছেন : নুর বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, সিদ্ধান্ত আইসিসির এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে: প্রধান উপদেষ্টা এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই: জামায়াত আমির সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে সব সাইজ হয়ে যাবে, ঢাকায় কোনো সিট দেব না বলে জামায়াত প্রার্থী হুঙ্কার দিয়েছেন খালিদুজ্জামান

চার বন্ধুর জোরে বেঁচে গেল পাকিস্তান

রাশিয়া, চীন, সৌদি আরব ও তুরস্ক- এ চার বন্ধুর জোরে সন্ত্রাসে আর্থিক মদদদাতা তকমা থেকে আপাতত বেঁচে গেল পাকিস্তান। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, যাতে সন্ত্রাসের মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের নাম নজরদারির তালিকায় তোলা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ অনেকটাই সাজিয়ে দিয়েছিল ভারত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বে তাদের বন্ধু দেশগুলো বেঁকে বসায় এ যাত্রায় তিন মাসের জন্য বেঁচে গেল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের শেষ দিনেও তাদের পাকিস্তানবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নে জোর চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সফল হয়নি। পাকিস্তান দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের শুক্রবারের সংস্করণের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফএটিএফের সদস্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল। ফলে তালিকায় নাম উঠলে এ সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেবে, এমন একটা আশঙ্কা পাকিস্তানের ছিলই।

শেষ পর্যন্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহকে নিজেদের ‘জয়’ হিসেবেই দেখাচ্ছে ইসলামাবাদ। কিন্তু দিল্লিও বিষয়টিকে ব্যর্থতা হিসেবে ভাবতে রাজি নয়। দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, পাক আর্থিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাস বন্ধ করতে গত এক বছরের সুপরিকল্পিত চেষ্টার পর অনেকটাই এগোনো গেছে। প্যারিসে পাকিস্তানকে নজরদারির তালিকায় তোলার সুযোগ ছিল ঠিকই। কিন্তু এমন চেষ্টায় সাফল্যও সচরাচর খুব চটজলদি আসে না। পাকিস্তানকে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে মাত্র।

এর মধ্যে ইসলামাবাদকে তথ্যপ্রমাণসহ প্যারিসের নজরদারি গোষ্ঠীকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, তারা সন্ত্রাসে টাকা জোগাচ্ছে না। ‘কাজ করে দেখানোর’ চাপ থাকবে পাকিস্তানের ওপরে।

দিল্লির কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, প্যারিস সম্মেলনের ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লস্কর প্রধান হাফিজ সাইদকে জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। চীন-রাশিয়া অক্ষ হয়তো মাঝেমধ্যে ভোগাবে। কিন্তু পাকিস্তান কিছুটা সংযত হলে সবশেষে সেটাও দিল্লির লাভ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

চার বন্ধুর জোরে বেঁচে গেল পাকিস্তান

আপডেট সময় ১১:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

রাশিয়া, চীন, সৌদি আরব ও তুরস্ক- এ চার বন্ধুর জোরে সন্ত্রাসে আর্থিক মদদদাতা তকমা থেকে আপাতত বেঁচে গেল পাকিস্তান। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, যাতে সন্ত্রাসের মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের নাম নজরদারির তালিকায় তোলা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ অনেকটাই সাজিয়ে দিয়েছিল ভারত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বে তাদের বন্ধু দেশগুলো বেঁকে বসায় এ যাত্রায় তিন মাসের জন্য বেঁচে গেল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের শেষ দিনেও তাদের পাকিস্তানবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নে জোর চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সফল হয়নি। পাকিস্তান দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের শুক্রবারের সংস্করণের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফএটিএফের সদস্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল। ফলে তালিকায় নাম উঠলে এ সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেবে, এমন একটা আশঙ্কা পাকিস্তানের ছিলই।

শেষ পর্যন্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহকে নিজেদের ‘জয়’ হিসেবেই দেখাচ্ছে ইসলামাবাদ। কিন্তু দিল্লিও বিষয়টিকে ব্যর্থতা হিসেবে ভাবতে রাজি নয়। দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, পাক আর্থিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাস বন্ধ করতে গত এক বছরের সুপরিকল্পিত চেষ্টার পর অনেকটাই এগোনো গেছে। প্যারিসে পাকিস্তানকে নজরদারির তালিকায় তোলার সুযোগ ছিল ঠিকই। কিন্তু এমন চেষ্টায় সাফল্যও সচরাচর খুব চটজলদি আসে না। পাকিস্তানকে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে মাত্র।

এর মধ্যে ইসলামাবাদকে তথ্যপ্রমাণসহ প্যারিসের নজরদারি গোষ্ঠীকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, তারা সন্ত্রাসে টাকা জোগাচ্ছে না। ‘কাজ করে দেখানোর’ চাপ থাকবে পাকিস্তানের ওপরে।

দিল্লির কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, প্যারিস সম্মেলনের ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লস্কর প্রধান হাফিজ সাইদকে জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। চীন-রাশিয়া অক্ষ হয়তো মাঝেমধ্যে ভোগাবে। কিন্তু পাকিস্তান কিছুটা সংযত হলে সবশেষে সেটাও দিল্লির লাভ।