ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সোহেল মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নব্য জেএমবির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। সেখানে তাঁকে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব। পরে মাহফুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে ভারতে অবস্থানকারী ছোট মিজানকে দায়িত্ব দেন। এরপর ছোট মিজান ভারত থেকে অস্ত্র (একে-২২ ও পিস্তল) ও গুলির চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে এগুলো বাসে ঢাকার কল্যাণপুরে নিয়ে আসেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তামিম চৌধুরীর বাসায় পৌঁছে দেন মারজান।

বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে গত বছর ১ জুলাই পাঁচ জঙ্গি গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়ে হামলা চালায়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ২০০২ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দেন এবং রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সদস্য সংগ্রহের (দাওয়াতি) কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহীর বাগমারায় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযানেও অংশ নেন মাহফুজ। তখন নওগাঁর আত্রাইয়ে জেএমবির একটি ক্যাম্পে জঙ্গি শাকিলের কাছে বোমা বানানো শেখেন। তখন বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।

পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় সোহেল মাহফুজ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সময় জঙ্গিনেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাহফুজ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান। জেএমবির শ‌ুরা সদস্য হওয়ার পর সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১০ সালে জেএমবির দ্বিতীয় আমির সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০১৪ সালে জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে জঙ্গিনেতা সালেহীন, বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হাফেজ মাহমুদ পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান ভারতে চলে যান। সালেহীন ভারতে গিয়ে জেএমবির আমির নিযুক্ত হন। এরপর মাহফুজ ও টাঙ্গাইলের শাকিলকে বোমা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাকিল ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময় মারা যান। তখন আবদুল হাকিম নামের এক জঙ্গি ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর সোহেল মাহফুজ ভারত ছেড়ে দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে আত্মীয় আবু মুসা ওরফে রবিনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোহেল মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনি

আপডেট সময় ০১:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নব্য জেএমবির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। সেখানে তাঁকে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব। পরে মাহফুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে ভারতে অবস্থানকারী ছোট মিজানকে দায়িত্ব দেন। এরপর ছোট মিজান ভারত থেকে অস্ত্র (একে-২২ ও পিস্তল) ও গুলির চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে এগুলো বাসে ঢাকার কল্যাণপুরে নিয়ে আসেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তামিম চৌধুরীর বাসায় পৌঁছে দেন মারজান।

বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে গত বছর ১ জুলাই পাঁচ জঙ্গি গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়ে হামলা চালায়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ২০০২ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দেন এবং রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সদস্য সংগ্রহের (দাওয়াতি) কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহীর বাগমারায় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযানেও অংশ নেন মাহফুজ। তখন নওগাঁর আত্রাইয়ে জেএমবির একটি ক্যাম্পে জঙ্গি শাকিলের কাছে বোমা বানানো শেখেন। তখন বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।

পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় সোহেল মাহফুজ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সময় জঙ্গিনেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাহফুজ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান। জেএমবির শ‌ুরা সদস্য হওয়ার পর সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১০ সালে জেএমবির দ্বিতীয় আমির সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০১৪ সালে জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে জঙ্গিনেতা সালেহীন, বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হাফেজ মাহমুদ পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান ভারতে চলে যান। সালেহীন ভারতে গিয়ে জেএমবির আমির নিযুক্ত হন। এরপর মাহফুজ ও টাঙ্গাইলের শাকিলকে বোমা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাকিল ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময় মারা যান। তখন আবদুল হাকিম নামের এক জঙ্গি ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর সোহেল মাহফুজ ভারত ছেড়ে দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে আত্মীয় আবু মুসা ওরফে রবিনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন।