ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

সোহেল মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নব্য জেএমবির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। সেখানে তাঁকে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব। পরে মাহফুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে ভারতে অবস্থানকারী ছোট মিজানকে দায়িত্ব দেন। এরপর ছোট মিজান ভারত থেকে অস্ত্র (একে-২২ ও পিস্তল) ও গুলির চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে এগুলো বাসে ঢাকার কল্যাণপুরে নিয়ে আসেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তামিম চৌধুরীর বাসায় পৌঁছে দেন মারজান।

বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে গত বছর ১ জুলাই পাঁচ জঙ্গি গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়ে হামলা চালায়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ২০০২ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দেন এবং রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সদস্য সংগ্রহের (দাওয়াতি) কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহীর বাগমারায় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযানেও অংশ নেন মাহফুজ। তখন নওগাঁর আত্রাইয়ে জেএমবির একটি ক্যাম্পে জঙ্গি শাকিলের কাছে বোমা বানানো শেখেন। তখন বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।

পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় সোহেল মাহফুজ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সময় জঙ্গিনেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাহফুজ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান। জেএমবির শ‌ুরা সদস্য হওয়ার পর সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১০ সালে জেএমবির দ্বিতীয় আমির সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০১৪ সালে জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে জঙ্গিনেতা সালেহীন, বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হাফেজ মাহমুদ পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান ভারতে চলে যান। সালেহীন ভারতে গিয়ে জেএমবির আমির নিযুক্ত হন। এরপর মাহফুজ ও টাঙ্গাইলের শাকিলকে বোমা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাকিল ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময় মারা যান। তখন আবদুল হাকিম নামের এক জঙ্গি ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর সোহেল মাহফুজ ভারত ছেড়ে দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে আত্মীয় আবু মুসা ওরফে রবিনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোহেল মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনি

আপডেট সময় ০১:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নব্য জেএমবির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। সেখানে তাঁকে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব। পরে মাহফুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে ভারতে অবস্থানকারী ছোট মিজানকে দায়িত্ব দেন। এরপর ছোট মিজান ভারত থেকে অস্ত্র (একে-২২ ও পিস্তল) ও গুলির চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে এগুলো বাসে ঢাকার কল্যাণপুরে নিয়ে আসেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তামিম চৌধুরীর বাসায় পৌঁছে দেন মারজান।

বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে গত বছর ১ জুলাই পাঁচ জঙ্গি গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়ে হামলা চালায়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ২০০২ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দেন এবং রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সদস্য সংগ্রহের (দাওয়াতি) কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহীর বাগমারায় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযানেও অংশ নেন মাহফুজ। তখন নওগাঁর আত্রাইয়ে জেএমবির একটি ক্যাম্পে জঙ্গি শাকিলের কাছে বোমা বানানো শেখেন। তখন বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।

পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় সোহেল মাহফুজ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সময় জঙ্গিনেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাহফুজ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান। জেএমবির শ‌ুরা সদস্য হওয়ার পর সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১০ সালে জেএমবির দ্বিতীয় আমির সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০১৪ সালে জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে জঙ্গিনেতা সালেহীন, বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হাফেজ মাহমুদ পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান ভারতে চলে যান। সালেহীন ভারতে গিয়ে জেএমবির আমির নিযুক্ত হন। এরপর মাহফুজ ও টাঙ্গাইলের শাকিলকে বোমা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাকিল ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময় মারা যান। তখন আবদুল হাকিম নামের এক জঙ্গি ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর সোহেল মাহফুজ ভারত ছেড়ে দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে আত্মীয় আবু মুসা ওরফে রবিনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন।