ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নদী থেকে ওঠা গ্যাসে রান্না চলছে মাঝিদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে পদ্মা পাড়ের একটি স্থান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উঠছে। সেই গ্যাসেই রান্না করছেন মাঝিরা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অনবরত এই গ্যাস উঠলেও বিষয়টি জানে না স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) কোনো কর্মকর্তা।

রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুর এলাকার পদ্মার পাড়ে এই গ্যাস উঠছে। রান্নার সুবিধার্থে মাঝিরা পাশাপাশি পাঁচটি লোহার পাইপও পুঁতেছেন। এর মধ্যে ইট দিয়ে একটি পাইপের চারপাশ ঘিরে চলছে রান্নার কাজ। বাকি চারটি পাইপের মুখ বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে পাইপগুলো চিহ্নিত করেও রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের উৎসুক মানুষ।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে নদীর নিচ থেকে গ্যাস ওঠার দৃশ্য দেখা যায়। একটি পাইপের ওপর হাড়ি বসিয়ে সেখানে চা বানাচ্ছিলেন ওই এলাকার মাঝি রাজু আহমেদ। তিনি জানালেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই তারা এখানে চা বানাচ্ছেন। চলছে রান্না-বান্নারও কাজ।

নদী থেকে প্রথম গ্যাস উঠতে দেখেছিলেন নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন-অর-রশিদ। পেশায় তিনি মাঝি। পাশাপাশি পাইপলাইনের কাজও করেন। যোগাযোগ করা হলে হারুন জানান, যে স্থান দিয়ে গ্যাস উঠছে সেখানে আগে সামান্য পানি ছিল। তিনি জানান, পানিতে প্রথমে তিনি কয়েকটি স্থান থেকে বুদবুদ উঠতে দেখেন। তখন তার নাকে গ্যাসেরও গন্ধ আসে। এরপর দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালালে দেখেন- সামান্য পানির ওপরেই জ্বলছে আগুন।

হারুন জানান, গ্যাস ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি বাড়ি থেকে তিন-চার ফুট লম্বা পাঁচটি লোহার পাইপ নিয়ে যান। সেগুলো বুদবুদ ওঠা স্থানগুলোতে পুঁতে দেন। এরপর ইট ঘিরে বানিয়ে ফেলেন চুলা। চুলাগুলোর একটিতে এখন বেশ কয়েকজন মাঝি রান্না করছেন। রায়হান আলী নামে আরেক মাঝি জানান, গ্যাস সবসময়ই উঠছে। তবে কখনও বেশি, কখনও কম। বেশিরভাগ সময় চা করতে সময় লাগছে প্রায় আধাঘণ্টা। রান্না করতে সময় লাগছে আরও বেশি। তবে যখন বেশি পরিমাণে গ্যাস উঠছে তখন খুব তাড়াতাড়িই রান্না হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অন্য চারটি পাইপের মুখ বন্ধ রেখে শুধু একটিতে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করলে সময় কম লাগছে। রান্না শেষে বাতাস দিয়ে অনায়াসে আগুন বন্ধও করা যাচ্ছে। এভাবেই নদীর নিচ থেকে উঠে আসা গ্যাসে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাদের রান্নার কাজ চলছে।

মাঝিরা জানান, সকালে খুব শীত পড়লে তারা গ্যাসে আগুন জ্বালিয়ে শরীরও গরম করছেন। আশপাশের লোকজন তা দেখতে আসছেন। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসন কিংবা গ্যাস কোম্পানির কোনো লোকজন সেখানে যাননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। পিজিসিএলে জরুরি যোগাযোগের টেলিফোন এবং ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও কেউ ধরেননি। তাই এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলছেন, নদীপাড়ের এই গ্যাসের অর্থনৈতিক কোনো ভিত্তি নেই। এর মজুত খুব কম। কয়েকদিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে। তবে এক সঙ্গে অতিরিক্ত গ্যাস বের হলে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। প্রফেসর গোলাম সাত্তার জানান, এ ধরনের গ্যাসকে বলা হয় ‘বোগ’ গ্যাস। দীর্ঘদিন ধরে জলাশয়ের তলদেশে জমে থাকা শামুক, গাছের পাতা ও কাঠের গুঁড়ি পচে এই গ্যাস তৈরি হয়। সাধারণত এসব গ্যাসের মজুত থাকে খুব কম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নদী থেকে ওঠা গ্যাসে রান্না চলছে মাঝিদের

