ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি, বিদেশি নাগরিকদের লাল কার্ড দেখানো হবে: আসিফ মাহমুদ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হিন্দুদের ‘জামাই আদরে’ রাখবে: কৃষ্ণ নন্দী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে: তারেক রহমান ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত’:আলী রিয়াজ পুরো বাংলাদেশের কাছে মির্জা আব্বাস বাহিনীর হামলার বিচার দিলাম: নাসীরুদ্দীন চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং ইলিয়াস মোল্লাহর জমি–গাড়ি–মার্কেট–ফ্ল্যাট জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ড নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ‘রাজনীতি শুধু ক্রিকেট নয়, গোটা মানবজাতির ক্ষতি করছে’: সাকলাইন মুশতাক

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঘটনাবহুল দিবস ৭ নভেম্বর আজ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনায় কারাগারে বন্দী অবস্থায় নিহত হন জাতীয় চার নেতা। এসব ঘটনার একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন।

পালাবদলের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর অপর এক অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল এ টি এম হায়দারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা।

অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থান, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, উল্লাস আর রক্তপাতের এক ঘটনাবহুল দিবস ৭ নভেম্বর। ঘটনার ৪ দশক পরেও শেষ হয়নি দিবসটিকে ঘিরে প্রশ্ন আর বিতর্কের। দিবসটিকে ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এদেশে সেনাছাউনি থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের ধারাবাহিকতার সূত্রপাত ঘটেছিলো এ ঘটনার মাধ্যমেই। তবে বিএনপি মনে করে, ক্রান্তিলগ্নে সংঘটিত এ অভ্যুত্থান দেশকে দেখিয়েছে আলোর পথ।

কর্নেল তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানে জেনারেল খালেদ মোশাররফের পতনের পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এভাবেই রাস্তায় নেমে আসেন সিপাহী ও জনতা। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রে। ওইদিন ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে জাসদের উদ্যোগে সিপাহী-জনতার সমাবেশে ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও কিছু উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার পরামর্শে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন জিয়া। এতে বাহ্যিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভেতরে ভেতরে সৃষ্টি হয় রক্তপাত আর অবিশ্বাসপূর্ণ এক পরিস্থিতির।

৭ নভেম্বরের পথ ধরেই এদেশে সামরিক শাসনের সূত্রপাত হয়েছিলো বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার স্যার বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থকে যে সামরিক শাসনের সূচনা তার একটি পর্ব হচ্ছে ৭ নভেম্বর।’

বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতার মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক শূন্যতা দূর করে সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘দেশে যে একটি অশনি সংকেত সৃষ্টি হয়েছিল, আমাদের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হচ্ছিল, সে জায়গা থেকে ৭ নভেম্বর আমাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা না থাকলে কেউ ওই ধরণের রাজনীতির ভিতরে কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে না।’

এই বিশ্লেষকের মতে, ৭ই নভেম্বরকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বিপ্লবের যে লক্ষ্য নিয়ে ৭ নভেম্বরের জন্ম, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও হঠকারিতার কারণেই তা শেষমেষ বিতর্কিত হয়ে যায় বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি, বিদেশি নাগরিকদের লাল কার্ড দেখানো হবে: আসিফ মাহমুদ

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঘটনাবহুল দিবস ৭ নভেম্বর আজ

আপডেট সময় ০১:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনায় কারাগারে বন্দী অবস্থায় নিহত হন জাতীয় চার নেতা। এসব ঘটনার একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন।

পালাবদলের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর অপর এক অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল এ টি এম হায়দারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা।

অভ্যূত্থান-পাল্টা অভ্যূত্থান, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, উল্লাস আর রক্তপাতের এক ঘটনাবহুল দিবস ৭ নভেম্বর। ঘটনার ৪ দশক পরেও শেষ হয়নি দিবসটিকে ঘিরে প্রশ্ন আর বিতর্কের। দিবসটিকে ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এদেশে সেনাছাউনি থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের ধারাবাহিকতার সূত্রপাত ঘটেছিলো এ ঘটনার মাধ্যমেই। তবে বিএনপি মনে করে, ক্রান্তিলগ্নে সংঘটিত এ অভ্যুত্থান দেশকে দেখিয়েছে আলোর পথ।

কর্নেল তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানে জেনারেল খালেদ মোশাররফের পতনের পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এভাবেই রাস্তায় নেমে আসেন সিপাহী ও জনতা। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রে। ওইদিন ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে জাসদের উদ্যোগে সিপাহী-জনতার সমাবেশে ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও কিছু উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার পরামর্শে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন জিয়া। এতে বাহ্যিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভেতরে ভেতরে সৃষ্টি হয় রক্তপাত আর অবিশ্বাসপূর্ণ এক পরিস্থিতির।

৭ নভেম্বরের পথ ধরেই এদেশে সামরিক শাসনের সূত্রপাত হয়েছিলো বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার স্যার বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থকে যে সামরিক শাসনের সূচনা তার একটি পর্ব হচ্ছে ৭ নভেম্বর।’

বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতার মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক শূন্যতা দূর করে সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘দেশে যে একটি অশনি সংকেত সৃষ্টি হয়েছিল, আমাদের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হচ্ছিল, সে জায়গা থেকে ৭ নভেম্বর আমাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা না থাকলে কেউ ওই ধরণের রাজনীতির ভিতরে কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে না।’

এই বিশ্লেষকের মতে, ৭ই নভেম্বরকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বিপ্লবের যে লক্ষ্য নিয়ে ৭ নভেম্বরের জন্ম, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও হঠকারিতার কারণেই তা শেষমেষ বিতর্কিত হয়ে যায় বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।