ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ সদস্যদের মানোন্নয়ন করা দরকার : মান্না যে জাতি সংগীতকে গুরুত্ব দেয়, সে জাতি মানসিকভাবে বেশি উন্নত: সংস্কৃতি মন্ত্রী হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা ১১ মাসে রাজস্ব বোর্ডের রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক-কর আদায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাত ধর্ষণ চেষ্টার পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, বৃদ্ধ গ্রেফতার মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের ৭৫০ বর্গফুট পতাকা শোডাউন শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

বিএনপি ভাঙতে বিএনপিই যথেষ্ট: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি ‘ঈমানের জোর’ কম বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, নিজেদের কারণেই ভাঙতে পারে বিএনপি। সোমবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এসব কথা বলেন।

দল ভাঙার চেষ্টায় ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে বিএনপি তার গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দিয়েছে। সংশোধিত গঠনতন্ত্রটি রবিবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের ৭ ধারার (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র দ্বারা দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি দলের সদস্য হতে পারবেন না। (খ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ যদি দেউলিয়া হয় তবে সে দলের সদস্য হতে পারবেন না। (গ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ যদি উন্মাদ হন তবে সে দলের সদস্য হতে পারবে না এবং (ঘ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ যদি সামাজিকভাবে সন্ত্রাসী বা কুখ্যাত বলে পরিগণিত ব্যক্তি বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

দু্র্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে এই ধারাকে সামনে এনে বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে ধারাটি তুলে দেয়া হয়েছে বলেও বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে বিএনপি ভাঙতে আওয়ামী লীগের কোনো আগ্রহ বা চেষ্টা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভাঙতে হবে না বিএনপি ভাঙার জন্য বিএনপিই যথেষ্ট।’

আবার গঠনতন্ত্রের এই ধারাটি বাতিলের ফলে এখন সব দণ্ডিত, দেউলিয়া, উন্মাদ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিএনপির সদস্য হতে পারবে। এখন বিএনপিকে চিনে নিন। এই হলো বিএনপি। এই হলো তাদের গণতন্ত্র ও গঠনতন্ত্র। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার ভয়ে ‘মিও করে’ বিএনপির থলের বেড়াল বেরিয়ে এসেছে।

‘আবার রাতের অন্ধকারে কোন কাউন্সিল ছাড়াই এক কলমের খোঁচায় তারা (বিএনপি) তা করেছে। …কি অদ্ভুত তাদের গঠনতন্ত্র! কি অদ্ভুত তাদের গণতন্ত্রের নমুনা! যেখানে এক বছর ১০ মাস অতিবাহিত হলেও তারা একবারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক করতে পারেনি, সেখানে তারা নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্র পরিবর্তন হয়ে গেল।’

বিএনপির ‘ঈমানের জোর’ পালকের মত হালকা বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তারা মামলা হামলার ভয়ে গঠনতন্ত্র পাল্টে ফেলছে। অথচ আওয়ামী লীগ মামলা-হামলার সঙ্গে লড়াই করেই টিকে আছে।’

খালেদা জিয়ার মামলার রায় প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রায় কী হবে তা আদালতই জানে। আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন।’ এই রায় নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘আসল কথা হল তারা আন্দোলনে ব্যর্থ। ব্যর্থ হয়ে আদালতের বিরুদ্ধে বলছে।’

এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে ভালো আচরণেরও তাগাদা দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মিছিল মিটিং করে নির্বাচনের ভাল কাজ হবে না।’

ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ সদস্যদের মানোন্নয়ন করা দরকার : মান্না

বিএনপি ভাঙতে বিএনপিই যথেষ্ট: কাদের

আপডেট সময় ১০:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি ‘ঈমানের জোর’ কম বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, নিজেদের কারণেই ভাঙতে পারে বিএনপি। সোমবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এসব কথা বলেন।

দল ভাঙার চেষ্টায় ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে বিএনপি তার গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দিয়েছে। সংশোধিত গঠনতন্ত্রটি রবিবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের ৭ ধারার (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র দ্বারা দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি দলের সদস্য হতে পারবেন না। (খ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ যদি দেউলিয়া হয় তবে সে দলের সদস্য হতে পারবেন না। (গ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ যদি উন্মাদ হন তবে সে দলের সদস্য হতে পারবে না এবং (ঘ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ যদি সামাজিকভাবে সন্ত্রাসী বা কুখ্যাত বলে পরিগণিত ব্যক্তি বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

দু্র্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে এই ধারাকে সামনে এনে বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে ধারাটি তুলে দেয়া হয়েছে বলেও বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে বিএনপি ভাঙতে আওয়ামী লীগের কোনো আগ্রহ বা চেষ্টা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভাঙতে হবে না বিএনপি ভাঙার জন্য বিএনপিই যথেষ্ট।’

আবার গঠনতন্ত্রের এই ধারাটি বাতিলের ফলে এখন সব দণ্ডিত, দেউলিয়া, উন্মাদ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিএনপির সদস্য হতে পারবে। এখন বিএনপিকে চিনে নিন। এই হলো বিএনপি। এই হলো তাদের গণতন্ত্র ও গঠনতন্ত্র। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার ভয়ে ‘মিও করে’ বিএনপির থলের বেড়াল বেরিয়ে এসেছে।

‘আবার রাতের অন্ধকারে কোন কাউন্সিল ছাড়াই এক কলমের খোঁচায় তারা (বিএনপি) তা করেছে। …কি অদ্ভুত তাদের গঠনতন্ত্র! কি অদ্ভুত তাদের গণতন্ত্রের নমুনা! যেখানে এক বছর ১০ মাস অতিবাহিত হলেও তারা একবারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক করতে পারেনি, সেখানে তারা নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্র পরিবর্তন হয়ে গেল।’

বিএনপির ‘ঈমানের জোর’ পালকের মত হালকা বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তারা মামলা হামলার ভয়ে গঠনতন্ত্র পাল্টে ফেলছে। অথচ আওয়ামী লীগ মামলা-হামলার সঙ্গে লড়াই করেই টিকে আছে।’

খালেদা জিয়ার মামলার রায় প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রায় কী হবে তা আদালতই জানে। আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন।’ এই রায় নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘আসল কথা হল তারা আন্দোলনে ব্যর্থ। ব্যর্থ হয়ে আদালতের বিরুদ্ধে বলছে।’

এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে ভালো আচরণেরও তাগাদা দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মিছিল মিটিং করে নির্বাচনের ভাল কাজ হবে না।’

ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল প্রমুখ।