ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইসি যোগ্যতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে: মির্জা ফখরুল বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের

বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলা ভাষার ওপর নানা সময়ে কতভাবে আক্রমণ হয়েছে। সেই আক্রমণ বারবার প্রতিহত করা হয়েছে। এই উপমহাদেশে একমাত্র বাংলাদেশই একটি ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে—বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের মূল শ্লোগান হচ্ছে ‘ বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’। এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ২২৫ জন শিল্পী-সাহিত্যিক।

মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সাহিত্যচর্চা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। যে সমাজে সাহিত্য যত ঋদ্ধ, সে সমাজ তত আধুনিক।’ নিজেকে সাধারণ মানুষ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাঙালি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে অনেক মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। সেটি যেন না হয়, এ জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করেছি। সারা বিশ্বের মাতৃভাষা সেখানে সংরক্ষণ হবে, সেসব ভাষা নিয়ে গবেষণা হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন আয়োজক পরিষদের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এতে মন্ত্রীবর্গ,সংসদ সদস্যগণ,দেশ-বিদেশের কয়েকশত লেখক, কবি, সাহিত্যিকসহ বিভিন্নক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদ এই সম্মেলন আয়োজন করেছে। সম্মেলন আয়োজনে সহায়তায় রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকার। সম্মেলনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন মঞ্চে বিকেল থেকে শুরু হয় অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা। এতে ছিল চলচ্চিত্র প্রদশর্নী,নাটক,পুস্তক ও বিষয়ে বিভিন্ন পন্যের প্রদশর্নী ও মুক্ত আলোচনা।

সম্মেলন আয়োজক পরিষদের সাধারন সম্পাদক নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ জানান,আগামীকাল ১৪ জানুয়ারি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালা বাংলা একাডেমিতে শুরু হবে সকাল ১০টায়। দিনব্যাপী চলবে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন। সকালে সাহিত্য বিষয়ে সেমিনারের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। পরে রয়েছে মুক্ত আলোচনা। থাকবে দিনব্যাপী প্রদশর্নী। বিকেলে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের অতিথি কবিবৃন্দ। সন্ধ্যায় রয়েছে ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘ ধাবমান’এর প্রদশর্নী। থাকবে আবৃত্তি অনুষ্ঠান ও আবহমান বাংলার গানের অনুষ্ঠান।

তিনি জানান, ১৫ জানুয়ারি সম্মেলনের শেষ দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এদিন অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে থাকবে সেমিনার, নাটক, আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের আসর এবং আবহমান বাংলার গানের অনুষ্ঠান।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ জানান, সম্মেলনে ভারত থেকে দুই শতাধিক কবি, লেখক ও সাহিত্যিকসহ প্রায় ছয়শতজন সাহিত্যিক-লেখক যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী ও জাপান থেকেও বাংলা ভাষার লেখকরাও রয়েছেন। সম্মেলনে মোট ছয়টি সেমিনার ছাড়াও তিনদিনে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৩০টি অধিবেশন থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলা ভাষার ওপর নানা সময়ে কতভাবে আক্রমণ হয়েছে। সেই আক্রমণ বারবার প্রতিহত করা হয়েছে। এই উপমহাদেশে একমাত্র বাংলাদেশই একটি ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে—বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের মূল শ্লোগান হচ্ছে ‘ বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’। এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ২২৫ জন শিল্পী-সাহিত্যিক।

মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সাহিত্যচর্চা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। যে সমাজে সাহিত্য যত ঋদ্ধ, সে সমাজ তত আধুনিক।’ নিজেকে সাধারণ মানুষ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাঙালি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে অনেক মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। সেটি যেন না হয়, এ জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করেছি। সারা বিশ্বের মাতৃভাষা সেখানে সংরক্ষণ হবে, সেসব ভাষা নিয়ে গবেষণা হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন আয়োজক পরিষদের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এতে মন্ত্রীবর্গ,সংসদ সদস্যগণ,দেশ-বিদেশের কয়েকশত লেখক, কবি, সাহিত্যিকসহ বিভিন্নক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদ এই সম্মেলন আয়োজন করেছে। সম্মেলন আয়োজনে সহায়তায় রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকার। সম্মেলনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন মঞ্চে বিকেল থেকে শুরু হয় অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা। এতে ছিল চলচ্চিত্র প্রদশর্নী,নাটক,পুস্তক ও বিষয়ে বিভিন্ন পন্যের প্রদশর্নী ও মুক্ত আলোচনা।

সম্মেলন আয়োজক পরিষদের সাধারন সম্পাদক নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ জানান,আগামীকাল ১৪ জানুয়ারি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালা বাংলা একাডেমিতে শুরু হবে সকাল ১০টায়। দিনব্যাপী চলবে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন। সকালে সাহিত্য বিষয়ে সেমিনারের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। পরে রয়েছে মুক্ত আলোচনা। থাকবে দিনব্যাপী প্রদশর্নী। বিকেলে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের অতিথি কবিবৃন্দ। সন্ধ্যায় রয়েছে ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘ ধাবমান’এর প্রদশর্নী। থাকবে আবৃত্তি অনুষ্ঠান ও আবহমান বাংলার গানের অনুষ্ঠান।

তিনি জানান, ১৫ জানুয়ারি সম্মেলনের শেষ দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এদিন অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে থাকবে সেমিনার, নাটক, আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের আসর এবং আবহমান বাংলার গানের অনুষ্ঠান।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ জানান, সম্মেলনে ভারত থেকে দুই শতাধিক কবি, লেখক ও সাহিত্যিকসহ প্রায় ছয়শতজন সাহিত্যিক-লেখক যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী ও জাপান থেকেও বাংলা ভাষার লেখকরাও রয়েছেন। সম্মেলনে মোট ছয়টি সেমিনার ছাড়াও তিনদিনে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৩০টি অধিবেশন থাকবে।