ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবিধানে সহায়ক সরকার গঠনের বিধান নেই: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো প্রস্তাব মেনে নেয়া হবে না বলে আবারও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি যে সহায়ক সরকারের কথা বলছে, সেটি সংবিধানে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ সাংসদ তানভীর ইমামের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের দাবি তুলছে। মাঝে বাদ দিলেও আবারও সহায়ক সরকারের কথা বলছে দলটি। শিগগির এই প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৬ সালের শেষ দিক প্রথম সহায়ক সরকারের কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সুবিধামত সময়ে এই সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে জানালেও এক বছর পর বিএনপি এই দাবির বদলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ফিরে যায়। তবে সম্প্রতি আবার সহায়ক সরকারের কথা বলছেন দলটির নেতারা।

গত ১২ জানুয়ারি সরকারের চার বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে নির্বাচন নিয়ে প্রস্তাব চান। আর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়ে দেন সহায়ক সরকারের দাবি তিনি মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধান। সংবিধান অনুযায়ী সহায়ক সরকার বলে কোনো সরকার গঠন করার বিধান নেই। আমাদের সরকার গণতন্ত্রকে সব সময় সমুন্নত রাখবে, সেজন্য সংবিধান পরিপন্থী কোনো সরকার আমরা গ্রহণ করব না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছিলাম। তার মানে সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকারের পরিসর ছোট করা হবে। সরকার নির্বাচনকালীন সময়ে শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জন্ম নিয়েছে মার্শাল ল জারি করে সংবিধান লঙ্ঘন করার মাধ্যমে অবৈধ পথে, তাই অবৈধ দাবি করাটা তাদের অভ্যাস।’

‘জিয়াউর রহমানের আমলে ভোটারবিহীন গণভোট (হ্যাঁ/না ভোট) করেছিল বিএনপি এবং সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে তৎকালীন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে সরকার গঠন করেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরবর্তীতে তার ওই কর্মকাণ্ড অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।’

২০০৭ সালে বিএনপির কারণেই জরুরি অবস্থা জানি হয়েছিল অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘২০০৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকা সত্ত্বেও তাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা করে নির্বাচনের নামে প্রহসন করার উদ্দেশ্য থাকায় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকে। এসব ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বিএনপি কোন দিনই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পক্ষে ছিল না।’

‘শুধু তাই নয়, বিএনপি নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করার পর মাগুরা ও ঢাকার উপ-নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি করেছিল এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে অবৈধ সরকার গঠন করে বিএনপি। পরে গণআন্দোলনের সম্মুখীন হয়ে দেড় মাসের মধ্যে তাদের পতন ঘটে। ওই সময় বিএনপি নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধানে সহায়ক সরকার গঠনের বিধান নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:০২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো প্রস্তাব মেনে নেয়া হবে না বলে আবারও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি যে সহায়ক সরকারের কথা বলছে, সেটি সংবিধানে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ সাংসদ তানভীর ইমামের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের দাবি তুলছে। মাঝে বাদ দিলেও আবারও সহায়ক সরকারের কথা বলছে দলটি। শিগগির এই প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৬ সালের শেষ দিক প্রথম সহায়ক সরকারের কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সুবিধামত সময়ে এই সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে জানালেও এক বছর পর বিএনপি এই দাবির বদলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ফিরে যায়। তবে সম্প্রতি আবার সহায়ক সরকারের কথা বলছেন দলটির নেতারা।

গত ১২ জানুয়ারি সরকারের চার বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে নির্বাচন নিয়ে প্রস্তাব চান। আর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়ে দেন সহায়ক সরকারের দাবি তিনি মেনে নেবেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধান। সংবিধান অনুযায়ী সহায়ক সরকার বলে কোনো সরকার গঠন করার বিধান নেই। আমাদের সরকার গণতন্ত্রকে সব সময় সমুন্নত রাখবে, সেজন্য সংবিধান পরিপন্থী কোনো সরকার আমরা গ্রহণ করব না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছিলাম। তার মানে সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকারের পরিসর ছোট করা হবে। সরকার নির্বাচনকালীন সময়ে শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জন্ম নিয়েছে মার্শাল ল জারি করে সংবিধান লঙ্ঘন করার মাধ্যমে অবৈধ পথে, তাই অবৈধ দাবি করাটা তাদের অভ্যাস।’

‘জিয়াউর রহমানের আমলে ভোটারবিহীন গণভোট (হ্যাঁ/না ভোট) করেছিল বিএনপি এবং সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে তৎকালীন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে সরকার গঠন করেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরবর্তীতে তার ওই কর্মকাণ্ড অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।’

২০০৭ সালে বিএনপির কারণেই জরুরি অবস্থা জানি হয়েছিল অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘২০০৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকা সত্ত্বেও তাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা করে নির্বাচনের নামে প্রহসন করার উদ্দেশ্য থাকায় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকে। এসব ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বিএনপি কোন দিনই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পক্ষে ছিল না।’

‘শুধু তাই নয়, বিএনপি নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করার পর মাগুরা ও ঢাকার উপ-নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি করেছিল এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে অবৈধ সরকার গঠন করে বিএনপি। পরে গণআন্দোলনের সম্মুখীন হয়ে দেড় মাসের মধ্যে তাদের পতন ঘটে। ওই সময় বিএনপি নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’