ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ইমোজির দুনিয়া: জনপ্রিয়তার শীর্ষে এখন কোনটি?

ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইমোজি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইমোজির মুকুট দখল করেছে চোখ থেকে জল গড়ানো সেই ছোট্ট হলুদ মুখটি। নতুন নতুন প্রতীক প্রতিনিয়ত যোগাযোগের ধরন বদলে দিচ্ছে এবং আমাদের মস্তিষ্কেও এর গভীর প্রভাব পড়ছে। গুগল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ইমোজিটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীকের স্বীকৃতি পেয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত চ্যাটগুলোর দিকে তাকালে এর সত্যতা স্পষ্ট হয়, যেখানে কেবল গত ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি ১৫ বার ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে।

একসময় হাসি-কান্নার মিশ্রণ বা কাত হওয়া ইমোজিগুলো ব্যাপক জনপ্রিয় থাকলেও, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এগুলো এখন পুরোনো বা মান্ধাতা আমলের পর্যায়ে চলে গেছে। আপনি যদি নিজেকে তরুণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, তবে ৩০ বছরের কম বয়সী কাউকে এই পুরোনো ইমোজি পাঠালে তারা উত্তরে হাসতে হাসতে মৃত মাথার খুলির ইমোজি পাঠিয়ে দেবে। এছাড়া দুটি বিয়ারের গ্লাস, চোখ ঢাকা বানর কিংবা সানগ্লাস পরা হাসিমুখের মতো ইমোজিগুলোও জেন-জি প্রজন্মের কাছে এখন প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, যা অনেকটা ডিজিটাল ডাস্টবিনে ফেলার মতো। আপনি কি নিজের বয়স লুকিয়ে তরুণ দেখাতে চান। আপনি যদি জেন-জির সঙ্গে তাল মেলাতে চান, তবে এমন কিছু সৃজনশীল ইমোজি ব্যবহারের মানসিকতা থাকা চাই।

২০২৫-২৬ সালে এসে ইমোজির মূল আকর্ষণ এখন নির্ভর করছে এর মৌলিকত্বের ওপর। তরুণ প্রজন্ম একই আবেগ প্রকাশের জন্য নতুন ধরনের ছবির আশ্রয় নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভাঙা হৃদয়ের প্রতীক এখন জায়গা করে নিয়েছে ঝরে পড়া বা মলিন গোলাপ, আর লাইক বাটনের বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে জোড়হাতের প্রতীক। মোয়াই স্ট্যাচু ইমোজিটির জনপ্রিয়তা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে; ২০২১ সালে ৪৮২তম অবস্থানে থাকা এই ইমোজি এখন ৩৩তম স্থানে উঠে এসেছে। মূলত ভাবলেশহীন মুখভঙ্গির বিকল্প হিসেবেই এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া অ্যাপলের তালিকা অনুযায়ী, চরম ক্লান্তি বা কৌতুকপূর্ণ হতাশা বোঝাতে চোখের নিচে কালচে দাগযুক্ত মুখের ইমোজিটি বেশ জনপ্রিয়। মার্চ মাসে যুক্ত হওয়া বিকৃত মুখ বা যার চোখ দুটি মাথার শেষ প্রান্তে অবস্থান করছে, সেটিও এখন উদ্বেগ বা আতঙ্ক প্রকাশের জন্য দারুণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, ভ্রু কুঁচকানো বা ভাবলেশহীন মুখভঙ্গির বদলেই এখন এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

তবে ইমোজির ব্যবহার যে কেবল ছেলেমানুষি, তা কিন্তু নয়। গবেষকদের মতে, ইমোজি আজ নিজস্ব এক শক্তিশালী ভাষা হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি প্রথমবারের মতো ‘কান্না-হাসি’ ইমোজিকে বছরের সেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যা ভাষাগত পরিবর্তনের বড় মাইলফলক। অবশ্য বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ইমোজি ব্যবহারের হার কিছুটা কম। আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা নতুন ধরনের এই অ-মৌখিক যোগাযোগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে তাঁরা কিছুটা পিছিয়ে থাকেন। তবে যাঁরা এই নতুন মাধ্যমে আগ্রহী, তাদের সহায়তার জন্য ইমোজিপেডিয়া প্ল্যাটফর্ম কাজ করছে।

বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষক ম্যাডেলিন মলি এলি জানাচ্ছেন, ইমোজি মানুষের আসল মুখের অভিব্যক্তির মতো করেই মস্তিষ্ক দ্বারা প্রক্রিয়াজাত হয়। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইমোজি দেখলে মস্তিষ্কে ঠিক একই ধরনের স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া বা নিউরাল রেসপন্স প্যাটার্ন তৈরি হয়, যা ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অর্থপূর্ণ আবেগময় সংকেত হিসেবে কাজ করে। এই ইমোজির ব্যবহার আপনি আনন্দ হিসেবে নিচ্ছেন নাকি বিষাদ, তা আপনার মস্তিষ্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। টিকটকের এক ব্যবহারকারীর কথায়, আমরা যখন সত্যিই কান্নাকাটি করি, সেটা ছাড়া বাকি সব সময়ই এই ইমোজি ব্যবহার করে থাকি। জরিপের কাজে যখন এক সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি আনন্দ প্রকাশ করতে ম্যারাডোনা বা মারাকাস ইমোজি ব্যবহার করার কথা জানান। অদ্ভুত কোনো কারণে কারও সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। মা আবার সবজি খিচুড়ি বানাচ্ছেন, এর বিপরীতে মুহূর্তেই ব্যবহার করা যেতে পারে ক্লান্ত মুখের এই ইমোজি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমোজির দুনিয়া: জনপ্রিয়তার শীর্ষে এখন কোনটি?

আপডেট সময় ১১:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইমোজি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইমোজির মুকুট দখল করেছে চোখ থেকে জল গড়ানো সেই ছোট্ট হলুদ মুখটি। নতুন নতুন প্রতীক প্রতিনিয়ত যোগাযোগের ধরন বদলে দিচ্ছে এবং আমাদের মস্তিষ্কেও এর গভীর প্রভাব পড়ছে। গুগল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ইমোজিটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীকের স্বীকৃতি পেয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত চ্যাটগুলোর দিকে তাকালে এর সত্যতা স্পষ্ট হয়, যেখানে কেবল গত ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি ১৫ বার ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে।

একসময় হাসি-কান্নার মিশ্রণ বা কাত হওয়া ইমোজিগুলো ব্যাপক জনপ্রিয় থাকলেও, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এগুলো এখন পুরোনো বা মান্ধাতা আমলের পর্যায়ে চলে গেছে। আপনি যদি নিজেকে তরুণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, তবে ৩০ বছরের কম বয়সী কাউকে এই পুরোনো ইমোজি পাঠালে তারা উত্তরে হাসতে হাসতে মৃত মাথার খুলির ইমোজি পাঠিয়ে দেবে। এছাড়া দুটি বিয়ারের গ্লাস, চোখ ঢাকা বানর কিংবা সানগ্লাস পরা হাসিমুখের মতো ইমোজিগুলোও জেন-জি প্রজন্মের কাছে এখন প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, যা অনেকটা ডিজিটাল ডাস্টবিনে ফেলার মতো। আপনি কি নিজের বয়স লুকিয়ে তরুণ দেখাতে চান। আপনি যদি জেন-জির সঙ্গে তাল মেলাতে চান, তবে এমন কিছু সৃজনশীল ইমোজি ব্যবহারের মানসিকতা থাকা চাই।

২০২৫-২৬ সালে এসে ইমোজির মূল আকর্ষণ এখন নির্ভর করছে এর মৌলিকত্বের ওপর। তরুণ প্রজন্ম একই আবেগ প্রকাশের জন্য নতুন ধরনের ছবির আশ্রয় নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ভাঙা হৃদয়ের প্রতীক এখন জায়গা করে নিয়েছে ঝরে পড়া বা মলিন গোলাপ, আর লাইক বাটনের বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে জোড়হাতের প্রতীক। মোয়াই স্ট্যাচু ইমোজিটির জনপ্রিয়তা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে; ২০২১ সালে ৪৮২তম অবস্থানে থাকা এই ইমোজি এখন ৩৩তম স্থানে উঠে এসেছে। মূলত ভাবলেশহীন মুখভঙ্গির বিকল্প হিসেবেই এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া অ্যাপলের তালিকা অনুযায়ী, চরম ক্লান্তি বা কৌতুকপূর্ণ হতাশা বোঝাতে চোখের নিচে কালচে দাগযুক্ত মুখের ইমোজিটি বেশ জনপ্রিয়। মার্চ মাসে যুক্ত হওয়া বিকৃত মুখ বা যার চোখ দুটি মাথার শেষ প্রান্তে অবস্থান করছে, সেটিও এখন উদ্বেগ বা আতঙ্ক প্রকাশের জন্য দারুণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, ভ্রু কুঁচকানো বা ভাবলেশহীন মুখভঙ্গির বদলেই এখন এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

তবে ইমোজির ব্যবহার যে কেবল ছেলেমানুষি, তা কিন্তু নয়। গবেষকদের মতে, ইমোজি আজ নিজস্ব এক শক্তিশালী ভাষা হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি প্রথমবারের মতো ‘কান্না-হাসি’ ইমোজিকে বছরের সেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যা ভাষাগত পরিবর্তনের বড় মাইলফলক। অবশ্য বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ইমোজি ব্যবহারের হার কিছুটা কম। আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা নতুন ধরনের এই অ-মৌখিক যোগাযোগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার কারণে তাঁরা কিছুটা পিছিয়ে থাকেন। তবে যাঁরা এই নতুন মাধ্যমে আগ্রহী, তাদের সহায়তার জন্য ইমোজিপেডিয়া প্ল্যাটফর্ম কাজ করছে।

বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষক ম্যাডেলিন মলি এলি জানাচ্ছেন, ইমোজি মানুষের আসল মুখের অভিব্যক্তির মতো করেই মস্তিষ্ক দ্বারা প্রক্রিয়াজাত হয়। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইমোজি দেখলে মস্তিষ্কে ঠিক একই ধরনের স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া বা নিউরাল রেসপন্স প্যাটার্ন তৈরি হয়, যা ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অর্থপূর্ণ আবেগময় সংকেত হিসেবে কাজ করে। এই ইমোজির ব্যবহার আপনি আনন্দ হিসেবে নিচ্ছেন নাকি বিষাদ, তা আপনার মস্তিষ্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। টিকটকের এক ব্যবহারকারীর কথায়, আমরা যখন সত্যিই কান্নাকাটি করি, সেটা ছাড়া বাকি সব সময়ই এই ইমোজি ব্যবহার করে থাকি। জরিপের কাজে যখন এক সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি আনন্দ প্রকাশ করতে ম্যারাডোনা বা মারাকাস ইমোজি ব্যবহার করার কথা জানান। অদ্ভুত কোনো কারণে কারও সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। মা আবার সবজি খিচুড়ি বানাচ্ছেন, এর বিপরীতে মুহূর্তেই ব্যবহার করা যেতে পারে ক্লান্ত মুখের এই ইমোজি।