ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

২৪ বছরের হিমায়িত মানব ভ্রুণে নবজাতকের জন্ম

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো হিমায়িত মানব ভ্রণ দিয়ে নবজাতকের জন্ম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে। খবর সিএনএনের। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ভ্রুণ অনুদান কেন্দ্রের (এনইডিসি) মেডিকেল পরিচালক ডা. জেফরি কিনানা জানান, ২৫ নভেম্বর ইমা রেন গিবসন নামে ওই নবজাতকের জন্ম হয়। ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তার ভ্রুণ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল।

টিনা এবং বেঞ্জামিন গিবসন দম্পতির সন্তান ইমা। টেনেসির পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা তারা। চলতি বছরের মার্চে ইমার হিমায়িত ভ্রণ তার ২৬ বছর বয়সী মা টিনা জরায়ুতে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে এনইডিসি। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্রুণ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয় এবং নিঃসন্তান দম্পতিদের প্রদান করা হয়।

টিনার স্বামী বেঞ্জামিন গিবসন সিস্টিক ফিব্রোসিসে আক্রান্ত। এর ফলে তার বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। ভ্রুণ গ্রহণের আগে শিশু দত্তক নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন টিনা ও গিবসন দম্পতি। ১৩ মার্চ এনইডিসির ল্যাব পরিচালক ক্যারল সামারফেল্ট তাদের একটি ভ্রুণের ছবি দেখান। যেটির বয়স টিনার প্রায় সমান।

সেদিনের মুহূর্তের কথা মনে টিনা বলছিলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম, তুমি বুঝতে পারছ আমার বয়স ২৫। এই ভ্রুণ আর আমি ভালো বন্ধু হতে পারি।’ ২৬ বছর বয়সী টিনা সিএনএনকে বলেন, ‘আমি শুধু একটি সন্তান চেয়েছিলাম। এটি বিশ্ব রেকর্ড গড়বে কি গড়বে না এই বিষয়ে আমার একদমই চিন্তা ছিল না।’

ল্যাব পরিচালক ক্যারল সামারফেল্ট জানান, এত বছরের পুরনো ভ্রুণ শিশুর জন্ম- এই বিষয়টি খুব রোমাঞ্চকর। এর আগে ২০ বছরের পুরনো ভ্রুণ দিয়ে বাচ্চা জন্ম নিয়েছিল। জন্মের সময় ইমার ওজন প্রায় তিন কেজি এবং তার উচ্চতা ছিল ২০ ইঞ্চি। একেবারে সুস্থ শরীরে ইমা পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেছে।

টিনা বলেন, ‘আমরা খুবই কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। ইমা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য বড় দিনের অমূল্য উপহার। আমরা সত্যিই অনেক খুশি। বেঞ্জামিন গিবসন বলেন, ‘আমার মেয়ে ইমার জন্ম একটি মিষ্টি অলৌকিক ঘটনা। এতদিন ফ্রিজে থাকার পরও ইমা দেখতে অনেক সুন্দর।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

২৪ বছরের হিমায়িত মানব ভ্রুণে নবজাতকের জন্ম

আপডেট সময় ০৯:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো হিমায়িত মানব ভ্রণ দিয়ে নবজাতকের জন্ম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে। খবর সিএনএনের। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ভ্রুণ অনুদান কেন্দ্রের (এনইডিসি) মেডিকেল পরিচালক ডা. জেফরি কিনানা জানান, ২৫ নভেম্বর ইমা রেন গিবসন নামে ওই নবজাতকের জন্ম হয়। ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তার ভ্রুণ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল।

টিনা এবং বেঞ্জামিন গিবসন দম্পতির সন্তান ইমা। টেনেসির পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা তারা। চলতি বছরের মার্চে ইমার হিমায়িত ভ্রণ তার ২৬ বছর বয়সী মা টিনা জরায়ুতে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে এনইডিসি। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্রুণ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয় এবং নিঃসন্তান দম্পতিদের প্রদান করা হয়।

টিনার স্বামী বেঞ্জামিন গিবসন সিস্টিক ফিব্রোসিসে আক্রান্ত। এর ফলে তার বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। ভ্রুণ গ্রহণের আগে শিশু দত্তক নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন টিনা ও গিবসন দম্পতি। ১৩ মার্চ এনইডিসির ল্যাব পরিচালক ক্যারল সামারফেল্ট তাদের একটি ভ্রুণের ছবি দেখান। যেটির বয়স টিনার প্রায় সমান।

সেদিনের মুহূর্তের কথা মনে টিনা বলছিলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম, তুমি বুঝতে পারছ আমার বয়স ২৫। এই ভ্রুণ আর আমি ভালো বন্ধু হতে পারি।’ ২৬ বছর বয়সী টিনা সিএনএনকে বলেন, ‘আমি শুধু একটি সন্তান চেয়েছিলাম। এটি বিশ্ব রেকর্ড গড়বে কি গড়বে না এই বিষয়ে আমার একদমই চিন্তা ছিল না।’

ল্যাব পরিচালক ক্যারল সামারফেল্ট জানান, এত বছরের পুরনো ভ্রুণ শিশুর জন্ম- এই বিষয়টি খুব রোমাঞ্চকর। এর আগে ২০ বছরের পুরনো ভ্রুণ দিয়ে বাচ্চা জন্ম নিয়েছিল। জন্মের সময় ইমার ওজন প্রায় তিন কেজি এবং তার উচ্চতা ছিল ২০ ইঞ্চি। একেবারে সুস্থ শরীরে ইমা পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেছে।

টিনা বলেন, ‘আমরা খুবই কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। ইমা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য বড় দিনের অমূল্য উপহার। আমরা সত্যিই অনেক খুশি। বেঞ্জামিন গিবসন বলেন, ‘আমার মেয়ে ইমার জন্ম একটি মিষ্টি অলৌকিক ঘটনা। এতদিন ফ্রিজে থাকার পরও ইমা দেখতে অনেক সুন্দর।’