ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ইনানীর রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ যশোরের নাহিদুরসহ তার পরিবারের চারজন

কক্সবাজারের ইনানীতে অবস্থিত পাটোয়ারটেকের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যশোরের মণিরামপুরের বাসিন্দা নাহিদুর রহমানসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। ৪১ বছর বয়সী নাহিদুর রহমান ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬), সাত বছর বয়সী বড় মেয়ে রুজাইনা ইনায়া এবং তিন বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুনাইনা ইহানাকে নিয়ে রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। অবকাশ যাপনের জন্য তারা ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওই রিসোর্টে থাকার জন্য রুম বুকিং দিয়েছিলেন। ছুটি কাটাতে কক্সবাজারের ইনানীতে বেড়াতে এসেছিলেন।

রোববার দুপুরে রিসোর্ট ছেড়ে তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শনিবারের অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তাদের সাথে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও সবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তাদের কোনো হদিস মেলেনি। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স নিখোঁজ ভাই ও তার পরিবারের সন্ধানে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকা তাদের অসুস্থ বাবা এখনো ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানেন না। কিন্তু তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানেন না স্বজনেরা। চারজনের কোনো খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

এদিকে, ওই রিসোর্টের ভয়াবহ আগুনে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে দেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ নাহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে পরিবারের মাঝে তীব্র অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির জানিয়েছেন, মরদেহগুলোর দাবিদার হিসেবে একাধিক পরিবার সামনে এসেছে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাযথভাবে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। আগুনের পর উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও মিলছে না। এরপর বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়েও তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বেঁচে আছেন, নাকি তাদেরও আগুনে প্রাণ গেছে, এমন অনিশ্চয়তা তাদের গ্রাস করেছে। তবে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে ফ্লাইট বন্ধ: শাহজালাল বিমানবন্দরে অস্বাভাবিক নীরবতা

ইনানীর রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ যশোরের নাহিদুরসহ তার পরিবারের চারজন

আপডেট সময় ০২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ইনানীতে অবস্থিত পাটোয়ারটেকের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যশোরের মণিরামপুরের বাসিন্দা নাহিদুর রহমানসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। ৪১ বছর বয়সী নাহিদুর রহমান ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬), সাত বছর বয়সী বড় মেয়ে রুজাইনা ইনায়া এবং তিন বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুনাইনা ইহানাকে নিয়ে রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। অবকাশ যাপনের জন্য তারা ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওই রিসোর্টে থাকার জন্য রুম বুকিং দিয়েছিলেন। ছুটি কাটাতে কক্সবাজারের ইনানীতে বেড়াতে এসেছিলেন।

রোববার দুপুরে রিসোর্ট ছেড়ে তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শনিবারের অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তাদের সাথে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও সবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তাদের কোনো হদিস মেলেনি। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স নিখোঁজ ভাই ও তার পরিবারের সন্ধানে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকা তাদের অসুস্থ বাবা এখনো ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানেন না। কিন্তু তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানেন না স্বজনেরা। চারজনের কোনো খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

এদিকে, ওই রিসোর্টের ভয়াবহ আগুনে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে দেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ নাহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে পরিবারের মাঝে তীব্র অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির জানিয়েছেন, মরদেহগুলোর দাবিদার হিসেবে একাধিক পরিবার সামনে এসেছে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাযথভাবে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। আগুনের পর উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও মিলছে না। এরপর বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়েও তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বেঁচে আছেন, নাকি তাদেরও আগুনে প্রাণ গেছে, এমন অনিশ্চয়তা তাদের গ্রাস করেছে। তবে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে।