ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

দেশের এক ইঞ্চি মাটিও সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদের জন্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমান যিনি অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। যিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের সব ধর্মের সব গোত্রের মানুষ একতে চলবে, একসাথে আনন্দ করবে।

সেদিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। বুধবার দুপুরে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে মন্দির ‘উদ্বোধন ও উৎসর্গ’ উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার সরকার আমাকে আহ্বান করেছিল। আমি মিয়ানমারে গিয়েছি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনা করেছি। দশটি পয়েন্টে দুই দেশ ঐক্যমত হয়েছে। আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি, জোরালে ভাবে বলেছি আমরা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিই না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও কোন সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিদের ব্যবহার করতে দিই না।

কোন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আমরা আশ্রয় প্রশ্রয় দিই না। আমরা ভারতের সঙ্গে সুম্পর্ক তৈরি করেছি। মিয়ানমারের সঙ্গেও সুম্পর্ক তৈরি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস মিয়ানমার তাদের দেশের মানুষ ফের নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে সরকার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তারপরও ষড়যন্ত্র আছে। দেশেকে অস্থিতিশীল করতে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা পিছনে তাকালে দেখতে পাই ইতালীর নাগরিক তাবেলা সিজার, জাপানী নাগারি কোনিও সুজি, শিয়া মসজিদের মুয়াজ্জিনকে খুন করা হয়।

দিনাজপুর ও রাজশাহীতে খ্রিস্টান ধর্মযাজককে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন ধর্মগুরু ও ধর্ম যাজকদের খুন ও হামলার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমিও ধর্মগুরু, ধর্মযাজক, আলেম ওলামাদের নিয়ে বসেছি। সবাই মিলে একটি প্লাটফর্ম থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।

দেশবাসী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে রুখে দিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জীবনবাজি রেখে আইনশৃংখলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সারাদেশের নন্দিত নেতা। তিনি মানবতার নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মন্দিরের স্বামী পরদেবানন্দজী মহারাজ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জের বালিয়াটি রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী পরিমুক্তানন্দজী মহারাজ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নারায়নগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী একনাথনিন্দ মহারাজ।

আলোচক ছিলেন গুজরাট রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী নিখিলেম্বরানন্দজী মহারাজ, মুর্শিদাবাদ সারগাছি রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের সম্পাদক স্বামী বিশ্বময়ানন্দজী মহারাজ ও চেন্নাইয়ের রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্টস্ হোমের সম্পাদক স্বামী শুকদেবানন্দজী মহারাজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দেবাশীষ রাহা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ ঝিকরগাছা চৌগাছা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন নিলু, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ, যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেসএক্সের রকেট ট্যাক্সি: মহাকাশ যাত্রার সাশ্রয়ী ও নতুন দিগন্ত

দেশের এক ইঞ্চি মাটিও সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদের জন্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমান যিনি অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। যিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের সব ধর্মের সব গোত্রের মানুষ একতে চলবে, একসাথে আনন্দ করবে।

সেদিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। বুধবার দুপুরে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে মন্দির ‘উদ্বোধন ও উৎসর্গ’ উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার সরকার আমাকে আহ্বান করেছিল। আমি মিয়ানমারে গিয়েছি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনা করেছি। দশটি পয়েন্টে দুই দেশ ঐক্যমত হয়েছে। আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি, জোরালে ভাবে বলেছি আমরা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিই না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও কোন সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিদের ব্যবহার করতে দিই না।

কোন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আমরা আশ্রয় প্রশ্রয় দিই না। আমরা ভারতের সঙ্গে সুম্পর্ক তৈরি করেছি। মিয়ানমারের সঙ্গেও সুম্পর্ক তৈরি করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস মিয়ানমার তাদের দেশের মানুষ ফের নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে সরকার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তারপরও ষড়যন্ত্র আছে। দেশেকে অস্থিতিশীল করতে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা পিছনে তাকালে দেখতে পাই ইতালীর নাগরিক তাবেলা সিজার, জাপানী নাগারি কোনিও সুজি, শিয়া মসজিদের মুয়াজ্জিনকে খুন করা হয়।

দিনাজপুর ও রাজশাহীতে খ্রিস্টান ধর্মযাজককে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন ধর্মগুরু ও ধর্ম যাজকদের খুন ও হামলার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমিও ধর্মগুরু, ধর্মযাজক, আলেম ওলামাদের নিয়ে বসেছি। সবাই মিলে একটি প্লাটফর্ম থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।

দেশবাসী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে রুখে দিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জীবনবাজি রেখে আইনশৃংখলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সারাদেশের নন্দিত নেতা। তিনি মানবতার নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মন্দিরের স্বামী পরদেবানন্দজী মহারাজ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জের বালিয়াটি রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী পরিমুক্তানন্দজী মহারাজ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নারায়নগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী একনাথনিন্দ মহারাজ।

আলোচক ছিলেন গুজরাট রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী নিখিলেম্বরানন্দজী মহারাজ, মুর্শিদাবাদ সারগাছি রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের সম্পাদক স্বামী বিশ্বময়ানন্দজী মহারাজ ও চেন্নাইয়ের রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্টস্ হোমের সম্পাদক স্বামী শুকদেবানন্দজী মহারাজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দেবাশীষ রাহা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ ঝিকরগাছা চৌগাছা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন নিলু, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ, যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান প্রমুখ।