ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পরকীয়ার জেরে খুন, আড়াই মাস পর খুলি উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার সাঁথিয়ায় পরকীয়ার জের ধরে এক ব্যক্তি নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। খুন হওয়ার আড়াই মাস পর পুলিশ তার মাথার খুলি উদ্ধার করেন। নিহত আবু সাইদ (৩০) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রায়া গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় মাস্টারমাইন্ডসহ এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের এবং আসামিদের গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম। গ্রেফতাররা এ হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছে পুলিশকে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ৩-৪ জনকে পুলিশ খুঁজছে। গ্রেফতাররা হলেন, রাজিব, শামীম ও ফখরুল। এরা সবাই সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রায়া গ্রামের মমতাজ আলী ১৭ সালে আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে বলে সাঁথিয়া থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর হেডকোয়ার্টারের সহায়তা নিয়ে পুলিশ মাঠে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ ওই উপজেলার রায়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রাজিবকে (২৪) গ্রেফতার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাজিব জানায়, ফখরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি মাদক মামলায় জেলে যায়। জেলে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী ইবরিয়া খাতুন আবু সাঈদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইবরিয়ার স্বামী ফখরুল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ঘটনা জানার পর আবু সাঈদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এরই একপর্যায়ে ফখরুল রাজিব ও শামীমসহ তাদের সহযোগীদের সঙ্গে ২ লাখ টাকা শর্তে আবু সাঈদকে হত্যার চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক রাজিব ৩০/১০/২০১৭ তারিখে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আবু সাঈদকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় রফিকুল ইসলামের ইউক্যালিপটাস বাগানে।

সেখানে শামীমসহ তাদের অন্য সহযোগীরা আগেই ওই বাগানে অবস্থান করছিল। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আসামি শামীমের নেতৃত্বে আবু সাঈদের গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে পা বেঁধে হত্যা করে।

পরে আবু সাঈদের মাথা কেটে ফখরুল তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলে। তখন আসামিরা আবু সাঈদের মাথা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। মাথা দেখার পর ফখরুল বিশ্বাস করেন। ২ দিন পর চুক্তির টাকা আনার জন্য ফখরুলের বাড়িতে যায় রাজিবসহ হত্যাকারীরা। এ সময় ফখরুল তাদের ১৯ হাজার টাকা দিয়ে পরে দেবে বলে বিদায় করে দেয়। অবশিষ্ট টাকার জন্য ফখরুলের কাছে হত্যাকারীরা চাপ দিতে থাকে।

সুচতুর ফখরুল হত্যাকারীদের জানায়, রাতের আঁধারে কার মাথা দেখিয়েছিস, বুঝতে পারিনি। আবার মাথা দেখাতে হবে। ঘটনার ৩-৪ দিন পর মাটির নিচ থেকে মাথা তুলে ফখরুলের বাড়িতে যায় রাজিবসহ অন্যরা। কিন্তু সুচতুর ফখরুল হত্যাকারী রাজিবসহ অন্যদের আর কোনো টাকা না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

বেড়া সার্কেলের এএসপি মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাসান জানান, জিডির ঘটনাটি তদন্তের অনুমতি পেয়েই তথ্যানুসন্ধান করেন। রাজিবের স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্যসূত্রের আলোকেই মাস্টারমাইন্ড রাজিব, শামীম ও ফখরুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৯টার দিকে আবু সাঈদের মাথা ফখরুলের বাড়ির পেছনে একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের ধারণা, গ্রেফতারকৃতরা প্রকৃত কিলার নয়, তবে মাদকসেবন ও ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরকীয়ার জেরে খুন, আড়াই মাস পর খুলি উদ্ধার

আপডেট সময় ১১:১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার সাঁথিয়ায় পরকীয়ার জের ধরে এক ব্যক্তি নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। খুন হওয়ার আড়াই মাস পর পুলিশ তার মাথার খুলি উদ্ধার করেন। নিহত আবু সাইদ (৩০) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রায়া গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় মাস্টারমাইন্ডসহ এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের এবং আসামিদের গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম। গ্রেফতাররা এ হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছে পুলিশকে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ৩-৪ জনকে পুলিশ খুঁজছে। গ্রেফতাররা হলেন, রাজিব, শামীম ও ফখরুল। এরা সবাই সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রায়া গ্রামের মমতাজ আলী ১৭ সালে আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে বলে সাঁথিয়া থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর হেডকোয়ার্টারের সহায়তা নিয়ে পুলিশ মাঠে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ ওই উপজেলার রায়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রাজিবকে (২৪) গ্রেফতার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাজিব জানায়, ফখরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি মাদক মামলায় জেলে যায়। জেলে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী ইবরিয়া খাতুন আবু সাঈদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইবরিয়ার স্বামী ফখরুল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ঘটনা জানার পর আবু সাঈদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এরই একপর্যায়ে ফখরুল রাজিব ও শামীমসহ তাদের সহযোগীদের সঙ্গে ২ লাখ টাকা শর্তে আবু সাঈদকে হত্যার চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক রাজিব ৩০/১০/২০১৭ তারিখে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আবু সাঈদকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় রফিকুল ইসলামের ইউক্যালিপটাস বাগানে।

সেখানে শামীমসহ তাদের অন্য সহযোগীরা আগেই ওই বাগানে অবস্থান করছিল। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আসামি শামীমের নেতৃত্বে আবু সাঈদের গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে পা বেঁধে হত্যা করে।

পরে আবু সাঈদের মাথা কেটে ফখরুল তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলে। তখন আসামিরা আবু সাঈদের মাথা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। মাথা দেখার পর ফখরুল বিশ্বাস করেন। ২ দিন পর চুক্তির টাকা আনার জন্য ফখরুলের বাড়িতে যায় রাজিবসহ হত্যাকারীরা। এ সময় ফখরুল তাদের ১৯ হাজার টাকা দিয়ে পরে দেবে বলে বিদায় করে দেয়। অবশিষ্ট টাকার জন্য ফখরুলের কাছে হত্যাকারীরা চাপ দিতে থাকে।

সুচতুর ফখরুল হত্যাকারীদের জানায়, রাতের আঁধারে কার মাথা দেখিয়েছিস, বুঝতে পারিনি। আবার মাথা দেখাতে হবে। ঘটনার ৩-৪ দিন পর মাটির নিচ থেকে মাথা তুলে ফখরুলের বাড়িতে যায় রাজিবসহ অন্যরা। কিন্তু সুচতুর ফখরুল হত্যাকারী রাজিবসহ অন্যদের আর কোনো টাকা না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

বেড়া সার্কেলের এএসপি মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাসান জানান, জিডির ঘটনাটি তদন্তের অনুমতি পেয়েই তথ্যানুসন্ধান করেন। রাজিবের স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্যসূত্রের আলোকেই মাস্টারমাইন্ড রাজিব, শামীম ও ফখরুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৯টার দিকে আবু সাঈদের মাথা ফখরুলের বাড়ির পেছনে একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের ধারণা, গ্রেফতারকৃতরা প্রকৃত কিলার নয়, তবে মাদকসেবন ও ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।