ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি আমলাদের

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের সাম্প্রতিক অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন দেশটির ১২৪ জন সাবেক আমলা ও কূটনীতিক। এক খোলা চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, কোনো ধরনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। তাঁদের মতে, নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবস্থাপনা—সব বিষয়েই তাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা রয়েছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির নজির হিসেবে সাবেক আমলারা ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁরা দাবি করেন, বিহারের ওই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি এবং ১৯৫১ সালের পর সেখানে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছিল। এর কৃতিত্ব কোনো জাদুকরী পরিবর্তনের নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার ফল। চিঠিতে আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে প্রতিটি প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি, গণনার সময় তাদের হিসাব সংগ্রহ এবং ইভিএম সিলগালা করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে। ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এই নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে রায় দিয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ১৯৮৯ সালে ভোটকেন্দ্র দখলকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সংসদ। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা জানি, কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন। তাঁদের ভাষ্য, কর্মকর্তারা হঠাৎ সাধু হয়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটেনি; বরং নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থায় নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। ইভিএম এজেন্টদের স্বাক্ষরসহ সিলগালা করে নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের যুক্তি, যদি নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হয়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অধীনে কর্মরত হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা এবং বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টদের সম্মিলিতভাবে নীরব থাকতে হবে, যার কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত মেলেনি। অতীতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, অস্ত্রের ভয় কিংবা ভুয়া ভোটদানের মতো যে সহিংস চিত্র দেখা যেত, এখন তা অনেক নিয়ন্ত্রিত। সাবেক এই কর্মকর্তারা বিরোধীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় অতীতে তাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, এখন সেই একই ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা কতটা যৌক্তিক? তাঁরা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতেই হয়তো কেউ কেউ এমন অমূলক বয়ান তৈরি করছেন। অতীতের নির্বাচনী সহিংসতা ও কারচুপির চিত্র তুলে ধরে তাঁরা বলেন, একসময় ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রের ভয় দেখানো, প্রভাবশালীদের লোকজনের দাপট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা ভুয়া ভোট দেয়া এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়ার ঘটনা ছিল সাধারণ। যখন সহিংসতা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।’। নারীদের ভোটদানের হার ছিল রেকর্ডসংখ্যক।

চিঠিটি এমন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এল, যখন ভোটার তালিকা ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে শনিবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ অনেক বিরোধী নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। আমলাদের দাবি, অভিযোগ যদি করতেই হয় তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা জরুরি, নতুবা এই ধরনের প্রচারণা কেবল গণতন্ত্রকে দুর্বলই করবে। ভারতের নাগরিকদের উদ্দেশে লেখা এই চিঠি এমন সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বিরোধীরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৬ অক্টোবর চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি আমলাদের

আপডেট সময় ০৭:০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের সাম্প্রতিক অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন দেশটির ১২৪ জন সাবেক আমলা ও কূটনীতিক। এক খোলা চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, কোনো ধরনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। তাঁদের মতে, নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবস্থাপনা—সব বিষয়েই তাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা রয়েছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির নজির হিসেবে সাবেক আমলারা ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁরা দাবি করেন, বিহারের ওই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি এবং ১৯৫১ সালের পর সেখানে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছিল। এর কৃতিত্ব কোনো জাদুকরী পরিবর্তনের নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার ফল। চিঠিতে আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে প্রতিটি প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি, গণনার সময় তাদের হিসাব সংগ্রহ এবং ইভিএম সিলগালা করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে। ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এই নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে রায় দিয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ১৯৮৯ সালে ভোটকেন্দ্র দখলকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সংসদ। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা জানি, কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন। তাঁদের ভাষ্য, কর্মকর্তারা হঠাৎ সাধু হয়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটেনি; বরং নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থায় নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। ইভিএম এজেন্টদের স্বাক্ষরসহ সিলগালা করে নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের যুক্তি, যদি নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হয়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অধীনে কর্মরত হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা এবং বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টদের সম্মিলিতভাবে নীরব থাকতে হবে, যার কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত মেলেনি। অতীতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, অস্ত্রের ভয় কিংবা ভুয়া ভোটদানের মতো যে সহিংস চিত্র দেখা যেত, এখন তা অনেক নিয়ন্ত্রিত। সাবেক এই কর্মকর্তারা বিরোধীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় অতীতে তাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, এখন সেই একই ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা কতটা যৌক্তিক? তাঁরা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতেই হয়তো কেউ কেউ এমন অমূলক বয়ান তৈরি করছেন। অতীতের নির্বাচনী সহিংসতা ও কারচুপির চিত্র তুলে ধরে তাঁরা বলেন, একসময় ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রের ভয় দেখানো, প্রভাবশালীদের লোকজনের দাপট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা ভুয়া ভোট দেয়া এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়ার ঘটনা ছিল সাধারণ। যখন সহিংসতা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।’। নারীদের ভোটদানের হার ছিল রেকর্ডসংখ্যক।

চিঠিটি এমন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এল, যখন ভোটার তালিকা ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে শনিবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ অনেক বিরোধী নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। আমলাদের দাবি, অভিযোগ যদি করতেই হয় তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা জরুরি, নতুবা এই ধরনের প্রচারণা কেবল গণতন্ত্রকে দুর্বলই করবে। ভারতের নাগরিকদের উদ্দেশে লেখা এই চিঠি এমন সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বিরোধীরা।