ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর

জালে ২০ মণ ওজনের করাতি মাছ

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

স্থানীয়দের কাছে এটি খটক মাছ। গবেষকেরা বলেন করাতি হাঙর। মুখটি করাতের মতো বলে এর নাম এই। ইংরেজি Saw Fish। বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে বিশাল আকৃতির একটি করাতি বা খটক মাছ ধরা পড়ে ২ নভেম্বর। গতকাল শনিবার বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য আড়তে খটক মাছটি কেটে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

এই খটক মাছ রান্না করে খেলে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ ও যক্ষ্মা ভালো হয়—এমন বিশ্বাসের স্থানীয় লোকজনের। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ কিনতে শরণখোলা মৎস্য আড়তে ছুটে আসেন লোকজন। জেলেদের জালে ধরা পড়া  খটক মাছটির ওজন প্রায় ২০ মণ। লম্বায় প্রায় ২০ ফুট। তবে এ মাছ খেলে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধা দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় হওয়ার বিষয়টিতে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন গবেষক ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

মাছটির বিক্রেতা ব্যবসায়ী কবির হোসেন আড়তদার বলেন, ‘ ২ নভেম্বর খুলনার জেলেদের জালে বিশাল আকৃতির একটি খটক মাছ ধরা পড়ে। ওই মাছ আমি দেড় লাখ টাকায় কিনে নিই। পরে আমি মাছটি শরণখোলায় নিয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তা দেখতে ছুটে আসেন। মাছ শরণখোলা বাজারে আনা হয়েছে—এই সংবাদ মাইকিং করে স্থানীয়দের জানানো হয়।’

কবির হোসেন জানান, মাছটি কেটে বর্জ্য ফেলে দেওয়ার পর প্রায় ১৪ মণ মাছ পাওয়া গেছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় ২২৫ কেজির মতো বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি মাছ বিক্রির জন্য ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আজ রোববারের মধ্যে সব মাছ বিক্রি হয়ে যাবে বলে মনে করছেন কবির হোসেন। শরণখোলা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এই মাছ কিনতে ক্রেতারা এসেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নিয়ামুল নাসের বলেন, দেশে দুই জাতের করাতি হাঙর আছে। এ মাছ হাঙর-জাতীয় রাক্ষুসে মাছ। এটা বিপন্ন একটি প্রজাতি। সমুদ্রের তলদেশে বসবাস করে। তিনি বলেন, এটি খেলে অসুখ সারে— এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। তবে সামনের নাক অনেক দামে বিক্রি হয়। মাছটির যকৃতের তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

শরণখোলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, এ মাছ খেলে ক্যানসার ভালো হয়— এ কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে সামুদ্রিক এ মাছে প্রচুর মিনারেল ও খনিজ লবণ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জালে ২০ মণ ওজনের করাতি মাছ

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

স্থানীয়দের কাছে এটি খটক মাছ। গবেষকেরা বলেন করাতি হাঙর। মুখটি করাতের মতো বলে এর নাম এই। ইংরেজি Saw Fish। বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে বিশাল আকৃতির একটি করাতি বা খটক মাছ ধরা পড়ে ২ নভেম্বর। গতকাল শনিবার বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য আড়তে খটক মাছটি কেটে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

এই খটক মাছ রান্না করে খেলে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ ও যক্ষ্মা ভালো হয়—এমন বিশ্বাসের স্থানীয় লোকজনের। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ কিনতে শরণখোলা মৎস্য আড়তে ছুটে আসেন লোকজন। জেলেদের জালে ধরা পড়া  খটক মাছটির ওজন প্রায় ২০ মণ। লম্বায় প্রায় ২০ ফুট। তবে এ মাছ খেলে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধা দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় হওয়ার বিষয়টিতে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন গবেষক ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

মাছটির বিক্রেতা ব্যবসায়ী কবির হোসেন আড়তদার বলেন, ‘ ২ নভেম্বর খুলনার জেলেদের জালে বিশাল আকৃতির একটি খটক মাছ ধরা পড়ে। ওই মাছ আমি দেড় লাখ টাকায় কিনে নিই। পরে আমি মাছটি শরণখোলায় নিয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তা দেখতে ছুটে আসেন। মাছ শরণখোলা বাজারে আনা হয়েছে—এই সংবাদ মাইকিং করে স্থানীয়দের জানানো হয়।’

কবির হোসেন জানান, মাছটি কেটে বর্জ্য ফেলে দেওয়ার পর প্রায় ১৪ মণ মাছ পাওয়া গেছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় ২২৫ কেজির মতো বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি মাছ বিক্রির জন্য ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আজ রোববারের মধ্যে সব মাছ বিক্রি হয়ে যাবে বলে মনে করছেন কবির হোসেন। শরণখোলা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এই মাছ কিনতে ক্রেতারা এসেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নিয়ামুল নাসের বলেন, দেশে দুই জাতের করাতি হাঙর আছে। এ মাছ হাঙর-জাতীয় রাক্ষুসে মাছ। এটা বিপন্ন একটি প্রজাতি। সমুদ্রের তলদেশে বসবাস করে। তিনি বলেন, এটি খেলে অসুখ সারে— এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। তবে সামনের নাক অনেক দামে বিক্রি হয়। মাছটির যকৃতের তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

শরণখোলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, এ মাছ খেলে ক্যানসার ভালো হয়— এ কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে সামুদ্রিক এ মাছে প্রচুর মিনারেল ও খনিজ লবণ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।