ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার : মীর হেলাল চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠালেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার সীমান্তে পুশ ইন তৎপরতায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে: সাইফুল হক ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে’:ফরিদা খানম কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন জাইমা রহমান বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা: ডোনাল্ড ট্রাম্প

গৃহকর ৯ গুণ বাড়ালে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, সংসদে ক্ষোভ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক সাংসদ। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে গৃহকর বাড়ানো নিয়ে বক্তব্য দেন তিনজন সাংসদ।

রাজধানীতে গৃহকর বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, গৃহকর হঠাৎ করে নয় গুণ বাড়ানো হলে তা মানুষ গ্রহণ করবে না। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কর বাড়বে, এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক বছর ধরে কর বাড়ায়নি। এখন একসঙ্গে নয় গুণ বাড়ানো হলে মানুষ তা গ্রহণ করবে না। গৃহকর ৮ হাজার টাকা থেকে হঠাৎ করে ৭২ হাজার টাকা হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে। এটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা রাজনীতি করি। রাজনীতির কতগুলো সময় থাকে। সেই বিষয়টি তিন-চার বছর আগে করা যেত, সেটা যদি সরকারের শেষ সময় এসে করে, তাহলে প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আমার পক্ষে সবকিছু বলা সম্ভব নয়।’ এ সময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এ বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার অনুরোধ করেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু বলেন, চট্টগ্রামেও গৃহকর বাড়ানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মহল্লায় মহল্লায় আন্দোলন হচ্ছে। এটি একটি রাজনৈতিক সরকার। এর আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এক বছর পর নির্বাচন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বেশি দাম, বাড়তি কর নিয়ে জনগণের সামনে যেতে হবে। রাজনৈতিক সরকারকে সঠিক রাজনৈতিক বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়গুলো স্পর্শকাতর। নির্বাচনের সময় সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাবলুর বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, নির্বাচনের আগে বা পরে সেটা বিষয় নয়, ১০ বছর পর একবারে ১০ গুণ কর বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। শেখ হাসিনার সরকার জনবান্ধব সরকার। অবশ্যই সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করেন।

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মেয়র, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কর বাড়ান। কিন্তু জনগণকে জবাবদিহি করতে হয় সাংসদদের। আরও দু–এক বছর আগে গৃহকর বাড়ানো হলে সমস্যা হতো না। নির্বাচনের এক বছর আগে গৃহকর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব সরকার আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলের এই সদস্য বলেন, অনতিবিলম্বে গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে আনা দরকার।

বাবলার বক্তব্যের পর স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, গৃহকর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। এটি চূড়ান্ত হলে নোটিশ দিয়ে বা পয়েন্ট অব অর্ডারে এ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী

গৃহকর ৯ গুণ বাড়ালে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, সংসদে ক্ষোভ

আপডেট সময় ১১:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক সাংসদ। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে গৃহকর বাড়ানো নিয়ে বক্তব্য দেন তিনজন সাংসদ।

রাজধানীতে গৃহকর বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, গৃহকর হঠাৎ করে নয় গুণ বাড়ানো হলে তা মানুষ গ্রহণ করবে না। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কর বাড়বে, এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক বছর ধরে কর বাড়ায়নি। এখন একসঙ্গে নয় গুণ বাড়ানো হলে মানুষ তা গ্রহণ করবে না। গৃহকর ৮ হাজার টাকা থেকে হঠাৎ করে ৭২ হাজার টাকা হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে। এটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা রাজনীতি করি। রাজনীতির কতগুলো সময় থাকে। সেই বিষয়টি তিন-চার বছর আগে করা যেত, সেটা যদি সরকারের শেষ সময় এসে করে, তাহলে প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আমার পক্ষে সবকিছু বলা সম্ভব নয়।’ এ সময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এ বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার অনুরোধ করেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু বলেন, চট্টগ্রামেও গৃহকর বাড়ানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মহল্লায় মহল্লায় আন্দোলন হচ্ছে। এটি একটি রাজনৈতিক সরকার। এর আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এক বছর পর নির্বাচন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বেশি দাম, বাড়তি কর নিয়ে জনগণের সামনে যেতে হবে। রাজনৈতিক সরকারকে সঠিক রাজনৈতিক বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়গুলো স্পর্শকাতর। নির্বাচনের সময় সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাবলুর বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, নির্বাচনের আগে বা পরে সেটা বিষয় নয়, ১০ বছর পর একবারে ১০ গুণ কর বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। শেখ হাসিনার সরকার জনবান্ধব সরকার। অবশ্যই সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করেন।

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মেয়র, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কর বাড়ান। কিন্তু জনগণকে জবাবদিহি করতে হয় সাংসদদের। আরও দু–এক বছর আগে গৃহকর বাড়ানো হলে সমস্যা হতো না। নির্বাচনের এক বছর আগে গৃহকর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব সরকার আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলের এই সদস্য বলেন, অনতিবিলম্বে গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে আনা দরকার।

বাবলার বক্তব্যের পর স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, গৃহকর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। এটি চূড়ান্ত হলে নোটিশ দিয়ে বা পয়েন্ট অব অর্ডারে এ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে।