ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

পিরোজপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আজ ৮ ডিসেম্বর। পিরোজপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পিরোজপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়। এই দিনে ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয় একটি দিন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ মে প্রথম পাকবাহিনী পিরোজপুরে প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার জেলার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকবাহিনীরা প্রবেশ পথে তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে প্রথম হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাক হানাদার বাহিনীরা প্রথমদিনই ২৮ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। ৫ মে পাকবাহিনী তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক (দ্বায়িত্ব) আব্দুর রাজ্জাক, মহাকুমা পুলিশ অফিসার লেখক, উপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও ট্রেজারি অফিসার ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ মিজানুর রহমানকে বলেশ্বর নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করে।

৫ মে শহরের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন বধ্যভূমির অদূরে চানমারীতে আরও একটি বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা গণপতি হালদার, ফজলুল হক খোকন, বিধান, মন্টু, পুর্নেন্দু, বাচ্চু, সেলিম আখন্দ, মোস্তফা এবং নারী মুক্তিযোদ্ধা ভাগিরথীকে। হুলারহাটের কঁচা নদীর তীরের বধ্যভূমি, কদমতলার পোরগোলা বধ্যভূমি, টোনা ইউনিয়নের তেজদাসকাঠীর খেঁজুরতলার বধ্যভূমি, জুজখোলার বধ্যভূমি, পাড়েরহাটের বধ্যভূমিতে সদর থানার পাঁচ সহস্রাধিক নারী-পুরুষ নির্মম হত্যার শিকার হন।

এরপর দীর্ঘ ৮ মাস স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতা পক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষকে।

৭১’র সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের দায়িত্বে ছিল পিরোজপুর অঞ্চল। পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সুন্দরবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুরের দক্ষিণে পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিবাহিনীর এ আগমনের খবর পেয়ে পাক বাহিনী শহরের পূর্বদিকের কঁচা নদী দিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। এর পূর্বে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দূর্গে পাকবাহিনী আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বহু পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ পাকবাহিনী পর্যুদস্থ হতে থাকে। অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে। সম্ভম লুটে নেয় প্রায় ৫ হাজার মা-বোনের।

পিরোজপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহরের স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা সহকারে ভাগীরথী চত্ত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধের চলচিত্র প্রদর্শন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

পিরোজপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আপডেট সময় ০৫:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আজ ৮ ডিসেম্বর। পিরোজপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পিরোজপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়। এই দিনে ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয় একটি দিন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ মে প্রথম পাকবাহিনী পিরোজপুরে প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার জেলার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকবাহিনীরা প্রবেশ পথে তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে প্রথম হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাক হানাদার বাহিনীরা প্রথমদিনই ২৮ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। ৫ মে পাকবাহিনী তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক (দ্বায়িত্ব) আব্দুর রাজ্জাক, মহাকুমা পুলিশ অফিসার লেখক, উপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও ট্রেজারি অফিসার ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ মিজানুর রহমানকে বলেশ্বর নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করে।

৫ মে শহরের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন বধ্যভূমির অদূরে চানমারীতে আরও একটি বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা গণপতি হালদার, ফজলুল হক খোকন, বিধান, মন্টু, পুর্নেন্দু, বাচ্চু, সেলিম আখন্দ, মোস্তফা এবং নারী মুক্তিযোদ্ধা ভাগিরথীকে। হুলারহাটের কঁচা নদীর তীরের বধ্যভূমি, কদমতলার পোরগোলা বধ্যভূমি, টোনা ইউনিয়নের তেজদাসকাঠীর খেঁজুরতলার বধ্যভূমি, জুজখোলার বধ্যভূমি, পাড়েরহাটের বধ্যভূমিতে সদর থানার পাঁচ সহস্রাধিক নারী-পুরুষ নির্মম হত্যার শিকার হন।

এরপর দীর্ঘ ৮ মাস স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতা পক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষকে।

৭১’র সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের দায়িত্বে ছিল পিরোজপুর অঞ্চল। পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সুন্দরবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুরের দক্ষিণে পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিবাহিনীর এ আগমনের খবর পেয়ে পাক বাহিনী শহরের পূর্বদিকের কঁচা নদী দিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। এর পূর্বে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দূর্গে পাকবাহিনী আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বহু পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ পাকবাহিনী পর্যুদস্থ হতে থাকে। অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে। সম্ভম লুটে নেয় প্রায় ৫ হাজার মা-বোনের।

পিরোজপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহরের স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা সহকারে ভাগীরথী চত্ত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধের চলচিত্র প্রদর্শন।