ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: ১৩ কোটি নাম বাদ?

ভারতে প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই কার্যক্রম নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এই যাচাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অন্যায্য রাজনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিভিন্ন বিরোধী দল শনিবার নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও সংখ্যালঘু ভোটারদের তুলনামূলকভাবে বেশি বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপি বিরোধী।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, যাচাইয়ের পর ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন এবং প্রায় ৩ কোটি ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, মোদির জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণেই তারা নির্বাচনে আধিপত্য বজায় রেখেছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ আগের ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ডিজিটাল নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়ায় দুই নির্বাচন কমিশনার উদ্বেগ জানিয়ে ১০ মাসে ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। তবে কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তারা কোনো পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে না। ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা। ‘তেলাপোকা’দের ১০ অক্টোবর ‘চলো দিল্লি’ আন্দোলনের ডাক।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যাচাই শুরু হওয়ার পর ১৩ শতাংশ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকা থেকে নির্বিচার নাম বাদ দেওয়া এবং জটিল আপিল প্রক্রিয়ার কারণে লাখ লাখ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা অভিযোগ করেছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা বিজেপি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও গণতন্ত্র দুর্বল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছে। এসব জনগোষ্ঠীর ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম। বিরোধীরা আরও বলছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলেও কোটি কোটি ভোটার বাদ পড়ার প্রভাব পড়েছে। বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈধ নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

আগামী বছর ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর প্রদেশের মতো জনবহুল রাজ্যে ভোটার তালিকার এই সংশোধনকে জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বোঝার প্রধান সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই পদ্ধতিকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

এর আগে জুলাই মাসে কয়েক সপ্তাহের তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করেছিল সিজেপি। বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ নতুন করে জমা দিতে হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধীদের মতে, বিষয়টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এর আগে গত জুলাইয়ে কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল সিজেপি।

ভারত জুড়ে এই কার্যক্রমটি নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার মাঝে তারা নিয়ম মেনেই কাজ করছে, যদিও বিরোধীরা এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করে আসছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: ১৩ কোটি নাম বাদ?

আপডেট সময় ০৮:৫০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই কার্যক্রম নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এই যাচাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অন্যায্য রাজনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিভিন্ন বিরোধী দল শনিবার নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও সংখ্যালঘু ভোটারদের তুলনামূলকভাবে বেশি বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপি বিরোধী।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, যাচাইয়ের পর ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন এবং প্রায় ৩ কোটি ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, মোদির জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণেই তারা নির্বাচনে আধিপত্য বজায় রেখেছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ আগের ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ডিজিটাল নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়ায় দুই নির্বাচন কমিশনার উদ্বেগ জানিয়ে ১০ মাসে ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। তবে কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তারা কোনো পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে না। ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা। ‘তেলাপোকা’দের ১০ অক্টোবর ‘চলো দিল্লি’ আন্দোলনের ডাক।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যাচাই শুরু হওয়ার পর ১৩ শতাংশ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকা থেকে নির্বিচার নাম বাদ দেওয়া এবং জটিল আপিল প্রক্রিয়ার কারণে লাখ লাখ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা অভিযোগ করেছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা বিজেপি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও গণতন্ত্র দুর্বল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছে। এসব জনগোষ্ঠীর ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম। বিরোধীরা আরও বলছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলেও কোটি কোটি ভোটার বাদ পড়ার প্রভাব পড়েছে। বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈধ নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

আগামী বছর ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর প্রদেশের মতো জনবহুল রাজ্যে ভোটার তালিকার এই সংশোধনকে জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বোঝার প্রধান সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই পদ্ধতিকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

এর আগে জুলাই মাসে কয়েক সপ্তাহের তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করেছিল সিজেপি। বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ নতুন করে জমা দিতে হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধীদের মতে, বিষয়টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এর আগে গত জুলাইয়ে কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল সিজেপি।

ভারত জুড়ে এই কার্যক্রমটি নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার মাঝে তারা নিয়ম মেনেই কাজ করছে, যদিও বিরোধীরা এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করে আসছে।