অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি এ মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার যোগ্য। আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ বানোয়াট ও অপ্রমাণিত। আমি দৃঢ়ভাবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করছি।’
আজ মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে সপ্তম দিনের মতো বক্তব্য উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন। পরে যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এর আগে প্রায় তিন ঘণ্টা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন থাকার সময়ে কোনোভাবে বা কোনো মাধ্যমেই আমার পদের অপব্যবহার করিনি। আমার পদের অন্যায় প্রভাব খাটাইনি।’
‘মাননীয় আদালত আদালতে দাখিলকৃত দুটি অনুসন্ধান রিপোর্টের বরাতে বলা হয়েছে যে, ৫/৯/১৯৯৩ ইংরেজি তারিখে একই দিনে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হয় এবং সমভাবে রেমিটেন্সের টাকা উক্ত দুটি ট্রাস্টে বণ্টন হয়। এইরূপ কার্যাদি তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে এবং নির্দেশে সম্পন্ন হয় যা তথ্যগতভাবে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলায় একটিকে বাদ দিয়ে অপরটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হীন-উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সোনালী ব্যাংকের চেক নম্বর-৮৪৩১১০২ ও চেক নম্বর ৮৪৩১১০৩ ইস্যু করে একই সময়ে বণ্টন কাজ সম্পন্ন হয়। আমি চেক দুটির কোনোটিরই স্বাক্ষরকারী নই। রেমিটেন্স প্রাপ্তির উদ্যোক্তা তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্টের সেটলার হন। ওই ট্রাস্টে প্রদত্ত টাকার জন্য কারো কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য’ বলছিলেন খালেদা জিয়া।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় আদালত আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ বানোয়াট ও অপ্রমাণিত। আমি দৃঢ়ভাবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন থাকার সময়ে কোনোভাবে বা কোনো মাধ্যমেই আমার পদের অপব্যবহার করিনি। আমার পদের অন্যায় প্রভাব খাটাইনি। আমার পারিবারিক বাসস্থান, ৬ মইনুল রোড, এখানে আমার পরিবারের সকলেই থাকতেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নয়। আমি আমার পদে থাকার সময় আমার অধীনস্থ কারো মাধ্যমে আমার পদের প্রভাব খাটাইনি।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি কাউকে কোনো অন্যায় আদেশ প্রদান করিনি। আমি আমার পদে আসীন থাকার সময় কারো কোনো অর্থের দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হইনি কিংবা কাউকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করিনি। আমি আমার পদে আসীন থেকে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি এবং কোনো আইনভঙ্গ ও অপরাধ করিনি। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এ মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার যোগ্য।’
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল।
এর আগে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে সময়মতো আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বাতিল করে ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ৩০ নভেম্বর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর ডাকা হরতালে নিরাপত্তার কারণে খালেদা জিয়া সময় অনুযায়ী আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকাবস্থায় একই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। দেশে ফিরেই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহেই তিনি আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















