ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল দাবি আদায় না হলে সারারাত ইসি অবরুদ্ধ রাখবে ছাত্রদল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ ৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের

মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে বাঁচল দুই বিমান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ব্যবধান মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াল দুই যাত্রিবাহী বিমান। শেষ মুহূর্তের তৎপরতায় বাঁচানো গিয়েছে কয়েকশো প্রাণ। ভারতের আকাশে এত বড় বিপর্যয় এর আগে কবে এড়ানো গিয়েছিল, মনে করতে পারছেন না কেউ।

ঘটনা চার দিন আগের। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের আকাশে মুখোমুখি এসে পড়েছিল ভিস্তারা ও এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি বিমান।

ভারতের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) সূত্রে খবর, সে দিন দুটি বিমানের মধ্যে উচ্চতার তফাত ছিল মাত্র ১০০ মিটার। আর দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ড আগের মুহূর্তে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে ছিল বিমান দুটি। ঠিক সেই সময় ট্র্যাফিক কলিশন অ্যাভয়ডেন্স সিস্টেম (টিকাস)-এর মাধ্যমে সঙ্কেত যায় দুই বিমানের পাইলটদের ককপিটে। পাইলটরা শেষ মুহূর্তে দুই বিমানের গতিপথ ঘুরিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ান। ভিস্তারা বিমান সংস্থার দুই পাইলটকে বসিয়ে দিয়েছে ডিজিসিএ।

১৯৯৬ সালে হরিয়ানার চরখি দাদরির গ্রামে মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল দুই বিদেশি বিমানের। মারা গিয়েছিলেন ৩৪৯ জন। দুই বিমানের কাউকেই বাঁচানো যায়নি।

বুধবার রাত আটটা বেজেছে সবে। ভিস্তারা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এ-৩২০ নিও দিল্লি থেকে পুণা যাচ্ছিল। একই সময় এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ-৩১৯ মুম্বাই থেকে ভোপাল যাচ্ছিল। ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি ছিল। অন্য দিকে ভিস্তারার বিমানটি নেমে এসেছিল ২৭, ১০০ ফুটে।

মুম্বাইয়ের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা ভিস্তারার বিমানটিকে ২৯ হাজার ফুট দিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু সেটি কীভাবে ২৭ হাজার ফুটে নেমে এল, সেই ব্যাখ্যা মিলছে না। কিন্তু ভিস্তারার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের পাইলটকে ২৭ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়েই সেই সময় যেতে বলা হয়েছিল।

বিমান সংস্থার বক্তব্য, ‘যাত্রী আর কর্মীদের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়। পাইলটরা সে দিন ওই দুর্ঘটনা এড়াতে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) মেনেই কাজ করেছেন। বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের তদন্তের অধীনে।’

এয়ার ইন্ডিয়া বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে ডিজিসিএ-র এক সূত্র জানাচ্ছে, গোটা বিষয়টি এখন ‘এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ তদন্ত করে দেখছে। শাস্তি হিসেবে বসিয়ে দেয়া হয়েছে ভিস্তারার দুই পাইলটকেই। কারণ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটিসি-র নির্দেশ না মেনে তারাই দুই হাজার ফুট নিচে নেমে এসে মারাত্মক ভুল করে ফেলেছিলেন।

বিমান বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, মাঝ আকাশে দুটি বিমানের উচ্চতার তফাৎ থাকা উচিত কমপক্ষে ১০০০ মিটার। সে দিন সেই ফারাকটাই নেমে এসেছিল মাত্র ১০০ মিটারে। টিকাস শেষ মুহূর্তে বিপদ বার্তা না পাঠালে কী হত, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন অনেকে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এখন বিশ্বের সব দেশের যাত্রিবাহী বিমানেই এই টিকাস ব্যবস্থা থাকে। মাঝ আকাশে কোনও বিমান মুখোমুখি চলে এলে টিকাস সব সময়ই আগে ভাগে বার্তা পাঠিয়ে দেয় বিমানে। এমনকী সংঘর্ষ এড়াতে কোন বিমানের পাইলটকে ঠিক কত উচ্চতায় উঠতে বা নামতে হবে, সেটাও টিকিস-ই ঠিক করে দেয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে মহারাষ্ট্রের আকাশে এই ধরনের ঘটনা দুই বার ঘটল। গত ২৮ জানুয়ারি নাগপুরের আকাশে ইন্ডিগো এবং এমিরেটসের দুটি বিমানও ন্যূনতম দূরত্বের মাত্রা লঙ্ঘন করেছিল বলে জানা গিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু

মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে বাঁচল দুই বিমান

আপডেট সময় ০৩:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ব্যবধান মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াল দুই যাত্রিবাহী বিমান। শেষ মুহূর্তের তৎপরতায় বাঁচানো গিয়েছে কয়েকশো প্রাণ। ভারতের আকাশে এত বড় বিপর্যয় এর আগে কবে এড়ানো গিয়েছিল, মনে করতে পারছেন না কেউ।

ঘটনা চার দিন আগের। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের আকাশে মুখোমুখি এসে পড়েছিল ভিস্তারা ও এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি বিমান।

ভারতের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) সূত্রে খবর, সে দিন দুটি বিমানের মধ্যে উচ্চতার তফাত ছিল মাত্র ১০০ মিটার। আর দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ড আগের মুহূর্তে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে ছিল বিমান দুটি। ঠিক সেই সময় ট্র্যাফিক কলিশন অ্যাভয়ডেন্স সিস্টেম (টিকাস)-এর মাধ্যমে সঙ্কেত যায় দুই বিমানের পাইলটদের ককপিটে। পাইলটরা শেষ মুহূর্তে দুই বিমানের গতিপথ ঘুরিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ান। ভিস্তারা বিমান সংস্থার দুই পাইলটকে বসিয়ে দিয়েছে ডিজিসিএ।

১৯৯৬ সালে হরিয়ানার চরখি দাদরির গ্রামে মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল দুই বিদেশি বিমানের। মারা গিয়েছিলেন ৩৪৯ জন। দুই বিমানের কাউকেই বাঁচানো যায়নি।

বুধবার রাত আটটা বেজেছে সবে। ভিস্তারা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এ-৩২০ নিও দিল্লি থেকে পুণা যাচ্ছিল। একই সময় এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ-৩১৯ মুম্বাই থেকে ভোপাল যাচ্ছিল। ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি ছিল। অন্য দিকে ভিস্তারার বিমানটি নেমে এসেছিল ২৭, ১০০ ফুটে।

মুম্বাইয়ের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা ভিস্তারার বিমানটিকে ২৯ হাজার ফুট দিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু সেটি কীভাবে ২৭ হাজার ফুটে নেমে এল, সেই ব্যাখ্যা মিলছে না। কিন্তু ভিস্তারার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের পাইলটকে ২৭ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়েই সেই সময় যেতে বলা হয়েছিল।

বিমান সংস্থার বক্তব্য, ‘যাত্রী আর কর্মীদের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়। পাইলটরা সে দিন ওই দুর্ঘটনা এড়াতে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) মেনেই কাজ করেছেন। বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের তদন্তের অধীনে।’

এয়ার ইন্ডিয়া বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে ডিজিসিএ-র এক সূত্র জানাচ্ছে, গোটা বিষয়টি এখন ‘এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ তদন্ত করে দেখছে। শাস্তি হিসেবে বসিয়ে দেয়া হয়েছে ভিস্তারার দুই পাইলটকেই। কারণ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটিসি-র নির্দেশ না মেনে তারাই দুই হাজার ফুট নিচে নেমে এসে মারাত্মক ভুল করে ফেলেছিলেন।

বিমান বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, মাঝ আকাশে দুটি বিমানের উচ্চতার তফাৎ থাকা উচিত কমপক্ষে ১০০০ মিটার। সে দিন সেই ফারাকটাই নেমে এসেছিল মাত্র ১০০ মিটারে। টিকাস শেষ মুহূর্তে বিপদ বার্তা না পাঠালে কী হত, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন অনেকে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এখন বিশ্বের সব দেশের যাত্রিবাহী বিমানেই এই টিকাস ব্যবস্থা থাকে। মাঝ আকাশে কোনও বিমান মুখোমুখি চলে এলে টিকাস সব সময়ই আগে ভাগে বার্তা পাঠিয়ে দেয় বিমানে। এমনকী সংঘর্ষ এড়াতে কোন বিমানের পাইলটকে ঠিক কত উচ্চতায় উঠতে বা নামতে হবে, সেটাও টিকিস-ই ঠিক করে দেয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে মহারাষ্ট্রের আকাশে এই ধরনের ঘটনা দুই বার ঘটল। গত ২৮ জানুয়ারি নাগপুরের আকাশে ইন্ডিগো এবং এমিরেটসের দুটি বিমানও ন্যূনতম দূরত্বের মাত্রা লঙ্ঘন করেছিল বলে জানা গিয়েছে।