আপডেট সময় ০৪:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে পদ্মা পাড়ের একটি স্থান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উঠছে। সেই গ্যাসেই রান্না করছেন মাঝিরা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অনবরত এই গ্যাস উঠলেও বিষয়টি জানে না স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) কোনো কর্মকর্তা।

রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুর এলাকার পদ্মার পাড়ে এই গ্যাস উঠছে। রান্নার সুবিধার্থে মাঝিরা পাশাপাশি পাঁচটি লোহার পাইপও পুঁতেছেন। এর মধ্যে ইট দিয়ে একটি পাইপের চারপাশ ঘিরে চলছে রান্নার কাজ। বাকি চারটি পাইপের মুখ বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে পাইপগুলো চিহ্নিত করেও রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের উৎসুক মানুষ।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে নদীর নিচ থেকে গ্যাস ওঠার দৃশ্য দেখা যায়। একটি পাইপের ওপর হাড়ি বসিয়ে সেখানে চা বানাচ্ছিলেন ওই এলাকার মাঝি রাজু আহমেদ। তিনি জানালেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই তারা এখানে চা বানাচ্ছেন। চলছে রান্না-বান্নারও কাজ।

নদী থেকে প্রথম গ্যাস উঠতে দেখেছিলেন নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন-অর-রশিদ। পেশায় তিনি মাঝি। পাশাপাশি পাইপলাইনের কাজও করেন। যোগাযোগ করা হলে হারুন জানান, যে স্থান দিয়ে গ্যাস উঠছে সেখানে আগে সামান্য পানি ছিল। তিনি জানান, পানিতে প্রথমে তিনি কয়েকটি স্থান থেকে বুদবুদ উঠতে দেখেন। তখন তার নাকে গ্যাসেরও গন্ধ আসে। এরপর দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালালে দেখেন- সামান্য পানির ওপরেই জ্বলছে আগুন।

হারুন জানান, গ্যাস ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি বাড়ি থেকে তিন-চার ফুট লম্বা পাঁচটি লোহার পাইপ নিয়ে যান। সেগুলো বুদবুদ ওঠা স্থানগুলোতে পুঁতে দেন। এরপর ইট ঘিরে বানিয়ে ফেলেন চুলা। চুলাগুলোর একটিতে এখন বেশ কয়েকজন মাঝি রান্না করছেন। রায়হান আলী নামে আরেক মাঝি জানান, গ্যাস সবসময়ই উঠছে। তবে কখনও বেশি, কখনও কম। বেশিরভাগ সময় চা করতে সময় লাগছে প্রায় আধাঘণ্টা। রান্না করতে সময় লাগছে আরও বেশি। তবে যখন বেশি পরিমাণে গ্যাস উঠছে তখন খুব তাড়াতাড়িই রান্না হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অন্য চারটি পাইপের মুখ বন্ধ রেখে শুধু একটিতে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করলে সময় কম লাগছে। রান্না শেষে বাতাস দিয়ে অনায়াসে আগুন বন্ধও করা যাচ্ছে। এভাবেই নদীর নিচ থেকে উঠে আসা গ্যাসে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাদের রান্নার কাজ চলছে।

মাঝিরা জানান, সকালে খুব শীত পড়লে তারা গ্যাসে আগুন জ্বালিয়ে শরীরও গরম করছেন। আশপাশের লোকজন তা দেখতে আসছেন। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসন কিংবা গ্যাস কোম্পানির কোনো লোকজন সেখানে যাননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। পিজিসিএলে জরুরি যোগাযোগের টেলিফোন এবং ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও কেউ ধরেননি। তাই এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলছেন, নদীপাড়ের এই গ্যাসের অর্থনৈতিক কোনো ভিত্তি নেই। এর মজুত খুব কম। কয়েকদিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে। তবে এক সঙ্গে অতিরিক্ত গ্যাস বের হলে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। প্রফেসর গোলাম সাত্তার জানান, এ ধরনের গ্যাসকে বলা হয় ‘বোগ’ গ্যাস। দীর্ঘদিন ধরে জলাশয়ের তলদেশে জমে থাকা শামুক, গাছের পাতা ও কাঠের গুঁড়ি পচে এই গ্যাস তৈরি হয়। সাধারণত এসব গ্যাসের মজুত থাকে খুব কম।